হেমন্তের বিদায় ও শীতের আগমন কেবল প্রকৃতির রঙ বদল নয়, উত্তরের হিমেল হাওয়া যখন চারপাশে শীতলতার পরশ বুলিয়ে দেয়, তখন আমাদের আলমারি যেন এক নতুন উৎসবে মেতে ওঠে। উলের নরম স্পর্শ, ডাউনের (ফেদারের মতো এক ধরনের অতিরিক্ত নরম, হালকা এবং তুলতুলে ইনসুলেশন উপাদান, যা সাধারণত হাঁস বা রাজহাঁসের বুকের ভেতরের নরম পালক থেকে সংগ্রহ করা হয়।) তুলতুলে উষ্ণতা, আর চামড়ার ঘন টেক্সচার তারই সাজ। এই ঋতুতে উষ্ণতা নিশ্চিত করাই শুধু মূল চ্যালেঞ্জ নয়, একই সঙ্গে স্টাইল বজায় রেখে নিজস্ব ব্যক্তিত্বকে ফুটিয়ে তোলাও গুরুত্বপূর্ণ। শীতবস্ত্র তাই কেবল তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের একটি অনুষঙ্গ নয়; এটি হয়ে ওঠে সংস্কৃতি, বিজ্ঞান এবং শিল্পকলার এক অনন্য মিশেল। একদিকে আধুনিক থার্মাল ওয়্যার এবং সিনথেটিক ফাইবারের কার্যকারিতা যেমন অবাক করে, তেমনই অন্যদিকে কাশ্মিরি শাল বা বাংলার কাঁথা আজও তাদের আভিজাত্য এবং ঐতিহাসিক আবেদন ধরে রেখেছে।
শীত পোশাকের ইতিহাস থেকে শুরু করে ঐতিহ্যবাহী শিল্পের আধুনিক ফিউশন, চলতি ফ্যাশন ট্রেন্ড এবং শীতবস্ত্রের যত্নের খুঁটিনাটি নিয়েই আজকের ফিচার।
শীতে কেন ঠান্ডা লাগে
মানুষের স্বাভাবিক শরীরের তাপমাত্রা ৩৬.৫-৩৭.৫° সেলসিয়াস। যখন বাইরের তাপমাত্রা ১৫°-এর নিচে নেমে আসে এবং বাতাসের গতি বা আর্দ্রতা বাড়ে, তখন শরীর দ্রুত তাপ হারাতে শুরু করে। এই তাপ হারানো হয় মূলত চারভাবে :
১. কন্ডাকশন (সরাসরি স্পর্শে) : ঠান্ডা মেঝেতে বসলে বা ঠান্ডা বেঞ্চে হাত রাখলে তাপ চলে যায়।
২. কনভেকশন (বাতাসের মাধ্যমে) : ঠান্ডা হাওয়া শরীরের পাশ দিয়ে বয়ে গেলে তাপ কেড়ে নেয়।
৩. রেডিয়েশন (তাপ বিকিরণ) : শরীর সবসময় ইনফ্রারেড রশ্মি ছড়ায়। ঠান্ডা পরিবেশে এই তাপ সরাসরি হারিয়ে যায়।
৪. ইভাপোরেশন (ঘাম বা ভেজা ভাব) : ঘাম শুকালে বা ভেজা কাপড় শরীরে লাগলে তাপ কেড়ে নেয়। আমাদের দেশের শীত আর্দ্র বলে এটা বড় সমস্যা।
শীতকে রুখতে শীত পোশাকের কাজ হলো একটা ‘মাইক্রোক্লাইমেট’ তৈরি করা, যা শরীরের চারপাশে একটা উষ্ণ, শুষ্ক বাতাসের আস্তরণ হিসেবে থাকে।
কোন কাপড় কী কাজ করে
উল শীতের সেরা প্রাকৃতিক উষ্ণ উপাদান মেরিনোসহ কাশ্মিরি, পশমিনা, আলপাকা সবই দারুণ, যদিও সাধারণ উল একটু খসখসে। ডাউন ওজনের তুলনায় সবচেয়ে উষ্ণ কিন্তু ভিজে গেলে অকার্যকর, তাই এখন হাইড্রোফোবিক ডাউন জনপ্রিয়। সিনথেটিক ইনসুলেশন ভিজে গেলেও উষ্ণ থাকে, দ্রুত শুকায় এবং বাংলাদেশের আর্দ্র শীতের জন্য বেশি ব্যবহারিক। ফ্লিস মিড-লেয়ার হিসেবে ভালো, কিন্তু বাতাস ঢোকে। কটন পানি ধরে রাখে এবং আরও ঠান্ডা লাগে, তাই শীতে কটন এড়িয়ে চলাই ভালো। ডেনিম টেকসই, স্টাইলিশ এবং বহুমুখী; উইন্ডপ্রুফ এবং লেফটওভার থেকে সাসটেইনেবল। তরুণদের কাছে ফ্যাশন স্টেটমেন্ট হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।

ছবি: অন ক্লাউড নাইন এন্ড হাফ
শীত পোশাকের ঐতিহ্য ও ইতিহাস
শীতের কাপড়ের ঐতিহ্য ও ইতিহাস বিশেষ করে বাংলার প্রেক্ষাপটে খুবই সমৃদ্ধ এবং বৈচিত্র্যময়। বাংলার শীত যদিও খুব কঠিন নয়, তবুও শীতকালে উষ্ণতার জন্য যেসব বস্ত্র ও পোশাক ব্যবহৃত হয়েছে শত শত বছর ধরে, তার পেছনে রয়েছে সংস্কৃতি, অর্থনীতি, জলবায়ু ও হস্তশিল্পের এক অপূর্ব মিশ্রণ।
প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় কাল
প্রাচীন বাংলায় শীতের প্রধান উষ্ণ বস্ত্র ছিল পশমী কাপড়, রেশমের শাল এবং সূচিকর্ম করা কাঁথা। পল্লব বংশের সময় থেকেই (চতুর্থ-অষ্টম শতক) মসলিনের সঙ্গে শীতের জন্য মোটা সুতির কাপড় ও পশম মিশ্রিত কাপড় তৈরি হত। মধ্যযুগে সুলতানি আমলে আরব, পারস্য ও তুর্কি প্রভাবে এসেছিল পশমিনা শাল, কাশ্মিরি শাল এবং দোশালা। ধনী পরিবারে শীতের প্রধান পোশাক ছিল কাশ্মিরি পশমিনা শাল ও দোশালা।
বাংলার নিজস্ব ঐতিহ্য
বাংলার গ্রামীণ নারীদের হাতে তৈরি কাঁথা শীতের সবচেয়ে বড় ঐতিহ্য। পুরনো শাড়ি, ধুতি, লুঙ্গি ইত্যাদি কাপড় একাধিক স্তরে জুড়ে সেলাই করে তৈরি হতো এই উষ্ণ কাঁথা। শীতের রাতে শোয়ার সময় একাধিক কাঁথা গায়ে জড়ানো হতো। রাজশাহী, কুষ্টিয়া, যশোর, ফরিদপুর অঞ্চলের নকশা কাঁথা বিখ্যাত।

ছবি- বেনেবৌ
বাংলাদেশের শীত
বাংলাদেশের শীত খুব দীর্ঘ নয়, ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হালকা থেকে মাঝারি ঠান্ডা থাকে। দেশের উত্তর ও নদীবেষ্টিত এলাকায় শীত বেশি টের পাওয়া যায়, বিশেষ করে ভোর ও রাতে তাপমাত্রা দ্রুত নেমে যায়। শীতে আর্দ্রতা তুলনামূলক বেশি থাকায় বাতাসে একটা স্যাঁতসেঁতে ঠান্ডা অনুভূত হয়, যা শুষ্ক দেশের মতো কনকনে না হলেও শরীরে বেশি লাগে। শহরাঞ্চলে কুয়াশা ও ধুলাবালির কারণে সকালগুলো ধূসর থাকে, রোদ উঠলে একটু উষ্ণতা পাওয়া যায়। আমাদের শীতে ভারী বরফ-ঠান্ডা না থাকায় লেয়ারিং সবচেয়ে কার্যকর। এক্ষেত্রে ফ্লিস, উল, সিনথেটিক ইনসুলেশন ভালো কাজ করে। দেশীয় পোশাক ব্র্যান্ড অন ক্লাউড নাইন এন্ড হাফ এর স্বত্বাধিকারী আফরিন আহমেদ এর সাথে শীত পোশাকের আলোচনায় জিজ্ঞাসা ছিল বাংলাদেশি শীত মাথায় রেখে পোশাক ডিজাইনে আপনারা কোন বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন? তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে শীত মানে সাধারণত ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাস। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল, রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ অঞ্চলে তাপমাত্রা ৫-৬° পর্যন্তও নেমে যায়। আমাদের দেশে মোটা কম্বলের মতো জ্যাকেট চলে না। মানুষ চায় হালকা, ভাঁজ করে ব্যাগে রাখা যায়। কিন্তু যথেষ্ট গরম পোশাক। এই আবহাওয়ায় পোশাক ডিজাইন করতে গেলে লেয়ারিং, গলা, কান এর সুরক্ষা, হাই-নেক, বড় কলার, ডিটাচেবল স্লিভ, মাফলার প্রাধান্য পেয়েছে আমার কাজে। তাই পোশাকে ডেনিম, উল, গ্যাবার্ডিন, গার্মেন্টসের লাইটওয়েট কিন্তু উষ্ণ কাপড় আমার ডিজাইনে গুরুত্ব পেয়েছে।’
দেশীয় উদ্যোগে এবারের শীত পোশাক
বাংলাদেশে শীত পোশাকের ধরন মূলত জলবায়ু ও ব্যবহারিক প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। এখানে শীত তুলনামূলক মৃদু, তাই ভারী কোট বা থিক পার্কা খুব বেশি ব্যবহৃত হয় না। বরং মানুষ বেশি ঝুঁকে থাকে হালকা আউটারওয়্যার যেমনÑ বম্বার, ডেনিম বা কুইল্টেড জ্যাকেটের দিকে, যেগুলো সহজে পরা-খোলা যায় এবং দৈনন্দিন চলাফেরায় আরাম দেয়। মিড-লেয়ার হিসেবে ফ্লিস, কার্ডিগ্যান বা হালকা নিটেড সোয়েটার খুব কার্যকর। কারণ এগুলো উষ্ণতা ধরে রাখে কিন্তু শরীরকে ভারী মনে হয় না। বেস-লেয়ারে থার্মাল টপ, ফুল স্লিভ টি-শার্ট বা টার্টল নেক অনেকে ব্যবহার করেন, বিশেষ করে যারা সকালে বের হন বা উত্তরের অঞ্চলে থাকেন। বটম ওয়্যারেও পরিবর্তন এসেছে জিন্সের পাশাপাশি ফ্লিস প্যান্ট, জগার বা উল ব্লেন্ড প্যান্ট জনপ্রিয় হচ্ছে।

ছবি- বেনেবৌ
অ্যাক্সেসরিজ হিসেবে শাল, স্কার্ফ, বিয়ানী, গ্লাভস ও থার্মাল মোজার ব্যবহার বাড়ছে, কারণ এগুলো হালকা হলেও শীত প্রতিরোধে দারুণ কার্যকর। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের শীত-পোশাকে এখন হালকা, আরামদায়ক, স্টাইলিশ এবং সহজে ব্যবহারযোগ্য এই চারটি বিষয়ই প্রধান। শীতের পোশাকে স্টাইল, উষ্ণতা ও চলাফেরার স্বাধীনতা এই তিনটি কীভাবে ব্যালান্স করেন? এর উত্তরে আফরিন জানান, শীতকালে স্টাইল, উষ্ণতা এবং চলাফেরার স্বাধীনতা এই তিনটি একসঙ্গে ব্যালেন্স করার মূল কৌশলটি নির্ভর করে কয়েকটি ছোট বিষয়ের ওপর। প্রথমত, লেয়ারিং অত্যন্ত জরুরি। এটি তিনটি স্তরে বিভক্ত : বেস লেয়ার (যেমন থার্মাল বা হাই-নেক) শরীরকে ফিট হয়ে উষ্ণতা ধরে রাখে; মিড লেয়ার (যেমন ডেনিমের কুর্তা) প্রধানত উষ্ণতা প্রদান করে এবং আউটার লেয়ার (যেমন হালকা জ্যাকেট বা কোটিগান) বাতাস থেকে রক্ষা করে ও স্টাইল যোগ করে। লেয়ারিংয়ের সুবিধা হলো, এতে শরীর গরম থাকে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্তর খুলে হালকা হওয়া যায়। দ্বিতীয়ত, হালকা কিন্তু উষ্ণ ফ্যাব্রিক নির্বাচন করা প্রয়োজন, যেমন ডেনিম কাপড় যা ওজনে হালকা হওয়া সত্ত্বেও শরীরকে ভালোভাবে গরম রাখে। সবশেষে, ফিটিংয়ের ভারসাম্য রক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ; এখানে ‘Slim-relaxed fit’ আদর্শ। অতিরিক্ত ঢিলা (ওভারসাইজ) বা খুব বেশি টাইট ফিটিং এড়িয়ে চললে স্টাইলও থাকে, আবার চলাফেরাও সহজ ও আরামদায়ক হয়।
শীত পোশাক নিয়ে একটু ভিন্ন ধাঁচে কাজ করা দেশীয় পোশাক ব্র্যান্ড বেনে বৌয়ের সঙ্গে কথা হচ্ছিল শীত পোশাকে তাদের কালেকশন নিয়ে। বাংলার ঐতিহ্যবাহী মোটিফ বা কারুকাজ শীতের পোশাকে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন তারা। দেশীয় ঐতিহ্য ও লোকশিল্পের মোটিফ বা উপাদান শীতের পোশাকে আপনারা কীভাবে ফুটিয়ে তোলেন? এমন প্রশ্নে বেনে বৌয়ের স্বত্বাধিকারী ফারহানা মুনমুন বলেন, ‘মোটা সুতি সুতায় বুনন করা হয় সঙ্গে ফুটিয়ে তোলা হয় জামদানি মোটিফ। জামদানির ঐতিহ্যবাহী জ্যামিতিক নকশা যেমন বুটিদার (ছিটানো ফুল), পান্না হাজার, করলা পাড় বা কলকা ফুটিয়ে তোলা হয় শাল/চাদরে, জ্যাকেট, কার্ডিগান ও কোটিতে।’
বর্তমান ট্রেন্ড

ছবি: অন ক্লাউড নাইন এন্ড হাফ
বাংলাদেশে শীত পোশাকের বর্তমান ট্রেন্ড মূলত হালকা, আরামদায়ক এবং স্টাইলিশ পোশাককে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। দেশের শীত যেহেতু খুব বেশি কনকনে নয়, তাই ভারি কোটের বদলে লেয়ারিংয়ে হালকা জ্যাকেট, কার্ডিগ্যান, সোয়েটার, হুডি ও সোয়েটশার্ট বেশি জনপ্রিয়। তরুণদের মধ্যে ডেনিম জ্যাকেট, বম্বার জ্যাকেট, কুইল্টেড জ্যাকেট, জগার ও ফ্লিস প্যান্টের ব্যবহার বেড়েছে, আর নারীদের মধ্যে শাল, লং কার্ডিগ্যান ও ওভারসাইজড নিটও বেশ ট্রেন্ডি। রঙের ক্ষেত্রে নিউট্রাল, আর্থ-টোন, নেভি, ব্ল্যাক, বেইজ ও প্যাস্টেল শেড চোখে পড়ে। সার্বিকভাবে, বাংলাদেশের আর্দ্র ও মৃদু শীতের জন্য এমন পোশাকই জনপ্রিয় হচ্ছে যা দেখতে স্মার্ট, হালকা, সহজে মানিয়ে যায় এবং দৈনন্দিন যাতায়াতেও আরাম দেয়।
ক্রেতাদের চাহিদায় প্রতিবছর কী ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে সে সম্পর্কে আফরিন বলেন, ‘বাংলাদেশের ক্রেতাদের চাহিদায় শীতের কাপড়ের ক্ষেত্রে প্রতিবছর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়। বাজারের তথ্য অনুসারে, শীতের পোশাকের বাজারের আকার প্রায় ১০০০ কোটি টাকার ওপরে এবং এর চাহিদা বছরভিত্তিক ৫-১০% বাড়ছে। কিন্তু প্যাটার্নগুলো দ্রুত বদলাচ্ছে। পূর্ববর্তী বছরগুলোর তুলনায় বর্তমানে পরিবেশসচেতনতা বেড়েছে। ক্রেতারা অর্গানিক কটন, রিসাইকেল্ড পোশাকের দিকে ঝুঁকছে, বিশেষ করে তরুণেরা।’
ক্রেতাদের ফিডব্যাক সংগ্রহ করার জন্য কোন প্রক্রিয়া অনুসরণ করেন এবং সেগুলো কীভাবে পরবর্তী কালেকশনে প্রয়োগ করেন? জিজ্ঞাসা করলে ফারহানা বলেন, ‘আমরা ক্রেতাদের ফিডব্যাক খুব গুরুত্ব দিই। এটা আমাদের প্রতিটি নতুন কালেকশনের ভিত্তি হয়ে ওঠে। মেলায় তাদের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া এবং তাদের কী চাহিদা সেটা জেনে পরবর্তী কালেকশন তৈরি করা হয়। এ ছাড়াও কাস্টমার ফিডব্যাক, সাজেশন, রিভিউ ও গুরুত্ব পায়।’
গ্লোবাল ফ্যাশন ট্রেন্ড (যেমন : ইউরোপীয় বা এশিয়ান স্টাইল) থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে শীতের কালেকশন তৈরি সম্পর্কে ফারহানা জানান, গ্লোবাল ফ্যাশন ট্রেন্ড থেকে অনুপ্রাণিত হন, কিন্তু সেটা কখনোই সরাসরি কপি করে নয়; বরং আমাদের আবহাওয়া, লাইফস্টাইল আর কালচারের সঙ্গে মিলিয়ে নেন। বাংলাদেশের শীতটা তো আসলে খুব মৃদু (১২-২০° সেলসিয়াসের মধ্যে), তাই ইউরোপের হেভি উইন্টার কোট বা রাশিয়ার ফার জ্যাকেট সরাসরি এখানে চলে না। তারা বরং গ্লোবাল ট্রেন্ডের আইডিয়াটা নেন, আর সেটাকে হালকা, আরামদায়ক আর বাংলাদেশিদের রোজকার জীবনে মানানসই করে তৈরি করেন। বাংলাদেশের শীত মানে চাদর অথবা সোয়েটার। কিন্তু এই চাদরকে অনেকভাবে স্টাইল করে যেমন জ্যাকেট বা শ্রাগ করেও পরা যেতে পারে।
দামের ভিন্নতা
শীতের পোশাকের দরদাম বা মূল্য পরিসর সাধারণত পোশাকের গুণমান, ব্যবহৃত ফেব্রিক এবং কারুকার্যের ওপর নির্ভর করে। বাজারে দেশি শালের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে কম দাম থেকে শুরু করে উন্নত মানের উল, কাশ্মিরি বা হাতে তৈরি নকশী কাঁথার মোটিফের পোশাকের জন্য অনেক বেশি মূল্য পর্যন্ত হতে পারে। যে পোশাকে ভালো মানের উল, এন্ডি কটন বা জটিল সূচিকর্মের কাজ থাকে, তার দাম স্বাভাবিকভাবেই বৃদ্ধি পায়। এ ছাড়া ব্র্যান্ডেড ফ্যাশন হাউসের পোশাকের দাম সাধারণত স্থানীয় তাঁতি বা ছোট উদ্যোক্তাদের তৈরি। পোশাকের চেয়ে বেশি হয়, যদিও স্থানীয় পণ্যে প্রায়শই অনন্য ঐতিহ্যবাহী মোটিফ পাওয়া যায়। তবে সাশ্রয়ী বিকল্প হিসেবে বাজারে কৃত্রিম উল বা সিনথেটিক কাপড়ের মিশ্রণে তৈরি পোশাক পাওয়া যায়। ক্রেতাদের জন্য মনে রাখা জরুরি যে, ভালো গুণমানের ক্লাসিক পোশাক কেনা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে, যা একবার কিনলে বহু বছর ধরে ব্যবহার করা যায়।
পোশাকের গুণগত মান ও উষ্ণতা অক্ষুণ্ণ রেখে ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে আপনারা কী ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হন? এমন প্রশ্নে ফারহানা জানান, তাদের পণ্যগুলো মূলত হাতের বুননের মাধ্যমে তৈরি হয়, তাই অন্যান্য সাধারণ বা শিল্পজাত (মেশিনে তৈরি) শীতের কাপড়ের থেকে এর দাম স্বভাবতই বেশি হয়। তাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জটি হলো ক্রেতাকে এই অতিরিক্ত মূল্যের আসল কারণ ও মূল্যমান সম্পর্কে বিশদভাবে বোঝানো।