প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ ১২:৫৭ পিএম
নতুন বাসা সাজানোর নানা পরিকল্পনা করে, তবেই যাওয়া হয় ফার্নিচারের দোকানে। আবার উৎসবসহ বছরের যেকোনো সময়ে পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনে হোক বা ঘর সাজানোর আয়োজন, সেখানেও দরকার পড়ে নতুন ফার্নিচার কেনা।
কারণ যেটাই হোক না কেন, ফার্নিচার যে মুহূর্তেই ঘরের পরিবেশ বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে; সে কথা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। নতুন ফার্নিচার কেনাকে এক ধরনের ইনভেস্টমেস্টই বলা চলে, খরচ ও ঘরের সৌন্দর্য, সঙ্গে জায়গার ফাংশনালিটি মিলিয়ে। ফার্নিচার শুধু কিনে নিয়ে এলেই হয় না, খেয়াল রাখতে হয় আরও কয়েকটি বিষয়ে। চলুন জেনে নেওয়া যাক নতুন ফার্নিচার কেনার আগে কোন বিষয়গুলোয় খেয়াল রাখবেন-
প্রয়োজনীয়তা
যেকোনো ফার্নিচার কেনার আগে সবার আগে বুঝতে হবে সেই জিনিসটা আপনার কতটুকু প্রয়োজন। আপনি কি লিভিং রুমের জন্য নতুন কাউচ কিনবেন? হোম অফিসের জন্য কমফোর্টেবল ডেস্ক চেয়ার কিনবেন? ডিনার পার্টির জন্য স্টাইলিশ ডাইনিং টেবিল কিনবেন? নাকি সন্তানের পড়ালেখার জন্য টেবিল চেয়ার কিনবেন? আগে ঠিক করুন কোন উদ্দেশ্যে আপনি দোকানে এসেছেন। প্রয়োজনের অতিরিক্ত জিনিস কেনা থেকে যতটুকু সম্ভব বিরত থাকুন।
জায়গা সম্পর্কে জানা
ফার্নিচার কেনার আগে জায়গা সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে ও বুঝে নিন। যখনই আপনি বেডসাইড টেবিল বা সোফা সেট কিনবেন, সেটা আপনার রুমের সঙ্গে কতটুকু মানানসই বুঝুন। যদি জায়গা কম হয় এবং ফার্নিচার বড় হয়, তখন রুম দেখতে আনব্যালান্সড লাগবে। মার্কেটে যাওয়ার আগে জায়গার মাপ নিয়ে নিন।
মানসম্পন্ন কি না নিশ্চিত হওয়া
যেকোনো ফার্নিচার কেনার আগে সেটি মানসম্পন্ন কি না এ বিষয়ের দিকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। দামে কম অথচ স্থায়িত্ব কমÑ এমন ফার্নিচার হলে দেখতে যত সুন্দরই হোক না কেন, কোনো কাজেই আসবে না। উন্নত মানের কাঠ ও লেদারের জিনিস ভালো কারিগর দিয়ে বানিয়ে নিলে দীর্ঘদিন ফার্নিচার টেকসই থাকে। ফার্নিচারের জয়েন্ট, ফিনিশিং, নকশা সব মিলিয়ে সেটার স্থায়িত্ব বাড়ে।
নকশা
ঘরের সৌন্দর্যবর্ধনে ফার্নিচার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আপনার ঘরের রঙ কী এবং কী ধরনের নকশা রয়েছে, সেদিক বিবেচনা করে ফার্নিচার বাছাই করুন। আসবাব কেনা মানে ঘরের বর্তমান রূপে আপনি পরিবর্তন আনতে চাচ্ছেন। তাই ঘর অনুযায়ী মডার্ন মিলিমাস্টিক লুক, রাস্টিক চিক বা ক্ল্যাসিক এলিগ্যান্সের মধ্যে যেটা ভালো লাগে সেটাই বেছে নিতে পারেন।
কমফোর্ট
কোনো আসবাব দেখতে সুন্দর মানেই সেটি আরামদায়ক নয়। বিশেষ করে সোফা, চেয়ার, বিছানা। এ ধরনের ফার্নিচার কেনার আগে মার্কেটে গিয়ে যাচাই করে নিন। সোফায় বসুন, বিছানায় শুয়ে দেখুন, ভাবুন এই আসবাবগুলো আপনাকে প্রতিদিন ব্যবহার করতে হবে, এই আরামটাই আপনি চাচ্ছেন কি না। আসবাব যদি আরামদায়ক না হয়, সেক্ষেত্রে ব্যাকপেইন, ঘুমের সমস্যার মতো বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হতে পারে।
ফ্লেক্সিবিলিটি ও ফাংশনালিটি
বর্তমানে এমন ধরনের ফার্নিচার বাজারে এসেছে যেগুলোর মাল্টি ফাংশন রয়েছে। এগুলোতে ইনভেস্টমেন্ট করলে নানা সুযোগ মিলবে। যেমনÑ কফি টেবিলে যদি এক্সট্রা স্টোরেজ স্পেস বা সোফা বেড থাকে তাহলে মেহমানদের জন্য সুবিধা হয়। ছোট জায়গার জন্য এ ধরনের ফার্নিচারগুলো বেশি কাজে আসে।
নিউট্রাল কালার ফার্নিচার
আপনার পছন্দ বা প্রয়োজনীয়তা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলাতে পারে, তাই আসবাবও এমনভাবে বেছে নিতে হবে সময়ের সঙ্গে মানিয়ে যায়। এক্ষেত্রে নিউট্রাল কালারের ফার্নিচার বা ক্ল্যাসিক ডিজাইন সহজেই গ্রহণযোগ্য হয় উত্তরসুরিদের কাছে।
বাজেট
সবশেষে জরুরি হলো বাজেট। ফার্নিচার কেনার জন্য বাজেট আগে থেকে নির্ধারণ করে নিতে হবে। লাক্সারি আইটেম চাইলে হয়তো কেনা যায়, তবে দামি জিনিস মানেই যে সেটা ভালো- এটাও সব সময় সঠিক নয়। বাজেটের মধ্যেই মানসম্পন্ন ও দারুণ নকশার আসবাব কেনা সম্ভব। নতুন যেকোনো ফার্নিচার কিনতে গেলে হুট করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। প্রয়োজনীয়তা জেনে ও বুঝে, জায়গা সম্পর্কে জেনে, বাজেট, কোয়ালিটি, কমফোর্ট সবকিছু বিবেচনা করে কেনার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ঘরের কমফোর্ট, ফাংশনালিটি, স্টাইল সবকিছু মিলিয়ে স্মার্ট ইনভেস্টমেন্ট করাই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।