× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

শান্তিপুরের শান্ত ছেলে

তৌকির মুহাইমিন

প্রকাশ : ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৫:৩৯ পিএম

অলংকরণ : মরিয়ম কবীর ইশা,  পঞ্চম শ্রেণি, আজিমপুর গভর্নমেন্ট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা

অলংকরণ : মরিয়ম কবীর ইশা, পঞ্চম শ্রেণি, আজিমপুর গভর্নমেন্ট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা

১৯৭১ সাল। শান্তিপুর গ্রামের সবাই মিলেমিশে সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে বসবাস করতেন। কিন্তু সবাই দেশ নিয়ে ছিল চিন্তিত। কেননা এর মধ্যে দেশে শুরু হয়ে গেল যুদ্ধ। গ্রামের বেশিরভাগ যুবক এবং মধ্য বয়সি পুরুষ মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। এজন্য তারা গ্রাম থেকে দূরে চলে গেলেন। গ্রামে বেশিরভাগ বাড়িতেই শুধু নারী, শিশু ও বৃদ্ধরাই ছিলেন।

সবাই আতঙ্কিত। গ্রামের শান্ত ছেলে রাজু সবাইকে সাহস জোগাত। সে বলত আমরা একদিন স্বাধীন হব। সব মুক্তিযোদ্ধা একদিন গ্রামে ফিরে আসবে। আমরা স্বাধীনভাবে বসবাস করব।

হঠাৎ একদিন গ্রামবাসী শুনতে পেল যে তাদের গ্রামে আজ রাতে পাকিস্তানি বাহিনী আক্রমণ চালাবে। সবাই ভয়ে গ্রাম ছাড়ার কথা চিন্তা করছিল। এমন সময় রাজু সবাইকে গ্রাম না ছেড়ে তাদেরকে মোকাবিলা করার কথা বলে। এতে মুরব্বিরা রাজুকে অনেক বকাঝকা করেন। কারণ গ্রামে এখন কোনো যুবক পুরুষ নেই। নারী, শিশু এবং বৃদ্ধ। তখন রাজু সবাইকে একটা বুদ্ধি দেয়। এতে সবাই রাজি হয়ে যায়। তারা কেউ গ্রাম ছেড়ে চলে যায় না।

তারা বিভিন্ন জায়গায় অনেক বড় এলাকা গর্ত করে সেখানে জাল দিয়ে ওপরের অংশ আবার মাটির রাস্তার মতো বানিয়ে রাখে। রাতে পাকিস্তানি বাহিনী এলে তারা ফাঁদের অন্য পাশ থেকে মোমবাতি জ্বালিয়ে রাখে। পাকিস্তানি বাহিনী তাদের দিকে আক্রমণ করতে গেলে সবাই গর্তে পড়ে যায়। তখন গ্রামবাসী তাদের চারদিক দিয়ে ঘিরে ফেলেন তাদের সব অস্ত্র নিয়ে তাদেরকে মেরে ফেলে। এভাবে তারা শান্তিপুর গ্রামকে মুক্ত করে।

তারপর তারা সবাই তাদের গ্রামের মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন। রাজু এখন নিজেও মনোবল হারিয়ে ফেলেছে। সে তার বাবার জন্য কান্না করতে থাকে। কারণ তার বাবাও যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে গিয়েছেন। তখন রাজুর মা রাজুকে সাহস দেযন। এভাবে দেখতে দেখতে ১৬ ডিসেম্বর চলে আসে। দেশ বিজয় লাভ করে। গ্রামের মুক্তিযোদ্ধারা গ্রামে ফিরে আসতে শুরু করেছেন। রাজু আর তার মা অপেক্ষা করছে রাজুর বাবার জন্য। হঠাৎ দেখে অনেক দূরে আহত অবস্থায় তার বাবা আসছেন। রাজু দৌড়ে তার বাবার কাছে যায় এবং জড়িয়ে ধরে।

কিন্তু তাদের গ্রামের অনেক মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হয়েছেন। রাজুসহ গ্রামের সবাই মিলে তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ায়। তখন থেকে প্রতি ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে তারা স্মৃতিসৌধে যায় এবং শহীদ যোদ্ধাদের সম্মান জানায়। সবাইকে বলে ১৬ ডিসেম্বর আমরা একটা স্বাধীন ভূখণ্ড পেয়েছি, একটা স্বাধীন পতাকা পেয়েছি, একটা স্বাধীন দেশ পেয়েছি। এ দেশের স্বাধীনতা রক্ষার দায়িত্ব আমাদের।

পঞ্চম শ্রেণি, বরিশাল জিলা স্কুল


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা