নুপা আলম ও ফুয়াদ মোহাম্মদ সবুজ, কক্সবাজার
প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:৪৫ পিএম
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার শুধু বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতের জন্যই পরিচিত নয়; এই জেলার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচয় হলো শুঁটকি। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে কক্সবাজারের উপকূলীয় জনপদে শুঁটকি তৈরি শুধু একটি খাদ্য সংস্কৃতি নয়, বরং হাজারো মানুষের জীবিকা, শ্রম ও সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি। সমুদ্রঘেঁষা এই জেলায় শুঁটকি শিল্প একদিকে যেমন অর্থনীতিতে অবদান রাখছে, অন্যদিকে নানা সংকট, স্বাস্থ্যঝুঁকি ও বাজার অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
ঐতিহ্যের শেকড়
কক্সবাজারের শুঁটকির ইতিহাস গভীরভাবে যুক্ত এখানকার জেলে সম্প্রদায়ের জীবনযাত্রার সঙ্গে। সাগর থেকে ধরা মাছ সংরক্ষণের সহজ উপায় হিসেবে শুঁটকির উৎপত্তি। লবণ ও রোদÑ এই দুই প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করে মাছ শুকিয়ে সংরক্ষণের কৌশল যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। মহেশখালী, কুতুবদিয়া, টেকনাফ, পেকুয়া ও কক্সবাজার সদর উপজেলার উপকূলীয় চর ও খোলা মাঠগুলোতে শুঁটকি পল্লীগুলো যেন এক একটি জীবন্ত ঐতিহ্য।
শুঁটকি উৎপাদন এলাকা
কক্সবাজার জেলার সবচেয়ে বড় শুঁটকি উৎপাদন এলাকা হলো কক্সবাজার শহরের নাজিরারটেক। এ ছাড়া টেকনাফের সাবরাং, শাহপরীর দ্বীপ, বাহারছড়া, মহেশখালীর সোনাদিয়া দ্বীপ, গোরকঘাটা, হোয়ানক, পেকুয়ার মগনামা ও কুতুবদিয়ার আলী আকবর ডেইল এলাকা শীত মৌসুমে শত শত মাচায় উৎপাদন হয় শুঁটকি। যেখানে আকাশের নিচে সারি সারি মাছ ঝুলে থাকে, দূর থেকে দেখলে যেন এক ভিন্ন রকম দৃশ্যপট।
-69673b2c3b43a.jpg)
কোন কোন মাছের শুঁটকি
কক্সবাজারে উৎপাদিত অনুমানিক সব মাছেরই শুঁটকি উৎপাদন হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোÑ লইট্টা, চিংড়ি, রূপচাঁদা, ফাইসা, ছুরি, চেলা, পোয়া, লাক্ষা, চাপিলা, কোরাল। যেখানে লইট্টা, ছুরি ও চিংড়ির শুঁটকি সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। এসব শুঁটকি দেশের প্রায় সব জেলা ছাড়াও ভারত, নেপাল ও মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশে রপ্তানি হয়।
উৎপাদন প্রক্রিয়া
শুঁটকি তৈরির প্রক্রিয়া মূলত শ্রমনির্ভর। জেলেরা ভোরে সাগরে গিয়ে মাছ ধরে এনে তা আড়তে বিক্রি করেন। এরপর শ্রমিকরা মাছ পরিষ্কার করে লবণ মেখে বাঁশের মাচায় বা জালে ঝুলিয়ে দেন। সাধারণত ৭ থেকে ১৫ দিন রোদে শুকানো হয়। আবহাওয়া ভালো থাকলে শুঁটকির মান ভালো হয়, আর আর্দ্রতা বা বৃষ্টি হলে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
জমে ওঠা এই মৌসুম চলবে আগামী জুলাই পর্যন্ত। মৌসুমজুড়ে নাজিরারটেক ও জেলার অন্যান্য উপকূলীয় মহাল থেকে ৫০-৬০ হাজার মেট্রিক টন শুঁটকি উৎপাদনের পাশাপাশি বিদেশে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার শুঁটকি রপ্তানির আশা করছেন ব্যবসায়ীরা। জানা যায়, সমুদ্রতীরবর্তী প্রায় ১০০ একর জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা এ মহালে কাজ করেন প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক, যাদের অধিকাংশই নারী। শুষ্ক মৌসুমে নভেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত প্রধানত শুঁটকি উৎপাদন চলে। তবে বৃষ্টি না থাকলে অন্য সময়েও কিছু উৎপাদন হয়।
অর্থনীতিতে শুঁটকির ভূমিকা
কক্সবাজারে শুঁটকি শিল্প প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় দুই লাখ মানুষের জীবিকা জোগান দেয় বলে স্থানীয়দের ধারণা। জেলে, নারী শ্রমিক, পরিবহন শ্রমিক, আড়তদার, পাইকার ও খুচরা বিক্রেতাÑ একটি বড় অর্থনৈতিক চক্র গড়ে উঠেছে এই শুঁটকিকে কেন্দ্র করে। স্থানীয় বাজার ছাড়াও চট্টগ্রাম, ঢাকা, সিলেটসহ দেশের বড় বড় শহরে কক্সবাজারের শুঁটকির আলাদা কদর রয়েছে।
-69673b4be7f49.jpeg)
কক্সবাজার থেকে প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ শুঁটকি রপ্তানি হচ্ছে আমেরিকা, ব্রিটেন, থাইল্যান্ড, হংকং, মালয়েশিয়া, জার্মানি, সৌদি আরব ও দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে।
রপ্তানিকারকরা জানান, প্রবাসী বাংলাদেশি ও এশিয়ার বাজারে কক্সবাজারের শুঁটকির চাহিদা বাড়ছে। মান ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করা গেলে এই খাত থেকে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের পরিমাণ আরও বাড়ানো সম্ভব। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, একমাত্র মহেশখালী ও সোনাদিয়াতেই প্রতি মৌসুমে ২০ থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন শুঁটকি উৎপাদিত হয়; যার বাজারমূল্য ৪০০ কোটি টাকারও বেশি।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, লইট্টা শুঁটকি প্রতি কেজি ১,০০০-১,৪০০ টাকা, ছুরি ৮০০-১,৮০০ টাকা, চিংড়ি ১,০০০-১,৫০০ টাকা, পোয়া ৫০০-৮০০ টাকা, মাইট্টা ৮০০-১,৬০০ টাকা, কোরাল ১,৫০০-১,৯০০ টাকা আর রূপচাঁদা ১,৮০০-২,৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
নারী শ্রমিকদের ভূমিকা
শুঁটকি তৈরির প্রক্রিয়ায় নারীদের শ্রম নীরব হলেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাছ কাটার ধারালো ছুরি হাতে নারীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজ করেন কনকনে শীত আর কড়া রোদে বসে। অনেক পরিবারে পুরুষরা গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে গেলে নারীরাই উৎপাদনের পুরো দায়িত্ব সামলান। দৈনিক মজুরি খুব একটা বেশি নয়, তবু এই আয়ের ওপর নির্ভর করেই চলে সংসার। শুঁটকি মৌসুম মানেই তাদের জন্য বছরের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক সুযোগ, যদিও এর সঙ্গে যুক্ত থাকে শারীরিক পরিশ্রম ও অনিশ্চয়তা। মাছ পরিষ্কার, লবণ দেওয়া, শুকানো ও প্যাকেটজাত করার কাজে বিপুলসংখ্যক নারী শ্রমিক নিয়োজিত। তবে শ্রমের ন্যায্য মজুরি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে রয়েছে অভিযোগ। অনেক নারী জানান, রোদে-গন্ধে কাজ করলেও মজুরি খুবই কম।
-69673b6c90697.jpeg)
স্বাস্থ্যঝুঁকি ও অভিযোগ
শুঁটকি নিয়ে সবচেয়ে বড় অভিযোগ হলো বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহার। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী মাছ দ্রুত শুকাতে ও পোকামাকড় থেকে রক্ষা করতে কীটনাশক ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে ভোক্তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। যদিও অনেক উৎপাদক দাবি করেন, তারা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে শুঁটকি তৈরি করেন।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব
জলবায়ু পরিবর্তন শুঁটকি শিল্পের ওপর নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। অনিয়মিত বৃষ্টি, ঘূর্ণিঝড় ও অতিরিক্ত আর্দ্রতা শুঁটকি উৎপাদনে বাধা সৃষ্টি করছে। আগে যেখানে নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত নিশ্চিন্তে শুঁটকি শুকানো যেত, এখন সেখানে হঠাৎ বৃষ্টি বড় ক্ষতির কারণ হচ্ছে।
সংস্কৃতি ও খাদ্যাভ্যাস
শুঁটকি কেবল অর্থনৈতিক পণ্য নয়, এটি বাঙালির খাদ্য সংস্কৃতির অংশ। ভর্তা, ভুনা, ঝোল শুঁটকি ছাড়া উপকূলীয় রান্না অসম্পূর্ণ। কক্সবাজারের শুঁটকি দেশের নানা অঞ্চলে এই জেলার স্বাদ ও ঐতিহ্য বহন করে।
সংশ্লিষ্টরা যা বলছেন
নাজিরারটেকের শুঁটকি ব্যবসায়ী আবুল কালাম বলেন, করোনাকালে দীর্ঘদিন ব্যবসা বন্ধ থাকায় তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছিলেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় আবার উৎপাদন শুরু হয়েছে। শীতের চলতি মৌসুমে লাভের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে, তবে কাঁচামালের দাম, শ্রমিক মজুরি ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় লাভের পরিমাণ আগের তুলনায় কম পাব বলে আশা করছি। তবুও ঐতিহ্য ধরে রাখতে তারা মানসম্মত শুঁটকি উৎপাদনে সচেষ্ট রয়েছেন।
নাজিরারটেক শুঁটকি মহলে কর্মরত শ্রমিক রশিদা খাতুন বলেন, ভোরে বাসা থেকে এসে সারা দিন মাছ ধুয়ে আর মাচায় সাজাই। কাজটা কষ্টের হলেও মৌসুমে ভালো আয় হয়। এই আয়ে সংসার চলে, বাচ্চাদের পড়ানোও হয়।
শ্রমিক নুরুল আমিন বলেন, গভীর সাগর থেকে মাছ এনে মহালে দেওয়া হয়। কখনও সাগরে যাওয়া কঠিন হয়, কিন্তু মাছ ভালো থাকলে সবাই লাভবান হয়। শুঁটকি মৌসুমেই সবচেয়ে বেশি আয় হয় আমাদের।
আধুনিক শুকানোর প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ, স্বল্প সুদে ঋণ ও মাননিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে কক্সবাজার মৎস্য কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা বলেন, মৎস্য পরিদর্শন ও মাননিয়ন্ত্রণ আইনের আওতায় শুঁটকি উৎপাদন কার্যক্রম যাতে স্বাস্থ্যসম্মত বা মানসম্মত হয় সেজন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এ ছাড়া বিএফডিসি (বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন) কাজ করছে, তারা শুঁটকির ওপরে একটি প্রজেক্ট কক্সবাজার এলাকায় বাস্তবায়ন করছে। এ ছাড়া শুঁটকির মান উন্নয়নে বিভিন্ন সরকারি এবং বেসরকারি সংস্থার সমন্বয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত আছে এবং ভবিষ্যতে এ শিল্পের উন্নয়নের জন্য মৎস্য অধিদপ্তর সরকারের পক্ষে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
তিনি আরও বলেন, শুঁটকি উৎপাদনের সঙ্গে কক্সবাজার এলাকায় প্রায় ৭২৮ জন উৎপাদনকারী জড়িত। এ ছাড়াও শুঁটকি কক্সবাজার জেলার একটি অমিত সম্ভাবনাময় শিল্প। সমুদ্রতীরবর্তী জেলা হিসেবে কক্সবাজার জেলার শুঁটকি উৎপাদন কার্যক্রম একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম হিসেবে বাংলাদেশে সমধিক পরিচিত। কারণ এখানে সমুদ্র থেকে প্রচুর পরিমাণে সামুদ্রিক বিভিন্ন প্রজাতির মাছ আহারিত হয়, যার কিছু অংশ থেকে শুঁটকি তৈরি করা হয় এবং বাকি অংশ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিপণন হয়।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাজমুল হুদা বলেন, বিগত বছরেও প্রায় ৪৮ হাজার মেট্রিক টন শুঁটকি উৎপাদিত হয়েছে, বর্তমান বছরের উৎপাদনের ধারা অব্যাহত আছে। আশা করা হচ্ছে, এ বছর আরও বেশি উৎপাদন হতে পারে।
শুঁটকি উৎপাদনে বিষ-রাসায়নিক পদার্থ বা কীটনাশক ব্যবহার নিয়ে তিনি বলেন, শুঁটকিতে কীটনাশক এর ব্যবহার কোনোভাবেই কাম্য নয়, কারণ এটাতে আমাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে যাবে। উৎপাদনকারীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিকল্প ব্যবস্থার উন্নয়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান রাখছি। অন্যদিকে অতিরিক্ত লবণের ব্যবহার আমাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে, পরিমিত পরিমাণ লবণ ব্যবহারের প্রতি আহ্বান রাখছি।
নারী শ্রম নিয়ে এ কর্মকর্তা বলেন, নারী শ্রমিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি যাতে না বাড়ে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় সেজন্য বিভিন্ন সময়ে জিও এবং এনজিওর মাধ্যমে তাদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে এবং সচেতন থাকার জন্য বিভিন্ন সময় পরামর্শ প্রদান করা হয়। নারী শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই মুহূর্তে আলাদাভাবে কোনো উদ্যোগ নাই, তবে বিভিন্ন সময় যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়ে থাকে তার মাধ্যমে তাদের সচেতন করার জন্য আমাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে। ফিলিপ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রকল্পভুক্ত মৎস্যজীবী পরিবারের মহিলাদের অনুরূপ বিষয়ে সব সময় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
-69673b7d0b09d.jpeg)
শুঁটকি শিল্প নিয়ে নাজমুল হুদা বলেন, আগামী পাঁচ বছরে স্বাস্থ্যসম্মত শুঁটকি উৎপাদন ও বিপণন ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য দপ্তরের পরামর্শ এবং বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন অব্যাহত আছে।
জীবন সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি
শুঁটকি শিল্প কক্সবাজার উপকূলের মানুষের জীবন সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি। নোনাজলে ভেজা হাত, রোদে পোড়া মুখ আর অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মাঝেও তারা স্বপ্ন দেখেন একটি নিরাপদ ও সম্মানজনক জীবনের। সঠিক পরিকল্পনা, আন্তরিক উদ্যোগ ও সরকারি সহায়তা পেলে এই শিল্প শুধু দেশের চাহিদাই পূরণ করবে না, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের একটি শক্তিশালী পরিচয় হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত হতে পারে, যা উপকূলের মানুষকে দেবে টেকসই ভবিষ্যতের আশা।