লাবিবা ইরম
প্রকাশ : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৩:২৬ পিএম
শীতকাল এলেই একটু উষ্ণতার জন্য আমরা সোয়েটার, চাদর, শাল, কম্বল এসবে নিজেদের জড়িয়ে নিই। বেশ ঠান্ডায় এগুলো আমাদের শরীরের উষ্ণতা বজায় রাখার পাশাপাশি বেশ আরামের অনুভূতি দেয়। এখন প্রশ্ন হলো আমাদের ব্যবহৃত এসব উষ্ণতার উপাদানগুলো কি শীতকালে ধোয়া উচিত? ধুলে কতবার আর কীভাবে? চলুন আজ জেনে নিই এসব বিষয়ে।
আমরা শীতে কম ঘামি, কিন্তু সোয়েটার, চাদর এসব অনেক সময় ধরে ব্যবহার করলে তাতে ময়লা, ত্বকের তেল, মৃত চামড়ার কণা, ধুলা, ব্যাকটেরিয়া ও অ্যালোর্জেন জমতে পারে। আর যদি এগুলো দীর্ঘ সময় আলমারিতে রাখা থাকে, তবে ভ্যাপসা বা ভেজা গন্ধও তৈরি হতে পারে, জমতে পারে ফাঙ্গাস। তাই এগুলোকে পরিষ্কার রাখা স্বাস্থ্য ও আরামের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
কয়বার ধোয়া উচিত
শীত আসার আগেই শীতে ব্যবহার করার জন্য কম্বল, সোয়েটার, চাদর, শাল ইত্যাদি ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে নিতে হবে। সাধারণত প্রতিটি জিনিসের লেবেলে সেটি ধোয়ার নির্দেশনা দেওয়া থাকে, সেটি অনুযায়ী ধুলে সবচেয়ে ভালো হয়। এতে জিনিসগুলোর ড্যামেজ হবে না এবং দীর্ঘদিন ভালো থাকবে। কিছু কিছু ম্যাটেরিয়াল রোদে দেওয়া যায়, রোদে দিলে ব্যাকটেরিয়া ও মাইক্রো ফাঙ্গাসের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। কিছু ম্যাটেরিয়াল আছে যা শুধু ড্রাই ওয়াশ করা যায়, সেক্ষেত্রে ড্রাই ওয়াশ করে এমন অভিজ্ঞ লন্ড্রিতে দিলেই সবচেয়ে ভালো হয়।
শীতের মধ্যে কীভাবে ধুতে হবে
শীতে এগুলো ব্যবহার করার ফাঁকে ফাঁকে ধুয়ে নেওয়া ভালো। তবে যেহেতু শীতকালে শুকাতে দেরি হয় এবং এগুলো অনেক বেশি মোটা হওয়ায় শুকাতে আরও বেশি সময় লাগে সেক্ষেত্রে প্রতিদিন ধোয়া সম্ভব নয় আর প্রয়োজনও নেই। প্রতিদিন ব্যবহার করলে সেগুলো ২-৩ সপ্তাহ পর পর ধোয়া যেতে পারে। মাঝে মাঝে ব্যবহার করলে আরও দীর্ঘ সময় স্টে করা যায়, তবে মাসে অন্তত একবার পরিষ্কার করাই ভালো।
কীভাবে ধোয়া উচিত?
শীতের কাপড় বা ম্যাটেরিয়ালগুলো বেশ সেন্সিটিভ হয়। তাই ধোয়ার সময় খুব যত্নে পরিষ্কার করতে হয়, তা না হলেÑ
খুব সহজেই কাপড়ের ফাইবার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, রঙ ও টেক্সচার নষ্ট হতে পারে, বুনন নষ্ট হতে পারে, স্থায়ীত্ব কমে যেতে পারে। তাই সঠিকভাবে ধুতে গেলে যে জিনিসগুলো অবশ্যই খেয়াল করতে হবেÑ
প্রতিটি কাপড়ের সঙ্গে থাকা লেবেলের নির্দেশনা অনুযায়ী কাপড় ওয়াশ করুন, খুব গরম পানি ব্যবহার করবেন না, সাধারণত অনেক বেশি গরম পানি উল, ভেলভেটসহ বেশিরভাগ সেন্সিটিভ কাপড়ের ক্ষতি করে। অনেক সময় এগুলোর টেক্সচার ও ফাইবার দুটোই নষ্ট করে দেয়। তাই সরাসরি গরম পানি ব্যবহার না করে উষ্ণ গরম পানি ব্যবহার করুন।
কড়া কেমিক্যাল ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন : সোয়েটার, চাদর, শাল, কম্বল, কম্ফোর্টার ইত্যাদি পরিষ্কার করার ক্ষেত্রে খুব কড়া কেমিক্যালযুক্ত ডিটারজেন্ট বা ফ্যাব্রিক সফটনার প্রয়োজন নেই। বরং এগুলো ক্ষতি করতে পারে। তাই মাইল্ড ডিটারজেন্ট ব্যবহার করুন।
রোদে শুকোতে দিন : রোদে কিছুক্ষণ চাদর/কুইল্ট ঝুলিয়ে রাখলে ভ্যাপসা গন্ধ ও ব্যাকটেরিয়া কমে যায়।
বেকিং সোডা বা ভিনেগার স্প্রে : হালকা দুর্গন্ধ হলে কমাতে বেকিং সোডা ছিটিয়ে বা হালকা ভিনেগার স্প্রে করে শুকিয়ে নিতে পারেন।
ক্যামফর বা এসেনশিয়াল অয়েল ব্যবহার : কিছু ক্যামফর বা বেসিলিক/ট্রি-টি অয়েল এ ধরনের এসেনসিয়াল অয়েলে ব্যবহারে গন্ধ কমে যায়
শীতে এগুলো না ধোয়ার ঝুঁকি : কাপড় যদি নিয়মিত সঠিকভাবে পরিষ্কার না করা হয়, তাহলে এর ফলে অ্যালার্জি, অ্যাজমা বা শ্বাসের সমস্যা হতে পারে ধুলাবালি ও ব্যাকটেরিয়া জমার কারণে গন্ধ ও ভ্যাপসা বৃদ্ধি পায়, চামড়া বা ত্বকের সমস্যা দেখা দিতে পারে।