এহসানুল হক সুমন, রংপুর
প্রকাশ : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:৫১ এএম
আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১৪:৫৬ পিএম
শীতে শুকিয়ে গেছে তিস্তা নদী। জেগে ওঠা চরে ছোট ছোট বদ্ধ জলাশয় তৈরি হয়েছে। সেখানে ছোট ছোট মাছ-জলজপ্রাণীর ছুটোছুটি। এসব খেতে তিস্তার বুকে পাখির আনাগোনা বেড়েছে। গত কয়েক বছরের মতো এবারও তিস্তায় দেখা মিলেছে দুর্লভ পাখি ‘উত্তুরে টিটি’। পরিযায়ী এ পাখি তিস্তায় এসেছে ঝাঁক বেঁধে। তাই এ শীতে বাড়তি আনন্দ জুগিয়েছে পাখিপ্রেমীদের মনে।
তিস্তাসহ বিভিন্ন নদীর খোঁজখবর রাখেন রিভারাইন পিপলের পরিচালক অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে তিনি নদীর সঙ্গে পাখির ছবি তুলে বেড়ান। চলতি শীতেও গঙ্গাচড়া উপজেলার তিস্তা নদীর বিভিন্ন প্রান্তে ছুটে তুলেছেন উত্তুরে টিটির ছবি। খাবার সংগ্রহ করা, হেঁটে চলা, দুডানা মেলে আকাশে ঘুরে বেড়ানোসহ উত্তুরে টিটিদের খুনসুটির দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করেছেন তিনি।
ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, প্রতি বছর তিস্তা নদীতে খাবারের খোঁজে পরিযায়ী পাখিরা ছুটে আসে। চলতি বছরও তারা আসতে শুরু করেছে। কয়েক বছর ধরে তিস্তায় উত্তুরে টিটির দেখা মিলছে। তিস্তায় আসা বিভিন্ন প্রজাতির পাখির মধ্যে উত্তুরে টিটি বেশ আকর্ষণীয়। তাদের লম্বা পা, টানা চোখ আর মাথার ওপরে লম্বা ঝুঁটি পাখিপ্রেমীদের হৃদয় কাড়ে।
তিনি বলেন, দেশে নদী-নালা, বিল দখল হচ্ছে। এতে করে পাখিরা তাদের আবাসস্থল হারাচ্ছে। এ ছাড়া অনেকে পাখি শিকার করার ফলে পরিযায়ী পাখিরা তিস্তায় নিরাপদ নয়। সরকারের উচিত বিভিন্ন দেশ থেকে তিস্তায় আসা পাখিদের নিরাপত্তা দেওয়া। সেইসঙ্গে পাখির নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিতে সবাইকে কাজ করতে হবে।
রংপুর সামাজিক বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন বলেন, বিভিন্ন নদীতে আসা পরিযায়ী পাখি রক্ষায় সামাজিক বন বিভাগের সদস্যরা কাজ করে যাচ্ছেন। পাখির আবাসস্থল গড়তে নদীর ধারে বৃক্ষ রোপণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
উইকিপিডিয়া সূত্রে জানা যায়, কবুতরের আকৃতির উত্তুরে টিটি। এর ইংরেজি নাম Northern lapwing। লম্বা পা, কালো ঠোঁট। এ পাখিকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে কালো রঙের লম্বা ঝুঁটি। সাদা বুক, গলার নিচে মোটা কালো রঙ যেন উত্তুরে টিটির গলাকে অলংকৃত করেছে। চোখের নিচে কালো রঙের দাগ চোখ দুটিকে টানাটানা করে তুলেছে। পিঠের পালকগুলোয় কালো ও হালকা জলপাই রঙের মিশ্রণ রয়েছে। সেইসঙ্গে পেছনের পালকের শেষ প্রান্তে সাদা রঙের রেখা আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে পাখিটিকে। উত্তুরে টিটি শীতকালে বিভিন্ন নদী ও হাওর এলাকায় আসে। পানির সবুজ প্রান্তরে এরা বিচরণ করে। তাদের প্রজনন ভূমি ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ায়। এ পাখি শীতকালে দক্ষিণ আফ্রিকা, উত্তর ভারত, নেপাল, ভুটান ও চীনে আসে। কেঁচো, মাটির বিভিন্ন পোকা ও লার্ভা এদের খাদ্য।