× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

হালের মেহেদি সন্ধ্যা

মাহবুবা মিতু ও মাহমুদা বিশ্বাস

প্রকাশ : ০৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫:২৪ পিএম

হালের মেহেদি সন্ধ্যা

বিয়ের বিভিন্ন আয়োজনের মতো মেহেদি সন্ধ্যাও বর্তমানে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। নানা স্বাদের খাবার, নাচ-গানে ভরপুর সন্ধ্যা, থিমভিত্তিক বিভিন্ন সাজ, কনেসহ অতিথিদের সবাই হাতে মেহেদি দেওয়া নিয়ে যেন উৎসবের আমেজ তৈরি হয়ে যায়। মেহেদি সন্ধ্যার নানা আয়োজন নিয়ে লিখেছেন মাহবুবা মিতু ও মাহমুদা বিশ্বাস 

বাংলাদেশের বিয়ের আয়োজন মানেই শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়Ñ এ যেন আবেগ, সংস্কৃতি আর আনন্দের এক দীর্ঘ উৎসব। গায়েহলুদ, মেহেদি, বিয়ে ও বৌভাত প্রতিটি ধাপেই লুকিয়ে আছে নিজস্ব রঙ ও সৌন্দর্য। এই আয়োজনগুলোর মধ্যে মেহেদি অনুষ্ঠান আলাদা করে নজর কাড়ে। কারণ এখানেই কনের হাত-পা জুড়ে আঁকা হয় ভালোবাসার নকশা, গাওয়া হয় আনন্দের গান, আর পরিবারের সবাই মিলে ভাগ করে নেয় উৎসবের উচ্ছ্বাস। 

ছবি - তাহরিমা খান 

বিয়ের গান ও মেহেদির আবহ

মেহেদি অনুষ্ঠান মানেই গান ছাড়া কল্পনাই করা যায় না। বিয়ের গান আমাদের সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একসময় বাড়ির বয়স্ক নারীরা দলবেঁধে বসে গাইতেন লোকজ বিয়ের গানÑ

‘হলুদ বাটো, মেহেদি আনো’, ‘সোহাগ চাঁদ বদনী ধনি’ এসব গানেই ফুটে উঠত কনের বিদায়ের আনন্দ-বেদনার মিশ্র অনুভূতি।

বর্তমানে সেই ধারার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আধুনিক বিয়ের গান। ডিজে মিউজিক, ফিউশন গান, এমনকি বলিউড ও কোরিয়ান ট্রেন্ডের গানেও নাচে মেতে ওঠেন বর-কনে ও বন্ধুরা। তবে আজও অনেক পরিবার চায় লোকগানের আবহ-যেখানে ঢোল, খোল বা দোতারা বাজিয়ে পরিবেশিত হয় ঐতিহ্যবাহী বিয়ের সুর। এতে অনুষ্ঠান পায় এক ধরনের নস্টালজিক সৌন্দর্য।

ঐতিহ্যে মেহেদি সন্ধ্যা 

মেহেদি সন্ধ্যা শুধু একটি আনন্দঘন অনুষ্ঠান নয়, বরং সময়ের পরতে পরতে গড়ে ওঠা এক ঐতিহ্যবাহী সামাজিক অনুষঙ্গ। মেহেদি বা হেনা গাছের ব্যবহার পাওয়া যায় প্রায় ৫ হাজার বছর আগের প্রাচীন মিসর সভ্যতায়। মিসরীয়রা বিশ্বাস করতেন, হেনা শরীর ঠান্ডা রাখে এবং অশুভ শক্তি দূর করে। পরবর্তীতে এই রীতির বিস্তার ঘটে পারস্য, আরব উপদ্বীপ ও ভারতীয় উপমহাদেশে। ভারতীয় উপমহাদেশে মেহেদির প্রচলন জোরদার হয় মূলত মুঘল আমলে। মুঘল নারীরা সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে মেহেদি ব্যবহার করতেন। ধীরে ধীরে বিয়ের আগের এক বিশেষ আচার হিসেবে কনের হাতে-পায়ে মেহেদি পরানোর রীতি গড়ে ওঠে। আগে মেহেদি পরানো হতো ঘরের ভেতর, পরিবারের নারীদের ছোট পরিসরের আড্ডায়। গান, গল্প আর হাসি-ঠাট্টার মধ্যেই সেরে নেওয়া হতো এই আয়োজন। তখন অনুষ্ঠানে জাঁকজমক বা আড়ম্বরের কোনো স্থান ছিল না। এটি ছিল আবেগ, ঐতিহ্য এবং পারিবারিক বন্ধনের বহিঃপ্রকাশ।  সঙ্গে এই ঘরোয়া আয়োজন রূপ নেয় আলাদা এক সন্ধ্যার অনুষ্ঠানে যা আজ আমরা ‘মেহেদি নাইট’ নামে জানি। এটি কেবল সৌন্দর্যবর্ধন নয়, সম্পর্ক দৃঢ়করণ, আশীর্বাদ এবং নারীদের মধ্যে সম্প্রীতির প্রকাশ হিসাবেও কাজ করে। বিভিন্ন অঞ্চলে মেহেদিকে সৌভাগ্য, প্রজননক্ষমতা ও আনন্দের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।

আগে মেহেদি মানেই ছিল বাড়ির উঠোনে পাটি পেতে বসা, হাতে বাটা মেহেদি আর চারপাশে আত্মীয়স্বজনের ভিড়। এখন শহুরে বিয়েতে মেহেদি অনুষ্ঠান অনেকটাই পরিকল্পিত। আলাদা ভেন্যু, থিম ডেকোরেশন, রঙিন কুশন, ফুলের সাজÑ সব মিলিয়ে এটি হয়ে উঠছে একধরনের প্রি-ওয়েডিং ইভেন্ট। তবে আয়োজন যতই আধুনিক হোক, মেহেদির মূল তাৎপর্য আজও একইÑ এটি শুভ সূচনার প্রতীক। বিশ্বাস করা হয়, মেহেদির রঙ যত গাঢ় হবে, দাম্পত্য জীবন তত সুখের হবে। সেই বিশ্বাস থেকেই কনের পাশাপাশি বর, ভাবি, বান্ধবী এমনকি শিশুরাও মেহেদি পরেন।

থিম ও ভেন্যু

একসময় মেহেদি সন্ধ্যা মানেই ছিল বাড়ির উঠোনে নারীদের ঘরোয়া আড্ডা। এখন সেই চেনা দৃশ্য বদলে গেছে। সময়ের সঙ্গে মেহেদি নাইট পরিণত হয়েছে পরিকল্পিত ও নান্দনিক এক সামাজিক আয়োজনে, যার ঠিকানা পার্টি হল, কনভেনশন সেন্টার কিংবা বিলাসবহুল রিসোর্ট। আয়োজনের শুরুতেই নির্ধারিত হয় একটি নির্দিষ্ট থিম। থিমকে কেন্দ্র করেই সাজসজ্জা, পোশাক ও খাবারের প্রতিটি উপাদান সাজানো হয় যত্নের সঙ্গে। উজ্জ্বল হলুদ, সবুজ, কমলা ও গোলাপি রঙের আধিক্য মেহেদি সন্ধ্যার আনন্দ ও উৎসবের আবহকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

মেহেদির নকশা

মেহেদির নকশা এখন আর শুধু ফুল-লতা পাতা বা জ্যামিতিক ডিজাইনে সীমাবদ্ধ নেই। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নকশায় এসেছে বৈচিত্র্য।

১. ট্র্যাডিশনাল নকশা :

বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী নকশায় থাকে পাতা, ফুল, পেঁচানো লতা, সূর্য-চাঁদের মোটিফ। এই নকশা সাধারণত হাতের তালু ও পায়ের পাতাজুড়ে দেওয়া হয়।

২. আরবি স্টাইল:

ফাঁকা জায়গা রেখে আঁকা বড় ফুল ও পাতার নকশাÑ যা দেখতে হালকা ও আধুনিক। তরুণীদের মধ্যে এটি বেশ জনপ্রিয়।

৩. ব্রাইডাল হেভি নকশা:

কনের জন্য বিশেষভাবে তৈরি এই নকশায় হাতের আঙুল থেকে কনুই পর্যন্ত এবং পায়ের পাতা থেকে হাঁটু পর্যন্ত জটিল নকশা আঁকা হয়। অনেক সময় এতে বর-কনের নামের আদ্যক্ষর বা বিয়ের তারিখ লুকিয়ে রাখা হয়।

৪. ফিউশন ও কাস্টম ডিজাইন:

বর্তমানে অনেক কনে নিজের গল্প বা পছন্দ অনুযায়ী কাস্টম ডিজাইন করাচ্ছেনÑ কখনও পছন্দের ফুল, আবার কখনও প্রেমের গল্পের ছোট ছোট প্রতীক।

মেহেদি দেওয়ার সময় 

মেহেদি দেওয়ার সময় কনের আরাম ও নিরাপত্তা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মেহেদি লাগানোর আগে হাতে-পায়ে কোনো লোশন বা তেল ব্যবহার না করাই ভালো। এতে রঙ গাঢ় হয় না। অর্গানিক মেহেদির ক্ষেত্রে বিয়ের অন্তত ১-২ দিন আগে মেহেদি দেওয়া উত্তম, যাতে রঙ গাঢ় হওয়ার সময় পায়। দীর্ঘ সময় বসে থাকতে হয়, তাই হালকা খাবার ও পানি কাছে রাখা উচিত। একটানা অনেকক্ষণ বসে থাকলে ক্লান্তি আসতে পারে। প্রয়োজনে বিরতি নেওয়া জরুরি। 

মেহেদি অনুষ্ঠানে কনের বসার আসন শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়, আরামের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। নরম কুশন বা সোফা, দীর্ঘ সময় বসার জন্য আরামদায়ক। হাত রাখার সাপোর্ট, যাতে হাত স্থির থাকে। আলোকসজ্জা পর্যাপ্ত পরিমাণ থাকা প্রয়োজন। ডেকোরেশনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রঙ, ছবি ও ভিডিওর জন্য সুন্দর ফ্রেম তৈরি করা উচিত। বর্তমানে অনেকেই ফ্লোর সিটিংয়ের বদলে ডেকোরেটেড চেয়ারে বসানোর ব্যবস্থা করে, যা দেখতে যেমন সুন্দর, তেমনি ব্যবহারিক।

ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের ছোঁয়া

আজকাল মেহেদি নাইট আর কেবল ঘরোয়া পরিসরের আয়োজন নয়। এই অনুষ্ঠানের পুরো দায়িত্ব অনেক ক্ষেত্রে তুলে দেওয়া হচ্ছে পেশাদার ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানের হাতে। পরিকল্পিত আলোকসজ্জা, ডিজে মিউজিক, ড্যান্স ফ্লোরে ছন্দময় বিট, আকর্ষণীয় ফটো বুথ, সবকিছু মিলিয়ে মেহেদি নাইট এখন একটি পূর্ণাঙ্গ পার্টির আদল পাচ্ছে। কোথাও আবার বিশেষ কোরিওগ্রাফারের তত্ত্বাবধানে প্রস্তুত করা দলীয় নৃত্য পরিবেশনায় যুক্ত হচ্ছে আলাদা মাত্রা। একই সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী ‘গায়েহলুদ’ ও ‘সংগীত’-এর পরিচিত অনুষঙ্গগুলো আধুনিক এই আয়োজনের সঙ্গে মিশে গিয়ে অনুষ্ঠানটিকে আরও বর্ণিল ও উদ্দীপ্ত করে তুলছে।

খাবারের বৈচিত্র্য

বাঙালি বিয়ের খাবার মানেই ছিল চেনা স্বাদ আর পরিচিত আয়োজন। আজ সেই চিত্র বদলেছে, ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি, পিঠা ও পানীয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় নানা কুইজিন। লাইভ চাট কাউন্টার, গ্রিল স্টেশন, ফুচকা, জিলাপি, আইসক্রিম, কিংবা পাস্তা বার শুধু খাবার নয়, বিনোদনেরও অংশ হয়ে উঠেছে। ফিউশন ডিশ আর থিমভিত্তিক মেন্যু অতিথিদের সামনে খুলে দিচ্ছে নতুন স্বাদের এক রঙিন দুনিয়া। বাঙালি বিয়ের খাবার এখন শুধু পেট ভরানোর বিষয় নয়, এটা এখন একটা এক্সপেরিয়েন্স। অনেকে মেহেদি সন্ধ্যার আয়োজনে মিষ্টি পান, আগুন পানের ব্যবস্থা রাখেন। উপস্থিত অতিথিদের জন্য এটাও দারুণ একটি এক্সপেরিয়েন্স হয়ে ওঠে। 

সামাজিক মাধ্যমে মেহেদি সন্ধ্যা 

সামাজিক মাধ্যমের জাদুকরি ছোঁয়ায় মেহেদি সন্ধ্যা এখন এক অপরূপ রূপান্তরের সাক্ষী। ইনস্টাগ্রাম, টিকটক ও ফেসবুকের রিলসের যুগে এই ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান শুধু পরিবারের মিলনমেলা নয়, বরং এক ভাইরাল সেনসেশনের জন্মস্থল। ট্রেন্ডে অনুষ্ঠানের সাজসজ্জা থেকে লাইটিং, ফ্লোরাল থিম্যাটিক ডেকোরেশন এবং ইকো-ফ্রেন্ডলি উপাদান সবকিছুই এমনভাবে ডিজাইন করা হচ্ছে যাতে ছবি, ভিডিওগুলো ইনস্টাগ্রাম যোগ্য হয়ে লক্ষ লক্ষ ভিউ পায়, কাস্টম হ্যাশট্যাগ আর ফেইরি লাইটসের ঝলমলে আলোয় ইভেন্টকে আরও ভাইরাল করে তোলা হচ্ছে। কনে-বর ও বন্ধুদের মিলিত কোরিওগ্রাফড নাচের পারফরম্যান্স এখন রিলসে পোস্ট হয়ে মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায়, অন্যদের অনুপ্রাণিত করে মেহেদি নাইটকে এক অবিচ্ছেদ্য উৎসবের অংশে পরিণত করেছে। একই সঙ্গে মিনিমালিস্ট আরবিক ফিউশন, জিওমেট্রিক প্যাটার্ন, গ্লিটার ওভারলে এবং পার্সোনালাইজড ডিজাইনের মতো ট্রেন্ডি মেহেদি আর্টিস্টরা সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের ক্রিয়েশন শেয়ার করে তারকাখ্যাতি লাভ করছেন। কনেরা তাদের ভাইরাল ছবি-ভিডিও দেখে বুক করছেন, যা এই প্রাচীন শিল্পকে এক আধুনিক পেশাদার ক্যারিয়ারে রূপান্তরিত করেছে। এভাবে সোশ্যাল মিডিয়া মেহেদি নাইটকে ঐতিহ্য আর আধুনিকতার এক অসাধারণ মিশ্রণে পরিণত করেছে, যা প্রতিটি মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখছে। 

বাঙালি মেহেদি সন্ধ্যার নিজস্বতা

বাঙালি সংস্কৃতিতে মেহেদি নাইট বা ‘মেহেদি সন্ধ্যা’র রয়েছে একটি বিশেষ আবেদন। যদিও এটি পাকিস্তান, ভারত ও অন্যান্য দক্ষিণ এশীয় সংস্কৃতির মেহেদি আয়োজনের সঙ্গে কিছুটা মিল রেখেছে, তবুও বাঙালি মেহেদি নাইটের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এতে ঘরোয়া আড্ডা, নান্দনিক সাজসজ্জা, খাবারের স্বতন্ত্রতা এবং অতিথিদের সঙ্গে কনের ঘনিষ্ঠ মেলবন্ধন একত্রে ফুটে ওঠে। বাঙালি মেহেদি নাইট কেবল পার্টি নয়, এটি একধরনের সংস্কৃতির প্রকাশ ও আবেগের উৎসব, যা অনুষ্ঠানের আনন্দ ও উচ্ছ্বাসকে অন্য মাত্রা প্রদান করে।

হলুদের সঙ্গে ফিউশন

বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে প্রথাগতভাবে মেহেদি এবং হলুদের অনুষ্ঠান প্রায়ই একই দিনে বা কাছাকাছি সময়ে অনুষ্ঠিত হয়, যা ‘গায়েহলুদ’ নামে পরিচিত। তবে সাম্প্রতিককালে অনেকেই মেহেদি নাইটকে হলুদের থেকে আলাদা করে স্বতন্ত্র ও পরিকল্পিত ইভেন্ট হিসেবে পালন করছেন। এই স্বতন্ত্র অনুষ্ঠানে বাঙালি ঐতিহ্যবাহী গান যেমন লোকসংগীত বা রবীন্দ্রসংগীত, আধুনিক হিন্দি এবং বাংলা গানের সঙ্গে ফিউশন হয়ে একটি নতুন সংগীতময় অভিজ্ঞতা তৈরি করে। ফলে অনুষ্ঠানটি শুধু কনের হাতের মেহেদি প্রদর্শনের স্থান নয়, বরং সাংস্কৃতিক, নান্দনিক ও বিনোদনমূলক একটি উৎসবে রূপান্তরিত হচ্ছে।

আলপনা ও লোকশিল্প

বাঙালির মেহেদি নাইট শুধু হাতে মেহেদি লাগানোর অনুষ্ঠান নয়, এটি একটি রঙিন উৎসব যেখানে ঐতিহ্যবাহী আলপনা ও লোকশিল্পের মোটিফগুলো সাজসজ্জায় প্রাণের সঞ্চার করে। মেঝেতে আঁকা সুন্দর আলপনা নকশা, অনুষ্ঠানস্থলকে একটি ঐতিহ্যময় পরিবেশে রূপান্তরিত করে।

এ ছাড়া মাটির পাত্রে ফুল সাজানো, বাঁশের ঝুড়ি বা হাতে বোনা কারুকাজ, লোকশিল্পের বিভিন্ন উপাদান যেমন নকশিকাঁথা বা পটচিত্রের অনুপ্রেরণায় তৈরি ডেকোরেশন সব মিলিয়ে মেহেদি নাইটকে বাঙালি সংস্কৃতির একটি জীবন্ত প্রদর্শনীতে পরিণত করে।

কনের সাজগোজেও এই ঐতিহ্যের স্পর্শ অপরিহার্য। ঐতিহ্য অনুসারে হলুদ রঙের শাড়ি তো আছেই, কিন্তু আজকাল লাল বা সবুজ রঙের লেহেঙ্গা-চোলি বা শাড়ির সঙ্গে আলপনা-অনুপ্রাণিত ব্লাউজ বা গয়না ব্যবহার হয়ে উঠেছে জনপ্রিয়। এতে কনে দেখতে হয় আরও উজ্জ্বল, প্রাণোচ্ছল এবং নিজের সাংস্কৃতিক শিকড়ের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।

ছবি : পিন্টারেস্ট

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা