কুইনস কমনওয়েলথ রচনা প্রতিযোগিতা
জাহিদ খান
প্রকাশ : ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ ১১:২৭ এএম
কুইনস কমনওয়েলথ রচনা প্রতিযোগিতা-২০২৫-এ স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জসহ সাতটি অ্যাওয়ার্ড জিতে নিয়েছে গ্লেনরিচ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, উত্তরার শিক্ষার্থীরা। এ বছরের প্রতিযোগিতায় কমনওয়েলথের ৫৪টি দেশের মোট ৫৩,৪৩৪ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে, যা আন্তর্জাতিক এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের নতুন মাইলফলক। বিশ্বের সবচেয়ে পুরনো ও মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক এ প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের অসাধারণ এ সাফল্য উদযাপন করেছে স্কুলটি।
প্রতিযোগিতায় গ্রেড-৯-এর শিক্ষার্থী আনা তাসনুভা, গ্রেড-১০-এর আরিশা আহমেদ রায়না এবং গ্রেড-১১-এর মো. ফারজান আলি লেখার ক্ষেত্রে অনন্য প্রতিভার জন্য স্বর্ণপদক জিতে নেয়। অন্যদিকে রৌপ্যপদক অর্জন করেছে গ্রেড ৬-এর উমাইযা শামস ও গ্রেড ৯-এর কাজী আফসান রওনাক আনান। আর ব্রোঞ্জপদক জিতে নেয় গ্রেড ৭-এর শিক্ষার্থী আনজার সাইফান এবং মো. ফাইজান আলি।
শিক্ষার্থীদের এই সাফল্য যেমন তাদের কঠোর পরিশ্রমের ফল, তেমনি স্কুলের অঙ্গীকারেরও প্রমাণ। শিক্ষার্থীদের স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে, ভাবনার প্রকাশে ও নেতৃত্বদানে সক্ষম করে তুলতে নিবেদিতভাবে কাজ করছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। এদিকে রাজশাহীর কলেজশিক্ষার্থী ঔড়ব আজাদ (১৭) জিতেছে ‘দ্য কুইন’স কমনওয়েলথ এসেই কম্পিটিশন ২০২৫’-এর সিলভার অ্যাওয়ার্ড। ঔড়ব রাজশাহী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের (ইংরেজি ভার্সন) একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। ঔড়বের লেখার বিষয় ছিল, বাংলাদেশ অথবা অন্য কোনো কমনওয়েলথভুক্ত দেশের মধ্যে থাকা লোককাহিনী চমকপদ কায়দায় লেখা। এ ক্ষেত্রে ঔড়ব বাল্মীকির মহাকাব্য ‘রামায়ণের’ শকুন চরিত্র জটায়ু ও প্রচলিত আরও কিছু বীরোচিত গল্পের অনুপ্রেরণা থেকে এই রচনা লিখেছে। জটায়ু রাবণের হাত থেকে সীতাকে রক্ষা করতে জীবন দেয়। লেখক নিজেকে শকুনছানা চরিত্র কল্পনা করে লিখেছে এবং মানুষের মধ্যে ধর্ম নিয়ে বিভেদের সমালোচনা করেছে।
পুরস্কারের বিষয়ে ঔড়ব বলে, ‘কমনওয়েলথ কর্তৃপক্ষ অফিসিয়াল ই-মেইলে আমাকে পুরস্কারের কথা জানিয়েছে। সনদও পাঠিয়েছে। গত মে মাসে আমি রচনাটি জমা দিই।’ মানুষে মানুষে ভেদাভেদের প্রসঙ্গে ঔড়ব বলে, মানুষ নিজেরা নানা উপাদানÑ পোশাকের রঙ, উপাসনালয়, রাজনৈতিক মতাদর্শ- এসব দিয়ে বিভেদ তৈরি করে। কখনও তা সংঘাতে, এমনকি দাঙ্গায় রূপ নেয়। কিন্তু শকুনছানার চোখে এসব ভেদাভেদ নেই। মানুষকে যদি সেই শিশুর চোখে দেখা যায়, পৃথিবী শান্ত হবে।
কুইনস কমনওয়েলথ এসেই কম্পিটিশন বিশ্বের সবচেয়ে পুরনো আন্তর্জাতিক স্কুলভিত্তিক লেখালেখির প্রতিযোগিতা। এটি ১৮৮৩ সাল থেকে রয়্যাল কমনওয়েলথ সোসাইটি ধারাবাহিকভাবে আয়োজন করে আসছে। প্রতিবছর প্রতিযোগিতার থিম নির্ধারিত হয় কমনওয়েলথের মূল্যবোধ ও নীতিমালা থেকে। এটি তরুণদের পরিবেশ, বৈষম্য, যুব নেতৃত্বÑ এ ধরনের সমসাময়িক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে ভাবতে উৎসাহিত করে। যাতে তারা উদার দৃষ্টিভঙ্গি ও সহমর্মী মনোভাব গড়ে তুলতে পারে।
এ বছর কমনওয়েলথের ৫৬টি সদস্য দেশ থেকে মোট ৫৩ হাজার ৪৩৪টি প্রবন্ধ জমা পড়ে। এটি গত বছরের তুলনায় ৫৩ শতাংশ বেশি। কুইনস কমনওয়েলথ রচনা প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ইংল্যান্ড ভ্রমণের সুযোগ পাওয়া যায়। এই সৃজনশীল রচনা লেখা তরুণদের অর্জন ও কৃতিত্বকে স্বীকৃতি দেওয়ার এবং তাদের কণ্ঠকে উন্নত করা ও দক্ষতা বিকাশের একটি উপায়। ৬৫টি দেশের স্বেচ্ছাসেবী নেটওয়ার্ক কমনওয়েলথের এই রচনা প্রতিযোগিতায় দুটি ক্যাটাগরিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকে। প্রতিটি ক্যাটাগরি থেকে দুজন করে মোট চারজন অংশগ্রহণকারী পান এক সপ্তাহের জন্য ইংল্যান্ড ভ্রমণ করার সুযোগ। লন্ডনের রয়্যাল প্যালেসে একটি বিশেষ পুরস্কার বিতরণীতে অংশ নিতে পারবেন জয়ীরা। এই বিশেষ পুরস্কার বিতরণীতে সার্টিফিকেট, গোল্ড, সিলভার ও ব্রোঞ্জপদক প্রদান করা হবে। এই রচনা লিখতে কোনো বিশেষ কিংবা শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই। রচনা লিখতে হয় ইংরেজিতে। জুনিয়র ও সিনিয়র ক্যাটাগরির জন্য আলাদা আলাদা টপিকের ওপর রচনা লিখতে হয়। একজন সর্বোচ্চ একটি টপিকের ওপরই রচনা লিখতে পারে। রচনার টাইটেল, বাচনভঙ্গি, শব্দচয়নÑ নিজের মতো করে লিখতে পারে। জুনিয়র ক্যাটাগরির জন্য রচনা সর্বোচ্চ ৭৫০ শব্দের হতে হয়, সিনিয়র ক্যাটাগরির জন্য ১৫০০ শব্দের।