দিলরুবা নীলা
প্রকাশ : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬:১৫ পিএম
বাবা টুনির জন্য আজ একটা লাল রঙের চাদর কিনে এনেছেন। টুকটুকে লাল রঙের চাদর। অসাধারণ সুন্দর। চাদরটা দেখেই টুনির চোখ দুটো চকচক করে ওঠে। দাদুকে শীতের সকালে চাদর গায়ে বসে পত্রিকা পড়তে দেখে টুনিরও খুব শখ হয়েছিল চাদর পরার। মাকে তক্ষুনি বললÑ মা, আমাকে একটা চাদর কিনে দাও।
টুনির মা হাসতে হাসতে বললেন, ছোটরা চাদর পরে না, মা। ছোটরা সোয়েটার পরে।
কিন্তু কে শোনে কার কথা! টুনির চাদর লাগবে মানে লাগবেই। টুনির জেদে শেষ পর্যন্ত বাবা বাধ্য হয়ে চাদর এনেছেন।
আমি আজ চাদর পরব! কী মজা!
আমার লাল চাদরটা ভীষণ সুন্দর, তাই না মা?
টুনি আনন্দে লাফাতে লাফাতে এঘর-ওঘর ঘুরতে থাকে। কখনও চাদরটা কাঁধে ফেলে আয়নার সামনে দাঁড়ায়, কখনও আবার চাদরটাকে উড়িয়ে নাচে। টুনির আনন্দ দেখে মা মুখ টিপে হাসেন, কিছু বলেন না।
শীতের সকাল, হালকা কুয়াশা ছড়িয়ে আছে। বারান্দায় ঠান্ডা হাওয়া বইছে। টুনি চাদর গায়ে জড়িয়ে বারান্দার রেলিং ধরে বসে বললÑ
আজ ভীষণ ঠান্ডা!
হঠাৎ টুনি কেমন যেন নড়াচড়া টের পেল। চাদরের নিচে তাকিয়ে দেখে, তার ছোট্ট বিড়ালছানা পিউ! পিউর শরীর কাঁপছে, মুখ দিয়ে বেরোচ্ছে ‘মিউ মিউ’ শব্দ।
আরে! তুমি এখানে কখন এলে?
টুনি চমকে উঠে পিউকে আদর করতে লাগল। সে চাদরটা আর একটু নামিয়ে দিল। বিড়ালছানাটা গুটিশুটি মেরে চাদরের ভেতর ঢুকে পড়ল। লাল চাদরের উষ্ণতায় পিউ আর কাঁপছে না, আরামে চোখ বন্ধ করে শুয়ে পড়ে।
ঠিক তখনই টুনি উঠোনের দিক থেকে ‘চুঁই চুঁই’ শব্দ শুনতে পায়। ছোট্ট মুরগির ছানাটা গুটিগুটি পায়ে এগিয়ে আসছে। তার পালক ফুলে আছে, ঠান্ডায় সে কষ্টে আছে।
টুনি সঙ্গে সঙ্গে চাদরের আরেক কোনা তুলে ধরল। মুরগির ছানাটিও চাদরের নিচে ঢুকে পড়ল। এবার তিনজন একসঙ্গে চাদরের ভেতর বসে আছে।
টুনি হাসতে হাসতে বললÑ
ভয় নেই, আমার লাল চাদর তোমাদের গরম রাখবে।
মা দূর থেকে সবকিছু দেখে কাছে এসে নরম গলায় বলেনÑ
টুনির চাদরটা আজ কত কাজে এলো!
দাদুও হেসে বললেনÑ
ভালোবাসা থাকলে চাদরও বিপদে আশ্রয় দেয়।
টুনি গর্ব করে বলে, দেখলে তো আমার চাদরটা কত ভালো!
চাদরের নিচে তিনজন একসঙ্গে বসে আছে। টুনি, পিউ আর মুরগির ছানা। তারা উষ্ণতায় আরাম পাচ্ছে। টুনি তাদের কাছে বসে গল্প বলতে লাগল। শীতের হালকা হাওয়া ওদের শরীর ছুঁয়ে যাচ্ছে, কিন্তু টুনি আর তার ছোট্ট বন্ধুদের জন্য তা আর সমস্যা নয়।
টুনি মনে মনে ভাবে আজকের দিনের মতো সে সারা জীবনই সবাইকে বিপদে আশ্রয় দেবে। পাশে থেকে সাহায্য করার চেষ্টা করবে।
দাদু যেন টুনির মনের কথা বুঝতে পারেন।
তিনি টুনির মাথায় হাত বুলিয়ে বলেনÑ
ঠিক কথা ভাবছ, ছোট্ট রাজকন্যা।
তুমি এক দিন বড় হয়ে অবশ্যই সবার বিপদের বন্ধু হবে।
পিউ তখন মিউ মিউ করে আর মুরগির ছানাটা তখন চুঁই চুঁই করে দাদুর কথাতে সম্মতি জানায়।