প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬:৫৭ পিএম
আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭:০২ পিএম
দীর্ঘদিন ধরে জিমেইল ঠিকানাকেই ব্যবহারকারীর স্থায়ী ডিজিটাল পরিচয় হিসেবে ধরা হতো। একবার যে নাম দিয়ে ইমেইল অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে, সেটিই হয়ে উঠত আজীবনের পরিচয়-পরিবর্তনের কোনো সুযোগ ছিল না। ব্যক্তিগত বা পেশাগত জীবনে নামের পরিবর্তন হলেও জিমেইল ঠিকানা বদলানো যেত না। তবে এই দীর্ঘদিনের নিয়মে বড় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে টেক জায়ান্ট গুগল। এমনটাই জানিয়েছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
গুগল জানিয়েছে, তারা এমন একটি নতুন ফিচার চালুর পরিকল্পনা করছে, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা ‘@gmail.com’ দিয়ে শেষ হওয়া ইমেইল ঠিকানাও পরিবর্তন করতে পারবেন। এত দিন এই সুবিধা শুধু তৃতীয় পক্ষের ইমেইল (যেমনÑ ইয়াহু বা আউটলুক) দিয়ে তৈরি গুগল অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে সীমিত ছিল। কিন্তু জিমেইল ব্যবহারকারীদের জন্য এটি একেবারেই নতুন সুযোগ।
নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন জিমেইল ঠিকানা নির্বাচন করতে পারবেন। বিশেষ করে যারা ছোটবেলায় বা অনানুষ্ঠানিক নামে জিমেইল অ্যাকাউন্ট খুলেছিলেন তাদের জন্য এটি অত্যন্ত কার্যকর হবে। পেশাগত জীবনে প্রবেশের পর অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে ইমেইল ঠিকানা পরিবর্তনের প্রয়োজন অনুভব করলেও উপায় না থাকায় বাধ্য হয়ে পুরনো ঠিকানাই ব্যবহার করে আসছিলেন।
গুগলের তথ্যমতে, নতুন ঠিকানা নেওয়ার পর পুরনো জিমেইল ঠিকানাটি পুরোপুরি বাতিল হয়ে যাবে না। বরং সেটি ‘এলিয়াস’ হিসেবে কাজ করবে। অর্থাৎ ব্যবহারকারীরা পুরনো ও নতুনÑ দুই ঠিকানাতেই গুগলের বিভিন্ন সেবায় সাইন ইন করতে পারবেন। পাশাপাশি পুরনো ঠিকানায় পাঠানো ইমেইলও আগের মতোই ইনবক্সে পৌঁছাবে। এতে যোগাযোগে কোনো বিঘ্ন ঘটবে না।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ইমেইল ঠিকানা পরিবর্তন হলেও ব্যবহারকারীর কোনো তথ্য হারাবে না। পুরনো ঠিকানার সঙ্গে সংযুক্ত ইমেইল, ছবি, ফাইল, বার্তা কিংবা অন্যান্য গুগল ডেটা সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকবে। ফলে নতুন ঠিকানায় যাওয়ার সময় আলাদা করে ডেটা স্থানান্তরের ঝামেলা পোহাতে হবে না।
তবে এই সুবিধা এখনও সবার জন্য চালু করা হয়নি। গুগলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধাপে ধাপে এটি চালু করা হবে। ধারণা করা হচ্ছে, চলতি বছর থেকে আরও বেশি ব্যবহারকারী এই সুবিধা পেতে পারেন। যদিও এখন পর্যন্ত গুগল এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো বৈশ্বিক সময়সূচি প্রকাশ করেনি।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি জিমেইলের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। এর ফলে নতুন অ্যাকাউন্ট খোলার প্রয়োজন কমবে এবং ব্যবহারকারীরা সহজেই নিজেদের ডিজিটাল পরিচয় হালনাগাদ করতে পারবেন। ডিজিটাল যুগে ব্যক্তিগত পরিচয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর পথে এটি গুগলের একটি বড় পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন তারা।