লেখা ও আঁকা : ইসরাত জাহান
প্রকাশ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৩:৪২ পিএম
আঁকা : ইসরাত জাহান
‘আরহাম তুমি কি প্রস্তুত?’
আরহাম সাহস নিয়ে জানাল যে সে প্রস্তুত। আজ আরহামের প্রথম মহাকাশ-যাত্রা। সে নভোচারীদের জন্য নতুন একটা পথ উন্মোচন করতে যাচ্ছে। তার ওপর রয়েছে একটা বিরাট দায়িত্ব, যা এই পৃথিবীর প্রতিটি নভোচারীর জীবন রক্ষা করতে পারে। আরহাম এই কাজের জন্য ছোট থেকে অ্যারোস্পেস নিয়ে পড়াশোনা করছে। তার জীবনের স্বপ্ন, তার ভাইয়ের মতো অকালমৃত্যুর হাত থেকে প্রতিটি নভোচারীকে রক্ষা করা।
আরহাম নভোচারী স্যুট পরে মহাকাশযানে উঠল। মহাকাশের ওজনহীনতাকে মোকাবিলার জন্য মেঝের সঙ্গে সে তার হাত ও পা আটকে নিল। তার সহযোগী লুনাও তাই করল। তাদের সঙ্গে আরেকজন আছে। একটা AI Robot, মেরি। তার মধ্যে মহাকাশ সম্পর্কে সব সিস্টেম লোড করা হয়েছে।
তাদের মহাকাশযান চলতে শুরু করল। ২৭০০০-২৮০০০ কিমি/ঘণ্টা বেগে চলছে। আরহাম আর লুনার কাছে সবকিছু যেন অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে। তারা বাইরে দেখল। কী চমৎকার দৃশ্য! হঠাৎ তারা প্রবল টান অনুভব করল। তারা বুঝতে পারল অভিকর্ষ বলের টান এটা। অভিকর্ষ বলের এই কষ্ট প্রতিটি নভোচারীকেই সহ্য করতে হয়। প্রায় ১ মিনিট পর সব স্বাভাবিক হলো। আরহাম তখনই মনিটরে তাকাল। মি. কলিংসের বার্তা। তিনি লিখেছেন, ‘আরহাম, আমরা শেষবারের মতো টরেটোদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের প্রস্তাব দিয়েছি। তারা রাজি হয়নি। তারা তাদের গ্রহ অলিভ স্থানান্তর করবে না। এখন অলিভ ধ্বংস করতেই হবে। পৃথিবীর মানুষের জন্য।’
টোরেটো অলিভ গ্রিন রঙের দুই পা-বিশিষ্ট মানুষের মতো প্রাণী। তাদের গ্রহ থেকে একটা ক্ষতিকর রেডিয়েশন বিমুক্ত হয়। যা নভোচারীদের জন্য মারাত্মক। যখনই কোনো মহাকাশযান অলিভের ১০ মিটার সীমানায় প্রবেশ করে তখনই নভোচারীদের শ্বাসকষ্ট হয় এবং একপর্যায়ে মৃত্যু হয় নভোচারীদের। তিন বছর আগে আরহামের ভাই এই রেডিয়েশনের শিকার হয়। তাই আরহাম আজ বাধ্য হয়ে এই গ্রহ ধ্বংস করতে চলেছে। তাদের সামনে এখন একটা বড় কাজ। তাদের তৈরি করতে হবে smog ball, যা অলিভে ট্রান্সফরমারের সাহায্যে নিক্ষেপ করা হবে। এই বল তৈরির জন্যই মেরির সাহায্য প্রয়োজন।
মি. কলিংস এদিকে খুব চিন্তিত। আরহাম যদি ১১ মি. সীমানার মধ্য থেকে বলটি নিক্ষেপ করে তবে দুর্ঘটনাবশত তাদের মহাকাশযান ১০ মি. সীমানায় চলে যেতে পারে। আর তা হলেই সব শেষ। আরহাম এ বিষয় জানে। কিন্তু তা নিয়ে ভাবার সময় নেই।
তাদের বলটি তৈরি করতে সময় লাগল দুই মাস, যা পৃথিবীর সময়ে অনেক। এইবার মি. কলিংস আরহামকে নির্দেশ দিল। আরহাম অলিভের ১১ মি. দূরত্ব থেকে বলটি নিক্ষেপ করল। সঙ্গে সঙ্গে মহাকাশযানে অ্যালার্ম বেজে উঠল। পরক্ষণেই সব অন্ধকার হয়ে গেল।
২০২৬ সাল
‘আরহাম ঘুম থেকে ওঠো। স্কুল যেতে হবে।’
মায়ের ডাকে আরহামের ঘুম ভাঙল। এতক্ষণ কী সব স্বপ্ন ছিল? নিশ্চিত হতে সে মায়ের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘মা, আজ কত তারিখ?’
মিস আনিয়া বললেন, ‘কেন? ৫ ফেব্রুয়ারি, তোমার বাবার জন্মদিন।’ আরহাম আর অপেক্ষা না করে বাবার কাছে দৌড়ে গিয়ে বলল, ‘হ্যাপি বার্থডে বাবা।’ মি. আমজাদ ছেলের মাথায় হাত দিয়ে আদর করে বললেন, ‘ধন্যবাদ আরহাম’।
একটা চমৎকার রৌদ্রোজ্জ্বল দিনে আরহাম নাশতা শেষ করে বাবার সঙ্গে স্কুল রওনা হলো। সে স্বপ্নটির কথা ভেবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হলো, একদিন নিশ্চয়ই সে নভোচারী হবে। ঠিক তার বড় ভাই আহানের মতো, যে মহাকাশযান দুর্ঘটনায় মারা গেছে। সেই স্বপ্নের আলোই ছোট আরহাম পথ চলতে শুরু করল!
দশম শ্রেণি, সরকারি প্রমথনাথ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, রাজশাহী