× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

শীতে শিশুদের সর্দি-কাশি

সায়েরা জাহান সুপ্রি

প্রকাশ : ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৩:২৭ পিএম

শীতে শিশুদের সর্দি-কাশি

শীত পড়তে শুরু করলেই অনেক বাবা-মায়ের দুশ্চিন্তা বেড়ে যায়। বিশেষ করে শিশুদের নিয়ে। সকালবেলা নাক বন্ধ, হালকা জ্বর, খাওয়ায় অনীহাÑ এসব যেন শীতের নিয়মিত সঙ্গী।  এ সময়ে নিউমোনিয়া, হাঁপানির অ্যাটাক বা শ্বাসকষ্টের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। তাই আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন ও প্রস্তুত থাকাটাই সবচেয়ে জরুরি।

কেন শীতে শিশুরা বেশি অসুস্থ হয়
শীতকালে বাতাসে আর্দ্রতা কমে যায়। ফলে নাক ও গলার ভেতরের স্বাভাবিক সুরক্ষামূলক আবরণ শুকিয়ে যায়, যা ভাইরাসের আক্রমণ সহজ করে তোলে। ঠান্ডার কারণে শিশুরা বেশি সময় ঘরের ভেতরে থাকে, জানালা-দরজা বন্ধ থাকে, বাতাস চলাচল কমে যায়। এই বদ্ধ পরিবেশে একজনের হাঁচি-কাশি সহজেই অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। আবার শিশুদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা পুরোপুরি শক্তিশালী না হওয়ায় তারা দ্রুত সংক্রমিত হয়।


শীতের সকালে শিশুর যত্ন কেন বেশি গুরুত্বপূর্ণ
শীতে সবচেয়ে কষ্ট হয় সকালের দিকে, বিশেষ করে ছোট শিশুদের। রাতে শরীর ঠান্ডা থাকে, সকালে হঠাৎ ঠান্ডা বাতাসে নাক বন্ধ হয়ে যায়, কাশি বাড়ে। তাই সকাল শুরুটা যত্নে হলে সারা দিনটাই শিশুর জন্য আরামদায়ক হয়।ঘুম থেকে তোলার আগে ঘরের তাপমাত্রা একটু আরামদায়ক করুন। হিটার ব্যবহার করলে তা কখনোই শিশুর দিকে সরাসরি রাখবেন না। মুখ-নাক ঢেকে না রেখে বরং গলা ও বুক উষ্ণ রাখাই বেশি জরুরি। হালকা উলের সোয়েটার বা থার্মাল পোশাক যথেষ্ট।সকালে কুসুম গরম পানি দিয়ে শিশুর মুখ ও হাত ধুয়ে দিলে ঠান্ডা কম লাগে, নাক বন্ধ হওয়ার প্রবণতাও কমে। যেসব এলাকায় শৈত্যপ্রবাহ বেশি, সেখানে সোয়েটারের সঙ্গে মোজা ও টুপি ব্যবহার করা যেতে পারে, এতে শরীরের তাপ বেরিয়ে যাওয়ার হার কমে।

খাবার ও পানি
শীতে শিশুরা স্বাভাবিকভাবেই কম পানি খেতে চায়। কিন্তু পর্যাপ্ত পানি না পেলে কাশি ও কফ বেড়ে যায়। তাই বারবার অল্প অল্প করে পানি খাওয়ানোর অভ্যাস করান। সকালের খাবার খুব গরম নয়, হালকা উষ্ণ হওয়া ভালো। ওটস, সুজি, খিচুড়ি বা ডিমের কুসুমÑ এসব সহজপাচ্য ও পুষ্টিকর।সকালের নরম রোদে ১০-১৫ মিনিট শিশুকে রাখলে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং শিশুর মেজাজও ভালো থাকে।

ঘরে বসে সর্দি-কাশির যত্ন
শিশুদের বেশিরভাগ সর্দি-কাশিই ভাইরাসজনিত, তাই অ্যান্টিবায়োটিক সাধারণত প্রয়োজন হয় না। পর্যাপ্ত বিশ্রাম, তরল খাবার এবং নাক পরিষ্কার রাখা- এই তিনটিই সবচেয়ে কার্যকর।নাক বন্ধ থাকলে স্যালাইন নেজাল ড্রপ ব্যবহার করা যেতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে নেজাল অ্যাসপিরেটর সহায়ক। গরম জলের ভাপ নাকের বন্ধভাব কমাতে সাহায্য করে, তবে খুব সতর্ক থাকতে হবে যেন গরম জল শিশুর গায়ে না লাগে। এক বছরের বেশি বয়সি শিশুদের ক্ষেত্রে হালকা গরম পানিতে সামান্য মধু ও আদার রস দেওয়া যেতে পারে। তবে এক বছরের কম বয়সি শিশুকে কখনোই মধু দেওয়া উচিত নয়।

খোকন মেমোরিয়াল হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার সুমাইয়া জামান বলেন, শিশুদের ঠান্ডা যেন না লাগে সেজন্য ঘরের বাইরে যতটা সম্ভব কম বের করা উচিত। বের হওয়ার আগে অবশ্যই শীতের কাপড়, টুপি, মোজা পরিয়ে নিতে হবে। ঠান্ডা বা জ্বর লেগে গেলে অনেকেই ডাক্তারের কাছে না গিয়ে ফার্মাসি থেকেই ওষুধ কিনে নিয়ে খাইয়ে দেন, যেটা শিশুর জন্য মটেও নিরাপদ নয়। চিকিৎসক সব সময় শিশুর বয়স ও ওজন অনুযায়ী ওষুধ প্রেসক্রাইব করেন। তাই জ্বর, ঠান্ডা যদি বেশিদিনে না সারে তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। শীতের সময় তেমন পিপাসা লাগে না বলে শিশুরা পানি কম খায়। এতে তারা ডিহাইড্রেশনে ভুগতে পারে, দেখা দিতে পারে ডায়রিয়া। তাই শিশুদের পর্যাপ্ত লিকুইড যেমন- পানি, স্যুপ খাওয়াতে হবে। ভাজাপোড়া খাওয়ানো যাবে না।  

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা