সুমন্ত গুপ্ত
প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫:১২ পিএম
আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫:৪১ পিএম
জান্নাতুল ফেরদৌস নামে পরিচিত মসজিদ ‘মসজিদুল আউলিয়া খাজা শাহ্ মোজাম্মেল হক (রহ.)
টিকটিক করে ঘড়ির কাঁটা চলছে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে। আমরা এগিয়ে চলছি নতুন গন্তব্য পানে। সঙ্গে আছেন আমার ভাই সব্যসাচী গুপ্ত আর সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রণব স্যার। এগিয়ে চলছি চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গলের পানে। যাচ্ছি শ্রীমঙ্গল শহর থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার দুরবর্তী বালিশিরা পাহাড়ের মোহাজিরাবাদ এলাকায় নির্মিত জান্নাতুল ফেরদৌস মসজিদ দেখতে। লালাবাজার, তাজপুর, শেরপুর পাড়ি দিয়ে আমরা এগিয়ে চলছি। দেখতে দেখতে আমরা এসে পৌঁছলাম গ্র্যান্ড সুলতান রিসোর্টের সামনে। গ্র্যান্ড সুলতান রিসোর্টের বিপরীত পাশের রাস্তা দিয়ে এগিয়ে যেতে থাকলাম। অল্প কিছু সময়ের মধ্যে আমরা এসে পৌঁছলাম জান্নাতুল ফেরদৌসের সদর দরজায়। প্রবেশদ্বার পেরিয়ে নাম অন্তর্ভুক্তির পর আমরা এগিয়ে গেলাম সম্মুখ পানে। শান্ত, নিরিবিলি পরিবেশ, নেই কোনো কোলাহল। দূর থেকে দেখা পেলাম শতাধিক সিঁড়ি। চারদিকে সবুজ পাহাড়ঘেরা নৈসর্গিক পরিবেশ। রয়েছে আবার সারি সারি চা বাগান।

আমরা গুনে গুনে ১৫০ সিঁড়ি পাড়ি দিয়ে পৌঁছলাম মসজিদে। প্রণব স্যার বললেন, জান্নাতুল ফেরদৌস নামে পরিচিত মসজিদটির নাম ‘মসজিদুল আউলিয়া খাজা শাহ্ মোজাম্মেল হক (রহ.)। ‘মসজিদটি নিয়ে মানুষের আকর্ষণের অন্যতম কারণ হচ্ছে এর স্থাপত্যশৈলী আর অবস্থান। প্রায় ১৯ বিঘা জমির ওপর নির্মিত হয় জান্নাতুল ফেরদৌস মসজিদটি। সমতল থেকে প্রায় ৭০-৮০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত মসজিদটি। চারপাশে দেখা পেলাম নানা রকমের গাছগাছালি। আছে লেবু ও আনারস বাগান। সবুজের সমারোহ চমৎকার পরিবেশ তৈরি হয়েছে মসজিদ ঘিরে। চারদিকে ঝিঁঝি পোকার ডাক আর নাম না-জানা পাখিদের কিচিরমিচির এক অন্যরকম পরিবেশের তৈরি করেছে। দেখা পেলাম ওই এলাকার বাসিন্দা রইস সাহেবের সঙ্গে। তিনি বললেন, খাজা শাহ্ মোজাম্মেল হক (রহ.) ফাউন্ডেশন দ্বারা পরিচালিত এই মসজিদটিতে প্রায় ৮০০ লোক একসঙ্গে জামাতে নামাজ আদায় করতে পারে। মসজিদের সৌন্দর্যবর্ধনে এর চারপাশে লাগানো হয়েছে নানা জাতের ফুলগাছ। এর গঠনশৈলীও চমৎকার। তুর্কি স্থাপত্যের আদলে নির্মিত মসজিদটির ভেতরে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন এক ঝাড়বাতি, যা আনা হয় সুদূর চীন থেকে। দর্শনীয় এই মসজিদটি নির্মাণ করেন খাজা টিপু সুলতান। টিপু সুলতান ছিলেন খাজা শাহ্ মোজাম্মেল হক (রহ.)-এর সাহেবজাদা। মসজিদটির প্রাঙ্গণে আছে দুটি গেস্টহাউস এবং একটি চিকিৎসাকেন্দ্র। এই চিকিৎসাকেন্দ্রে সপ্তাহের ছয় দিন গরিব মানুষদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হয়। এ ছাড়া এখানে আছে একটা হেলিপ্যাডও।
কীভাবে যাবেন
গ্র্যান্ড সুলতান রিসোর্টের বিপরীত পাশের রাস্তা দিয়ে আসতে হয় এখানে। সড়কটি জেরিন চা বাগানের পাশে। গ্র্যান্ড সুলতানের সামনে থেকে গেলে ভাড়া কিছু কম পড়বে।