রাফিয়া তাহসিন ইথিকা
প্রকাশ : ০১ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬:০৫ পিএম
আঁকা : মেহেরুন্নিসা, অষ্টম শ্রেণি, রানী নীহার দেবী সরকারি উচ্চবিদ্যালয়, মানিকছড়ি, খাগড়াছড়ি
ছোট্ট মেয়ে মিলি। বয়স ৭ বছর। মা-বাবার সঙ্গে শহরে থাকে সে। বড় হয়েছে শহরেই, গ্রামের পরিবেশের ছোঁয়া খুব একটা সে পায়নি বললেই চলে। গ্রামে থাকে তার দাদা-দাদি, চাচা-চাচি আর চাচাত ভাই-বোন। কিছুদিন পরই নতুন বছর শুরু হতে চলেছে।
শহরে থাকার কারণে থার্টিফার্স্ট নাইটের ধারণা মিলির মাথায় খুব ভালোভাবেই সেঁটে আছে। প্রতি বছর এই একই রকম উদযাপন তার আর ভালো লাগে না। এক দিন সে তার বাবার কাছে বায়না করল এবার দেশের বাইরে গিয়ে নতুন বছর উদযাপন করবে, সে টিভিতে দেখেছে অন্য দেশগুলোয় থার্টিফার্স্ট নাইটে থাকে জমকালো আয়োজন। তার বাবা হাসিমুখে বললেন, ‘নিশ্চয়ই মা, কিন্তু নিজের দেশকে ভালোমতো না চিনে অন্য দেশে গিয়ে উদযাপন করলে তুমি কোথায় দেশের নাগরিক হলে? তুমি তো শহরে থাক। গ্রামে কীভাবে নতুন বছর পালন করা হয় জানতে ইচ্ছে করে না?’ মিলি বলল, ‘খুব করে বাবা। তাহলে চলো না এবার আমরা সবাই গ্রামে গিয়ে দাদা-দাদিদের সঙ্গে নতুন বছর উদযাপন করি।’ বাবা বললেন, ‘এইতো আমি এটাই বোঝাতে চাইছিলাম আমার মেয়েকে। তাহলে আমরা আগামীকাল রওনা দেব।’ মিলি খুশিতে আত্মহারা হয়ে উঠল। পরদিন তারা পৌঁছে গেল তাদের গ্রামের বাড়িতে। মিলির কাছে এ যেন এক নতুন রাজ্য। শহরের মতো এত যানবাহন নেই, কোলাহল নেই, কী শান্তি! চারদিকে সবুজের কী লীলা! দুপুর বেলা তার মা, দাদি এবং চাচি বসলেন পিঠা বানাতে। মিলির প্রথমবার ঢেঁকির সঙ্গে সাক্ষাৎ হলো, চাল ভাঙানোর যন্ত্র শহরে অহরহ, কাজও দ্রুত হয়। তবুও সবাই কী আনন্দের সঙ্গে ঢেঁকিতে চাল ভাঙছে। রাতে শুরু হবে থার্টিফার্স্ট নাইটের অনুষ্ঠান। মিলি উঠোনে গিয়ে দেখল সবাই একসঙ্গে গোল হয়ে বসে রয়েছে। সঙ্গে আছে পিঠাপুলি আরও মজার মজার সব খাবার। এমন আয়োজন সে আগে কখনও দেখেনি। সে চুপিচুপি তার চাচাত বোনকে জিজ্ঞেস করল, ‘আপু, সবাই এভাবে বসে আছে কেন? তোমরা আতশবাজি, ফানুস কিনে আননি?’ মিলির কথায় একটু হেসে তার আপু বলল, ‘নারে। আমাদের গ্রামে ওসব আতশবাজি, ফানুস ওড়ানো হয় না। কারণ আমরা কখনোই গ্রামের শান্তিময় পরিবেশ নষ্ট করতে চাই না। একটু পরেই গানের আসর বসবে, তাই সবাই গোল হয়ে বসে আছে। চলো আমরাও যাই ওখানে।’ মিলি যেন প্রতিটা মুহূর্তে অবাক হয়ে যাচ্ছে। এখানে নতুন বছরের আয়োজন শহরের পুরো উল্টো। রাত ১২টা বাজার সঙ্গে সঙ্গে সবাই একে অপরকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানাল, একসঙ্গে খাবার খেল, নতুন বছরকে উদ্দেশ্য করে প্রত্যেকে তাদের প্রত্যাশার কথা ব্যক্ত করল। মিলি শুধু ভাবছে শহরে ১২টা বাজলেই এত আওয়াজ হতো চারদিকে, যেন কানেরই ১২টা বেজে যেত। অথচ গ্রামে কী শান্তির সঙ্গে সবাই নতুন বছরকে স্বাগত জানাচ্ছে। মিলি তার বাবাকে গিয়ে বলল, ‘বাবা এরপর থেকে প্রতি বছর আমরা গ্রামে এসে নতুন বছর উদযাপন করব। এত সুন্দর গ্রাম থাকতে দেশের বাইরে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।’ তার বাবা খুশি হয়ে বললেন, ‘ঠিক আছে মা। তাই হবে।’ মিলি খুশির চোটে দুটো পাটিসাপ্টা তার মুখে পুরে নিল।
দশম শ্রেণি, সরকারি প্রমথনাথ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, রাজশাহী