তাছলিম সিদ্দিকী
প্রকাশ : ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:১২ পিএম
আজকের দিনে ওয়াইফাই আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাড়ির দরজা খুলতেই ফোন চুপি চুপি নেটওয়ার্ক খুঁজে নেয়। ওয়াইফাইয়ের মাধ্যমে অনেক সময় অনেক অজানা তথ্য ফাঁস হয়ে যেতে পারে। এই ধরুন ‘রহিমের বাসা’, ‘আম্মুর ওয়াইফাই’, ‘ফ্ল্যাট ৭এ’, ‘শাহবাগ ২০১’ কিংবা ‘বাবার নামে’Ñ এমন নাম রাখার মাধ্যমে অনেকে নিজের পরিবার, ঠিকানা, এমনকি জীবনের ছোট ছোট গল্প সবার সামনে তুলে ধরছেন নিজের অজান্তেই।
ওয়াইফাইয়ের এই নামকে বলা হয় এসএসআইডি। আপনার ফোন বা ল্যাপটপ যখন চারপাশের নেটওয়ার্ক খোঁজে, তখন সে প্রতি কয়েক সেকেন্ডে শত শতবার সেই নামগুলো চিৎকার করে বলে। আর কাছাকাছি যে কেউ তা হ্যাকার হোক বা সাধারণ কৌতূহলী মানুষ, সেই তথ্য সহজেই ধরে ফেলতে পারে। গবেষণা বলছে, প্রতিদিন লাখ লাখ ডিভাইস এভাবে ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস করে দিচ্ছে। একই নামের ওয়াইফাই যদি শহরের বিভিন্ন প্রান্তে দেখা যায়, তাহলে খুব সহজেই অনুমান করা যায় কোন ব্যক্তি কোন এলাকায় ঘুরছেন বা কোথায় বাস করেন।
অনেকে ভাবেন নাম লুকিয়ে রাখলেই নিরাপদ। কিন্তু সত্যটা ভিন্ন। লুকানো নামও ফোন থেকে বারবার প্রকাশিত হয়। আর হ্যাকাররা সেই সুযোগ নেয়। আর পাবলিক জায়গায় ‘ইভিল টুইন’ আক্রমণের মাধ্যমে একই নামের নকল নেটওয়ার্ক তৈরি করে পাসওয়ার্ড, ব্যাংকের তথ্য, ব্যক্তিগত ছবি থেকে শুরু করে সবকিছু সহজে চুরি করা যায়। আবার ডিফল্ট নাম রেখে দিলে রাউটারের মডেল ও দুর্বলতা সহজেই জেনে নিতে পারে তারা।
তবে কি এর থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে না? অবশ্যই! এই ঝুঁকি থেকে বাঁচতে খুব বেশি কষ্ট করতে হয় না। শুধু কয়েকটি সহজ অভ্যাসই যথেষ্ট। প্রথমত, ডিফল্ট নাম অবশ্যই বদলে ফেলুন। ব্যক্তিগত কোনো তথ্য ছাড়া সুন্দর, সাধারণ কিন্তু অনন্য নাম বেছে নিন, যেমন ‘নীল পাহাড় ৭৭’, ‘সকালের রোদ’, ‘আকাশের ছোঁয়া’। দ্বিতীয়ত, শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন এবং WPA3 এনক্রিপশন চালু রাখুন। তৃতীয়ত, ফোনে অটো-কানেক্ট বন্ধ করে দিনÑ যাতে অচেনা নেটওয়ার্কে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত না হয়। চতুর্থত, পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার করলে ভিপিএন চালু রাখুন। পঞ্চমত, পুরনো নেটওয়ার্কের নাম ফোন থেকে মুছে ফেলুন।
এই ছোট ছোট পদক্ষেপ আপনার গোপনীয়তাকে মজবুত ঢালে পরিণত করবে। ওয়াইফাইয়ের নাম শুধু একটা সংযোগের নাম নয়, এটি আপনার জীবনের একটা অংশ। সেই অংশকে সুরক্ষিত রাখলে নির্ভয়ে ইন্টারনেটের আনন্দ উপভোগ করা যায়। কারণ হ্যাকাররা সবসময়ই সুযোগের অপেক্ষায় থাকে, আর সব ক্ষেত্রে সচেতনতাই তাদের সবচেয়ে বড় শত্রু।