তৌকির মুহাইমিন
প্রকাশ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:৩০ এএম
আঁকা : মেহেরুন্নিসা, অষ্টম শ্রেণি, রানী নীহার দেবী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, মানিকছড়ি, খাগড়াছড়ি
পেয়ারা গ্রামের সোহেল। শীতের এক সকালে তার মা তাকে নিয়ে পাশের বাড়িতে গেলেন। কারণ পাশের বাড়িতে ভাপাপিঠা তৈরি করা হয়েছে এবং সেখানে তাদের সবার দাওয়াত। সোহেল তার বন্ধু সানি, গোপাল, ফারদিন, দিপাসহ অন্য বন্ধুদের নিয়ে গল্প করছিল। হঠাৎ শুনতে পায় পিঠা চুরি হয়ে গেছে। সোহেল সবার হাত চেক করল কিন্তু কারও হাতে কোনো পিঠার গন্ধ বা রস ছিল না। সোহেল খুব অবাক হলো।
পরের দিন সোহেল সকালে খেজুরের রস সংগ্রহ করতে গেল। তারপর সেগুলো থেকে গুড় তৈরি করা দেখছিল। তখন দেখল তার বন্ধু গোপাল এবং ইয়াসিন খেজুরের গুড় খেতে খুব পছন্দ করে। তাই সোহেল তাদের পিঠা চুরির জন্য সন্দেহ করল। কিন্তু তারা তো সোহেলের সঙ্গেই ছিল। তাই তাদের পক্ষে চুরি করা সম্ভব নয়।
পরের দিন সোহেলের মা খেজুরের রসে ভেজানো বিভিন্ন ধরনের পিঠা বানালেন। এগুলো সাজিয়ে তার বাতি নিভিয়ে অপেক্ষা করছিল কেউ চুরি করতে আসে কি না দেখার জন্য। অন্ধকারে হঠাৎ দেখল একটা ছোট্ট হাত কিছু পিঠা নিয়ে চলে যাচ্ছে। সোহেল তাড়াতাড়ি মোবাইল দিয়ে হাতের ছবি তুলল। হাতটা অনেক ছোট। সোহেল চিন্তা করতে থাকল এত ছোট হাত কার হতে পারে? কিন্তু কোনো সমাধান পেল না। হঠাৎ খুব ভালোভাবে ছবিটা খেয়াল করে বুঝতে পারল এটা আসলে মানুষের হাত না, এটা কোনো পুতুলের হাত। আর হাতে একটা কাঁটা দাগ আছে।
পরের দিন কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে শিশির ভেজা ঘাসের ওপর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে সোহেল গ্রামের পাশের পুতুল তৈরির কারখানায় গেল কে কে পুতুল কিনেছে জানার জন্য। তখন কারখানা থেকে জানাল তারা খুচরা বিক্রি করে না, তারা পাশের বাবু স্টোর্সে পাইকারি বিক্রি করে। তারপর সোহেল বাবু স্টোর্স থেকে জানতে পারে তার বন্ধু গোপাল, দিপা আর পাশের বাসার মোহন সাহেব পুতুল কিনেছে। প্রথমে সে গোপাল ও দিপার বাসায় গিয়ে পুতুলের হাতের সঙ্গে সেই চুরি করা হাতের ছবির কোনো মিল পায় না। তাই সোহেল নিশ্চিত হয় দিপা আর গোপাল পিঠা চুরি করে নাই।
এরপর সে মোহন সাহেবের বাসায় যায়। সেখানে গিয়ে দেখে মোহন সাহেবের নাতনি পুতুল নিয়ে খেলা করছে কিন্তু পুতুলটির একটা হাত নাই। পরে সেই বাচ্চাটির খেলনার বাক্সে পুতুলটির হাত খুঁজে পায় যেখানে সেই চুরি করা হাতের মতোই কাটা দাগ আছে। বাচ্চাটিকে জিজ্ঞেস করার পর সে পিঠা চুরির কথা স্বীকার করে। সে বলে তার পিঠা খুব প্রিয়। কিন্তু সে যতটুকু পিঠা পায় তার চেয়ে সে বেশি খেতে চায়। তাই সে চুরি করে। তারপর সবাই মিলে তাকে বোঝায় যে, শীতের পিঠা সবাইকে নিয়ে ভাগাভাগি করে খাওয়ার মধ্যেই প্রকৃত আনন্দ। তখন সে তার ভুল বুঝতে পারে এবং বলে আর কখনও এ রকম করবে না।
পরের দিন গ্রামের সবাই মিলে পিঠা উৎসব করে। সেখানে রঙবেরঙের শীতের পিঠা, পায়েসসহ বিভিন্ন ধরনের খাবার তৈরি করে আর অনেক আনন্দ করে।