× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

‘জেসিআই তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশের বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম’

গোলাম কিবরিয়া

প্রকাশ : ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৬:০৫ পিএম

আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৬:০৫ পিএম

জেসিআই ঢাকা মেট্রোর বর্তমান লোকাল প্রেসিডেন্ট সিনেটর তৌফিক হাসান

জেসিআই ঢাকা মেট্রোর বর্তমান লোকাল প্রেসিডেন্ট সিনেটর তৌফিক হাসান

জেসিআই ঢাকা মেট্রোর ২০২৫ সালের লোকাল প্রেসিডেন্ট সিনেটর তৌফিক হাসান। সম্প্রতি তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অসাধারণ নেতৃত্ব ও অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘স্টার লোকাল প্রেসিডেন্ট অব জেসিআই বাংলাদেশ’ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। নতুন প্রজন্মকে নেতৃত্বে যুক্ত করতে জেসিআই'র  কার্যকর ভূমিকা ও নিজের পথচলা নিয়ে কথা বলেছেন প্রতিদিনের বাংলাদেশ এর সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন গোলাম কিবরিয়া

প্রশ্ন : জেসিআই ঢাকা মেট্রোর লোকাল প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর কোন লক্ষ্যগুলোকে সবচেয়ে অগ্রাধিকার দিয়েছেন?

উত্তর : আমি এ বছর জেসিআই ঢাকা মেট্রোর লোকাল প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করি। আমার মূল লক্ষ্য ছিল জেসিআই ঢাকা মেট্রোকে সর্বোচ্চ সারির লোকাল চ্যাপ্টারে নিয়ে যাওয়া। এই লক্ষ্যে আমি চ্যাপ্টারের জন্য সর্বোচ্চ সদস্য সংগ্রহ করেছি। প্রতিটি লোকাল চ্যাপ্টারের জন্য এফিসিয়েন্সি পয়েন্ট অর্জন করতে হয় সেরাদের কাতারে থাকার জন্য। সেই পয়েন্ট অর্জন করতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কিছু কর্ম সম্পাদন করতে হয়। যেমন : নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জিএমএম, প্রজেক্ট শেষ করা, ন্যাশনাল ফি প্রদান প্রভৃতি। আমরা প্রতিটি কাজ দক্ষতার সঙ্গে নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বেই সম্পন্ন করেছি।   

প্রশ্ন : নতুন প্রজন্মকে নেতৃত্বে যুক্ত করতে জেসিআই কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখছে বলে মনে করেন? 

উত্তর : জেসিআই মূলত তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশের একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম। নতুন প্রজন্মকে নেতৃত্বে যুক্ত করতে আমরা বেশ কিছু কার্যকর উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছি। প্রথমত, জেসিআই–এর বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, ওয়ার্কশপ ও লিডারশিপ ডেভেলপমেন্ট মডিউল তরুণদের নেতৃত্বগুণ, যোগাযোগ দক্ষতা ও সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা বৃদ্ধি করছে। দ্বিতীয়ত, স্থানীয় চ্যাপ্টারগুলোর মাধ্যমে যুবসমাজকে প্রকল্প পরিচালনা, টিম ম্যানেজমেন্ট ও কমিউনিটি ইমপ্যাক্ট তৈরির বাস্তব অভিজ্ঞতা দিচ্ছি, যা তাদের আত্মবিশ্বাসী নেতৃত্বে রূপান্তর করছে। তৃতীয়ত, জেসিআই নতুন প্রজন্মকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে সংযুক্ত করে একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে সহায়তা করছে—যা ভবিষ্যৎ নেতাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সব মিলিয়ে, আমি মনে করি জেসিআই তরুণদের নেতৃত্বে যুক্ত করা ও তাদের নেতৃত্বকে বিকশিত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর ও প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করছে।

প্রশ্ন : আপনার নেতৃত্বে চ্যাপ্টারের কার্যক্রমে কী ধরনের নতুনত্ব বা পরিবর্তন এনেছেন?

উত্তর : আসলে শুধু আমার নেতৃত্ব নয়, বোর্ডের সকল সদস্যকে নিয়ে চ্যাপ্টারের কার্যক্রমে নতুনত্ব বা পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেছি। ন্যাশনাল ইভেন্টে সর্বচ্চ সদস্যের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছি আমরা। এছাড়া প্রজেক্ট আইডিয়ায় নতুনত্ব ও এসডিজি লক্ষ পূরণে আমরা সচেষ্ট ছিলাম। এর আগে চ্যাপ্টারে যা হয়নি যেমন প্রতি সপ্তাহে আমরা একবার ইনফরমাল মিট-আপ করেছি। এর ফলে টিমের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বৃদ্ধি পেয়েছে, নতুন নতুন আইডিয়া শেয়ারিং হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সকল কাজ সম্পন্ন করার ফলে আমরা যে এফিসিয়েন্সি পয়েন্ট অর্জন করেছি তা আমাদের নতুনত্ব।      

প্রশ্ন : আপনার মতে, একটি প্রকল্প সফল হওয়ার প্রধান উপাদান কী?

উত্তর : আমার মতে, একটি প্রকল্প সফল হওয়ার প্রধান উপাদান হলো সুস্পষ্ট লক্ষ্য ও কার্যকর দলগত সমন্বয়। প্রথমেই প্রকল্পের উদ্দেশ্য পরিষ্কারভাবে নির্ধারণ করতে হয়—আমরা কী অর্জন করতে চাই এবং কেন। এরপর প্রয়োজন হয় দক্ষ ও প্রতিশ্রুতিশীল একটি দল, যারা নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন এবং একটি অভিন্ন ভিশনে কাজ করতে আগ্রহী। পাশাপাশি বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা, সময় ব্যবস্থাপনা, প্রয়োজনীয় সম্পদের সঠিক ব্যবহার এবং ধারাবাহিক অগ্রগতি মূল্যায়নও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সবশেষে, পরিবর্তনের সাথে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা এবং মাঠপর্যায়ের মানুষের প্রয়োজন বোঝার মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি—এই সবকিছু মিলেই একটি প্রকল্পকে সত্যিকারের সফলতা এনে দেয়।  

প্রশ্ন : জেসিআইয়ের প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়ে তরুণরা কী ধরনের দক্ষতা অর্জন করতে পারে? 

উত্তর : জেসিআইয়ের প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়ে তরুণরা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয় তাদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে। এখানে তারা নেতৃত্বগুণ, দল পরিচালনা, যোগাযোগ দক্ষতা, সমস্যা সমাধান ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্কিল অর্জন করতে পারে। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকল্প পরিচালনার মাধ্যমে তারা প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট, স্ট্র্যাটেজি তৈরি, বাজেট ব্যবস্থাপনা এবং কমিউনিটি ইমপ্যাক্ট তৈরির বাস্তব অভিজ্ঞতা পায়। আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কিংয়ের সুযোগও তাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে বিস্তৃত করে এবং বৈশ্বিক মানসিকতা গড়ে তোলে। সব মিলিয়ে, জেসিআই তরুণদেরকে একটি পূর্ণাঙ্গ ও ভবিষ্যৎ–উপযোগী নেতা হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করে।

প্রশ্ন : জেসিআইয়ের সঙ্গে আপনার পথচলা কীভাবে শুরু হয়েছিল? সেই যাত্রায় সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা কে বা কী?

উত্তর : জেসিআইয়ের সঙ্গে আমার প্রথম পথচলা শুরু হয় ২০২২ সালে জেসিআই ঢাকা ইস্টের। এরপর ২০২৩ সালে জেসিআই ঢাকা মেট্রোতে যুক্ত হই একজন জেনারেল মেম্বার হিসাবে। সে বছর আমি বিভিন্ন সেমিনার, ওয়ার্কশপে নিয়মিত যুক্ত ছিলাম। গত বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে আমাকে ডিরেক্টর হিসেবে এপয়েন্ট করা হয়। তখন জেসিআইয়ের ন্যাশনাল ইভেন্টে গিয়ে আমি দেখতে পাই সমাজের ভিন্ন স্তরের মানুষ সামাজিক কার্যক্রম করে স্বীকৃতি পাচ্ছে। তখন আমাদের বর্তমান ভিপি সে সময় আমার সঙ্গেই ডিরেক্টর হিসেবে ছিলেন। তিনি বললেন, আমরাই সামাজিক প্রজেক্ট করতে পারি যার মাধ্যমে সমাজের মানুষ উপকৃত হবে। সেই অনুপ্রেরণা থেকে আমার ভিপির সঙ্গে যৌথভাবে আমার প্রজেক্টের সূচনা হয়। আমরা বিশাল পরিসরে ফ্রি ডেন্টাল ক্যাম্পের আয়োজন করি সাভারের কাউন্দিয়া ইউনিয়নে। পুরো গ্রামবাসীকে দিনব্যাপী ডেন্টাল ক্যাম্পের মাধ্যমে বিনামূল্যে স্বাস্থসেবা দিই আমরা। সেই প্রজেক্টের পর আমার কাজের প্রতি একাগ্রতা দেখে তৎকালীন লোকাল প্রেসিডেন্ট চিন্তা করেন আমি ভবিষ্যতের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারি। এই পুরো পথচলায় আমার অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে বর্তমান ভিপি ও ২০২৬ এর নির্বাচিত লোকাল প্রেসিডেন্ট।            

প্রশ্ন : জেসিআই বাংলাদেশ ন্যাশনাল কমিটির ২০২৬-এ ন্যাশনাল ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে আপনি প্রার্থী। নির্বাচিত হলে আপনার কী ধরনের অগ্রাধিকার বা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে?

উত্তর : জেসিআই বাংলাদেশ ন্যাশনাল কমিটির ন্যাশনাল ভাইস প্রেসিডেন্টের কাজ হচ্ছে দুই-তিনটা লোকাল চ্যাপ্টারের মেন্টর হিসেবে কাজ করা। আমার লোকাল চ্যাপ্টার পেছনের সারিতে ছিল, সেই অবস্থান থেকে আজ আমার লোকাল চাপ্টারকে সামনের সারিতে নিয়ে এসেছি  আমার কাজ, নিষ্ঠা ও একাগ্রতার মাধ্যমে। জেসিআই ন্যাশনাল লিডাররা আমাকে এখন জেসিআই এর সম্পদ হিসেবে মনে করেন। আমি ন্যাশনাল ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে যে লোকাল চ্যাপ্টারের মেন্টর হবো সেই চাপ্টারকে সামনের সারিতে নিয়ে আসার জন্য কাজ করবো। এ বছর যে চ্যাপ্টারগুলো পেছনের দিকে আছে সেগুলো নিয়ে আমি কাজ করে সামনের সারিতে নিয়ে আসার জন্য সকল প্রজেক্ট, কর্মশালা, ইভেন্টে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবো। এছাড়া আমি জেসিআইয়ের সার্টিফাইড ট্রেইনার। আমি চেষ্টা করবো প্রতিটি লোকাল অর্গানাইজেশন যেন জেসিআইয়ের বেসিক ট্রেনিং জেসিআই ডিসকভার ও জেসিআই এক্সপ্লোর সঠিকভাবে করে নিজেদের দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারে।  

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা