আন্তর্জাতিক জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াড
ফারহাত মাইশা
প্রকাশ : ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ১২:১০ পিএম
২২তম আন্তর্জাতিক জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডে (আইজেএসও-২০২৫) বাংলাদেশ দল ৬টি ব্রোঞ্জপদক অর্জন করেছে। ২৫টি দেশের অংশগ্রহণে আন্তর্জাতিক এই অলিম্পিয়াডটি গত ২৩ নভেম্বর-১ ডিসেম্বর রাশিয়ার কৃষ্ণ সাগর-তীরবর্তী পর্যটন শহর সোচিতে অনুষ্ঠিত হয়। এবারও আইজেএসওতেও ৬ সদস্যের বাংলাদেশ দল অংশ নিয়ে ছয়জনই পদক অর্জনের গৌরব অর্জন করেছে।
১ ডিসেম্বর কৃষ্ণ সাগর-তীরবর্তী এক কনভেনশন হলে জমকালো অনুষ্ঠানে বিজয়ীদেরকে পদক তুলে দেওয়া হয়। বাংলাদেশের পক্ষে ব্রোঞ্জপদক অর্জন করেছে সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী আবরার জাহিন পাঠান, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী বিহান পাল, চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজের আহনাফ আহমেদ সিনান, গলগথা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী এইচএম আজিজুর রহমান আলিফ, ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাশওয়ান হক মাহির এবং যশোর পুলিশ লাইন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রুফ্ফা নূর জারিয়াহ। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের ২৫টি দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে তারা এই পদক অর্জন করেছে।
রাশিয়া থেকে বাংলাদেশ দলের দলনেতা ও বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী জানান, ‘অত্যন্ত কঠোর সাধনের পর আমাদের এই অসাধারণ সাফল্য অর্জিত হলো। আমরা খুবই আনন্দিত ও গর্ববোধ করছি। একটা সুন্দর পৃথিবীর জন্য আমরা এই অলিম্পিয়াডগুলো করছি।’ রাশিয়ায় বাংলাদেশ দলের সঙ্গে সহকারী দলনেতা হিসেবে আছেন বাংলাদেশ জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডের কো-অর্ডিনেটর মো. রেজাউল ইসলাম ও একাডেমিক কো-অর্ডিনেটর মোর্শেদা আক্তার মীম। পর্যবেক্ষক হিসেবে আছেন মুহাম্মাদ জাকারিয়া পাঠান।
বাংলাদেশ দল বাছাইয়ের আয়োজন জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডের প্রধান পৃষ্ঠপোষক আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট জালাল আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশে এ অর্জনে আমরা আনন্দিত ও গর্বিত। আশা করি, ভবিষ্যতে এই ভালো ফলাফলের ধারা অব্যাহত থাকবে। আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক এমন অর্জনের অংশ হতে পেরে গর্বিত এবং সবসময় এ টিমের সঙ্গে থাকবে, ইনশাআল্লাহ। টিমের সব সদস্য যারা সামনে ও পেছনে থেকে নিরলস ও কঠোরভাবে পরিশ্রম করেছেন সবাইকে অভিনন্দন।’ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশ দল ১০ম বারের মতো অংশ নিয়েছে। বিশ্বেরে বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিজ্ঞানের লিখিত পরীক্ষা ও সব বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষার ওপর প্রতিযোগিতা করে এই গৌরব অর্জন করেছে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা। গত ২৩ নভেম্বর শুরু হওয়া এই অলিম্পিয়াডে শিক্ষার্থীরা এমসিকিউ, থিওরি ও ব্যবহারিক অংশের পরীক্ষা দেয়। এর আগে গত ১০ বছরে বাংলাদেশ দল আইজেএসও থেকে ১৫টি রৌপ্য ও ২৪টি ব্রোঞ্জপদক অর্জন করেছিল।
এর আগে বিভিন্ন ধাপে বাছাই করে এই ছয় শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হয়েছে। চলতি বছর জুলাই মাস থেকে শুরু হয় বাংলাদেশ জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডের ১১তম আসর। আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে প্রায় ১৭ হাজার শিক্ষার্থী নিয়ে শুরু হয় অনলাইন বাছাই পর্ব। ৬টি আঞ্চলিক পর্ব, একটি ই-অলিম্পিয়াড, ১০টি উপজেলা পর্যায়ে স্কুল অলিম্পিয়াড শেষে ঢাকায় আয়োজিত হয় জাতীয় পর্ব ও ক্যাম্প। সেখান থেকে এই ছয় সদস্যের দল নির্বাচন করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, প্রতিবছর আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের পৃষ্ঠপোষকতায় আন্তর্জাতিক জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডের জন্য বাংলাদেশ দল যৌথভাবে নির্বাচন করে বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতি ও বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাউন্ডেশন। প্লাটিনাম স্পন্সর হিসেবে ছিল আইইউবিএটি। আয়োজনের সহযোগী হিসেবে ছিল রকমারি ও ম্যাসল্যাব। ম্যাগাজিন পার্টনার হিসেবে ছিল কিশোর আলো ও বিজ্ঞানচিন্তা।