রবিউল কমল
প্রকাশ : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৩:০৪ পিএম
অলংকরণ : মিথিলা ভৌমিক, দশম শ্রেণি, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা
ব্যালকনিতে বসে আছে আরিয়া। আকাশের দিকে তাকিয়ে মেঘ দেখছে। মেঘ ভালো লাগে ওর। কালো মেঘ, সাদা মেঘ, ছোট মেঘ, বড় মেঘ, হাতি মেঘ, ঘোড়া মেঘ। কত রকম মেঘ ভেসে বেড়াচ্ছে। আচ্ছা, এই মেঘেরা কোথা যায়, ওদের বাড়ি কোথায়, ওরা কোথায় থাকে, মাথায় হাজার প্রশ্ন আসে আরিয়ার। ইশশ, গুগল মামা থাকলে ভালো হতো। ঠিকই উত্তর বলে দিতেন।
এই একজনকে আরিয়ার ভালো লাগে। সব কথা মনোযোগ দিয়ে শোনে। তারপর উত্তর দেয়। মামা অনেক কিছু জানে। জ্ঞানী মানুষ। বাবা তাই মজা করে ডাকেন গুগল। আর আরিয়া ডাকে গুগল মামা। ও অবশ্য জানে না, গুগল মানে কী, তবে শুনেছে গুগল অনেক জ্ঞানী। কিছু জানতে চাইলে সঙ্গে সঙ্গে বলে দেয়। আরিয়ার মামাও গুগলের মতো। প্রশ্ন করলে সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দেয়।
ব্যালকনিতে বসে এসব ভাবছিল আরিয়া। তখন কেউ নাম ধরে ডাকল! চমকে যায় আরিয়া! এভাবে তো গুগল মামা ডাকে। ও পেছনে তাকায়। হ্যাঁ, ঠিক তাই! গুগল মামা দাঁড়িয়ে আছে। ঘাড়ে ব্যাগ, চোখে কালো চশমা।
‘আমার পরী মা এখানে বসে কী করছ।’
‘মেঘ দেখছি গুগল মামা।’
মামা ওকে পরী মা বলে ডাকে।
আরিয়া জানতে চাইল, ‘আচ্ছা মামা, মেঘের বাড়ি কোথায়, ওরা উড়ে কোথায় যায়।’
‘এই আকাশটাই ওদের বাড়ি। ওরা উড়তে উড়তে অনেক জায়গা ঘুরে। তারপর বৃষ্টি হয়ে পুকুর, নদী ও সাগরে মিশে যায়।’
‘তাই আবার হয় নাকি! মেঘ কীভাবে বৃষ্টি হবে’Ñ চোখ বড় বড় করে জানতে চাইল আরিয়া।
‘অবশ্যই হয় পরী মা। পানি থেকে মেঘ হয়। সেই মেঘ বৃষ্টি হয়ে আবার পানি হয়,’ ব্যাগটা চেয়ারে রাখতে রাখতে বলল মামা।
আরিয়া নাছোড়বান্দা। মাথার ভেতর একটা কিছু ঢুকলেই হলো, সেটা জানতেই হবে। মেঘ নাকি বৃষ্টি হয়! এমন অদ্ভুত কথা সে মানতে নারাজ।
আরিয়া বলে, ‘তা বেশ! একটু বুঝিয়ে বলো দেখি।’
মামা বলল, ‘আমি তোমাকে ছোট করেই বলি। রোদের তাপে পুকুর, নদী, সাগরের পানিকণা ওপরে ওঠে। এটাকে বলে বাষ্প হওয়া। সেই পানির কণা বাতাসে ভাসতে থাকে। তারপর আরও কণার সঙ্গে দেখা হয়। এভাবে অনেক কণা মিলে ছোট্ট ছোট্ট মেঘ হয়। এই ছোট্ট মেঘগুলো ভাসতে ভাসতে ছড়িয়ে পড়ে। দেখা হয় আরও মেঘের সঙ্গে। তারপর অনেকগুলো ছোট্ট মেঘ মিলে বড় মেঘ হয়। বড় মেঘের ভেতরে পানি জমে ভারী হয়ে যায়। তখই বাতাস লেগে বড় মেঘ বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়ে।’
আরিয়া অবাক হয়ে শুনছিল। ও খুশি হয়ে বলল, ‘গুগল মামা, তুমি এতকিছু কীভাবে জানো।’
মামা বলে, ‘বই পড়ে জানি। তুমিও বই পড়বে। তাহলে অনেক কিছু জানতে পারবে।’
আরিয়া মাথা নাড়িয়ে বলল, ‘হ্যাঁ, আমি অনেক অনেক বই পড়ব।’
তারপর কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে। মামাও কথা বলে না। তবে মামা জানে, আরিয়া কেন চুপচাপ। এখনই কথা বলবে। কী বলবে তাও মামা জানে। কী উপহার এনেছে সেটাই জানতে চাইবে।
‘গুগল মামা, একটা কথা বলব।’
‘হু, বলো।’
‘তুমি রাগ করবে নাতো।’
‘আমি কি পরী মায়ের সঙ্গে রাগ করতে পারি।’
‘আমাকে এক হাজার টাকা দেবে,’ এই বলে অন্যদিকে তাকায় আরিয়া।
মামা অবাক হলো। ছোট্ট আরিয়া এক হাজার টাকা কী করবে! মামা বলে, ‘পরী মা, তুমি ছোট মানুষ। টাকা দিয়ে কী করবে, তোমার কী লাগব বলো, আমি কিনে দেব।’
‘না, গুগল মামা, আমার কিছু লাগবে না,’ বলে আরিয়া।
মামা জানতে চায়, ‘তাহলে তুমি টাকা দিয়ে কী করবে পরী মা।’
আরিয়া বলে, ‘আমি নেব না। জামিলা খালাকে দেব। উনি আমাদের বাসায় কাজ করেন। জানো মামা, খালার মেয়েটা আমার চেয়ে ছোট। প্রতিদিন আমাদের বাসায় আসত। কয়েক দিন ধরে আসে না। জ্বর হয়েছে। ডাক্তার দেখাতে পারছে না। অথচ দেখো, কিছু বলেও না। তাই আমি ওনাকে এই টাকাটা দিতে চাই। যেন পরীকে ডাক্তার দেখাতে পারে। তুমি তো আমাকে পরী বলে ডাক। আর ওই মেয়েটার নাম পরী।’
আরিয়ার কথাগুলো শুনছিল মামা। খুশিতে তার চোখে পানি চলে এলো। গুগল মামা বলল, ‘বাহ! আমার পরী মা তো বড় হয়ে গেছে। কত কিছু ভাবতে শিখেছে।। আমি তোমাকে এক হাজার না, তিন হাজার টাকা দেব।’
আরিয়া চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে। কোনো কথা বলে না। গুগল মামা বলে, ‘কিছু বলছ না কেন।’
আরিয়া মামার কাছে এসে বলে, ‘গুগল মামা, তোমাকে একটু জড়িয়ে ধরি।’
‘জড়িয়ে ধরবে কেন’Ñ জানতে চাইল মামা।
আরিয়া বলল, ‘পরীর জন্য সকাল থেকে মন খারাপ ছিল। এখন ভালো লাগছে। তাই তোমাকে জড়িয়ে ধরব।’