ফারুক নওয়াজ
প্রকাশ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:৩৯ এএম
অলংকরণ : জয়ন্ত সরকার
শীত এসে গেছে উত্তুরে হাওয়া মেলেছে হিমেল ডানা
রাতের শিশিরে ভিজে জবজব সবুজ শস্যদানা
ডাকুয়ার বিলে শীতপাখিদের ডানার শব্দ শুনি
বাজে না এখন পশ্চিম বনে শিরীষের ঝুনঝুনি।
কুয়াশায় ঢাকা ভোরের প্রকৃতি মুখরতা গেছে ভুলে
লালমোরগের বাগ ভেসে আসে কেঁপে কেঁপে দুলে দুলে।
হইচই নেই কুমার গাঙের গাঙনালী খেয়াঘাটেÑ
পুরনো চাদর মুড়িয়ে কৃষক ধীরপায়ে চলে মাঠে।
শীতের কাহিনী শিশির কুয়াশা ধূসর কালিতে লেখা
ভেজা আলপথে কৃশ-কৃষকেরা এঁকে যায় পদরেখা।
রাতভর ডেকে সুরের ঝিঁঝিরা ঘুম যায় উলুঝোপে
শীতে জড়সড় খোড়ল পেঁচারা লুকায় গাছের খোপে
কাচপোকাগুলো আঁকড়িয়ে থাকে বন-অতসীর পাতা
প্রকৃতি যেন-বা ধোঁয়াশায় মোড়া আড়তীর খেরোখাতা।
এই শীতে আমি যেতে চাই দূরে মাঠের শেষের শেষে
যেখানে বিশাল লালুটিয়া খাল বয়ে গেছে মাঠঘেঁষে
খালের ওপারে আড়িয়াল বিলে অতিথি পাখির মেলা
বাহারি শিসের উচ্ছ্বাসে তারা জমিয়ে তুলেছে খেলা
ডানা ঝাপটিয়ে পালক ঝরিয়ে রৌদ্র পোহায় চরে
মনে হয় তারা মিলন মেলায় মিলেছে বছর পরে।
অড়িয়াল বিল বাঁয়ে রেখে আমি চলে যাব দক্ষিণে
ভাটির দেশের মানুষ যেখানে সাহস নিয়েছে কিনে
জলে কুমিরের তুমুল দাপট বনে গর্জন বাঘের
জীবন-মৃত্যু পায়ের ভৃত্য পরোয়া করে না নাগের।
শুনে নেবো সেই মাঝি-জলদাস-বনচারীদের কাছে
হিমরাত্রির নদী-অরণ্যের কাহিনী যা জানা আছে।
বাওয়ালি-মৌয়াল কোন্ জাদুবলে বাঘের সঙ্গে লড়ে
ফুৎকার দিয়ে শঙ্কা তাড়িয়ে নতুন স্বপ্ন গড়ে।
দক্ষিণ ছেড়ে এই শীতে আমি যাবো হেঁটে উত্তরে
দেখব মানুষ হিমাদ্রির ছোবলে বাঁচে, না মরে!
যাবো সোজাসুজি হিমপাহাড়ের হাড়কাঁপা পাদমূলে
হাতদুটি মেলে দাঁড়াবো সটান জামার বোতাম খুলে।
বলব, পাহাড় যত হিম আছে দে-না ঢেলে এই বুকে
দেখব কঠিন হিমথাবা তোর দিতে পারি কি-না রুখে।
আগামীর শীতে বাঁচি কি না-বাঁচি; ভরসা করি না এর
এই শীতে তাই জীবন চেনার প্রত্যয়ে হবো বের।