চম্পক কুমার, জয়পুরহাট
প্রকাশ : ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৩:২৮ পিএম
একসময়ের শখের ফসল ‘পানিফল’ এখন জয়পুরহাটের কৃষকদের কাছে ‘সোনার ফল’ হয়ে উঠেছে। নিচু জমিতে ধান চাষের বিকল্প হিসেবে এই জলজ ফল চাষ করে অল্প খরচেই বিপুল লাভের মুখ দেখছেন এ জেলার চাষিরা। ফলন ও দামে খুশি চাষিদের কাছে এটি এখন লাভজনক মৌসুমি ফসল।
কৃষি বিভাগ বলছে, এ জেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৩০ হেক্টর জমিতে এই মৌসুমে পানিফলের চাষ হয়েছে। সরেজমিনে সদর উপজেলার গতনশহর এলাকায় দেখা যায়, নিচু জলাভূমিতে পানিফলের চাষ হয়েছে। চাষিরা পানিফল উত্তোলন করে সড়কের পাশে বসে ক্রেতাদের হাঁকডাক করে বিক্রি করছেন।
সেখানকার চাষিরা জানিয়েছেন, এই ফলকে বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন নামে ডাকে। কেউ পানিফল, পানি শিঙাড়া, শিংড়া, শিংগাইর বা হিংগাইর বলে। এই ফল চাষ পদ্ধতি বেশ সহজ। সাধারণত চৈত্র-বৈশাখ মাসে জলাশয়ে চারা রোপণ করা হয়। আর আশ্বিন-কার্তিক মাস থেকে ফল সংগ্রহ শুরু হয়। এই চাষে সার ও কীটনাশক লাগে খুবই কম। প্রতি বিঘা জমিতে পানিফল চাষে খরচ হয় গড়ে ৭ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা। আর ফলন ভালো হলে প্রতি বিঘা থেকে কৃষক বিক্রি করেন ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। এতে তাদের প্রায় ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা আয় হয়। স্বল্প খরচে ভালো লাভ হওয়ায় এটি এখন লাভজনক মৌসুমি ফসল হিসেবে জনপ্রিয় হচ্ছে।
-69425b7a2e06d.jpg)
পানিফল চাষি মো. আজাদ বলেন, ‘এই জমিগুলোতে পানি বেশি থাকে। এজন্য ধান আবাদ হয় না। তাই পানিফল আবাদ করি। এই ফল চাষে লাভ আসে। বিঘায় ৪০ থেকে ৫০ মণ হয়। ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা মণ বিক্রি করি। তাতে ধানের থেকে বেশি লাভ হয়।’
দেড় বিঘা জমিতে পানিফল চাষ করেছেন মাইনুল ইসলাম। তিনি বলেন, এই ফসল খুব লাভজনক। খরচ যা হয় তার তুলনায় লাভই বেশি। আর আমরা গতনশহর রাস্তার পাশে কয়েকজন কৃষক মিলে প্রতিদিন ২৫-৩০ মণ পানিফল বিক্রি করি। খুচরায় হাতে বিক্রি করি, এ ছাড়া পাইকারিতেও বিক্রি করা হয়।
সেলিম হোসেন নামে আরেক চাষি বলেন, আমার সাড়ে পাঁচ বিঘা জমি আছে। জমিতে এক কোমড় পানি থাকে, আমন ধান লাগানো যায় না। এজন্য আমরা পানিফল চাষ করি। এখানে সর্বোচ্চ খরচ ১২ হাজার হয়, কিন্তু এত খরচ হবেই না, কমই খরচ হয়। আর বিঘায় ৩০ হাজার থেকে ৪৫ হাজার টাকা বিক্রি করা হয়।
গতনশহর এলাকার রাস্তার পাশে ৩০ টাকা কেজিতে এক কেজি পানিফল কেনেন মো. হানিফ। তিনি বলেন, প্রতি বছর এখানে পানি শিঙাড়া এখানে চাষ হয়। রাস্তার পাশে আমরা পাই। খুবই সুস্বাদু, আমরা কিনে নিয়ে গিয়ে খাই। খুবই ভালো।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক একেএম সাদিকুল ইসলাম বলেন, এ জেলায় আনুমানিক ৩০ হেক্টর জমিতে পানিফল চাষ হচ্ছে। এটা একসময় সৌখিন পর্যায়ে ছিল, মানুষ ৫-১০ হেক্টর জমিতে চাষ করত। কিন্তু এখন বাণিজ্যিকভাবে আবাদ হচ্ছে। এটি লাভজনক হওয়ায় কৃষক ভাইয়েরা খরচ করে উৎপাদন এবং বিক্রি করছেন।