লেখা ও আঁকা : সাদিয়া জাহান
প্রকাশ : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:৪৯ পিএম
লেখা ও আঁকা : সাদিয়া জাহান
গত কয়েক সপ্তাহ আগে এক শুক্রবারে আমরা পরিবারের সবাই মিলে বাসা থেকে একটু দূরে এক পার্কে ঘুরতে গিয়েছিলাম। এর আগে এই পার্কে কখনও যাইনি। নতুন জায়গায় বেড়াতে আমার বেশ ভালোই লাগে। তবে এই পার্কটা আমার কাছে ভীষণ ভালো লেগেছে। অনেক বেশি সবুজে ঘেরা। বুক ভরে নিঃশ্বাস নেওয়া যায়।
এই পার্কে আমাদের মতো শিশুদের খেলার জন্য অনেক খেলনা আছে। বড়দের যোগব্যায়ামের জন্য অনেক কিছু আছে। তো সেই রাইডারগুলোয় আমি ও আমার ছোট ভাই অনেক আনন্দ করেছি। দূর থেকে আম্মু বসে কুশি কাটার কাজ করছিল আর আমাদের খুশি দেখে সেও হাসছিল।
এদিকে বাবা খাবারের দোকান থেকে আমাদের সবাইকে খাবার কিনে দেয়। পার্কের ভেতরে ছোট ছোট অনেক খাবারের দোকান আছে। সেইগুলো অনেক সুন্দর রঙ করে সাজানো হয়েছে। আমি খেতে খেতে দোকানের ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত পেইন্টিংগুলো দেখছি। হঠাৎ দোকানের নিচের দিকে নামতেই দেখি পেইন্টিংগুলো বেশ নোংরা। মনে হচ্ছে, কেউ পান খেয়ে তাতে পানের পিক ফেলেছে। ইশ কেমন করে এত সুন্দর জায়গাটা মানুষ নষ্ট করে!
তো ইতোমধ্যে আমাদের খাবার শেষ। আমরা খাবার খেয়ে প্যাকেটগুলো ডাস্টবিনে ফেলতে যাব, কিন্তু যা দেখলাম তাতে হতবাক হয়ে গেলাম। ডাস্টবিন তো ঠিকই রয়েছে কিন্তু ময়লা ভেতরে না ফেলে সবাই বাইরেই বেশি ফেলেছে। আরও কষ্ট লাগল সেই ময়লার নিচে সুন্দর সুন্দর ফুলগাছ চাপা পড়েছে। কী বলার আছে!
ডাস্টবিনে ময়লা ফেলার পর যখন চলে আসছি, তখন পার্কটাকে আর আগের মতো সুন্দর লাগছিল না। কেন জানি মনে হচ্ছিল পার্কের গাছ, পার্কের রাস্তা, পার্কের ফুলগাছগুলো আমাদের ফিস ফিস করে বলছে ‘ইশ তোমরা মানুষরা কেন আমাদেরকে ভালোবাসতে জানো না! কেন আমাদেরকে পুরো ডাস্টবিনে পরিণত করছ? আমরা তো তোমাদের এই পার্ককে আরও ফুল, ফল, আরও রঙবেরঙের পাতা দিয়ে সাজিয়ে রাখতে চাই। আমাদেরকে প্লিজ নোংরা করো না।’
পঞ্চম শ্রেণি, সিভিল এভিয়েশন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, তেজগাঁও , ঢাকা