× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি

কোথায় পড়তে কত খরচ

গোলাম কিবরিয়া

প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর ২০২৫ ১১:৪৭ এএম

কোথায় পড়তে কত খরচ

বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান দিন দিন সংহত হচ্ছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দীর্ঘদিন ধরে উচ্চশিক্ষায় নেতৃত্ব দিলেও জনসংখ্যা বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে আসনসংখ্যা ও সুযোগ-সুবিধার সীমাবদ্ধতার কারণে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় একটি ফারাক তৈরি হয়েছে। এ সংকট মোচনে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কার্যকর বিকল্প হিসেবে ভূমিকা রাখছে। এমন প্রেক্ষাপটে তুলনামূলক ভালো মানের শিক্ষার জন্য সামনের সারির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আকাঙ্ক্ষা বাড়ছে। আগ্রহ বাড়ছে অভিভাবকদেরও। আর সেক্ষেত্রে প্রথমেই তারা বিবেচনা করে দেখছেন সেখানে পড়তে গেলে খরচ কেমন হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে চার বছরে খরচ সর্বোচ্চ ফি নেওয়া হয় ব্যাচেলর অব ফার্মাসিতে (বি ফার্ম) ১৭ লাখ ৬২ হাজার টাকা। ব্যাচেলর অব আর্কিটেকচারে পড়তে একাডেমিক খরচ হচ্ছে ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ টাকা।

এ ছাড়া সিইসি, ইইই, বিবিএ ও ল’তে পড়াশোনার চার বছর শেষে একজন শিক্ষার্থীর বিষয়ভেদে পড়াশোনার খরচ দাঁড়ায় ১০ থেকে ১৩ লাখ টাকা।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ে পড়াশোনার খরচ নির্ভর করে বিভাগ এবং কোর্সের ওপর, তবে চার বছরের প্রোগ্রামের জন্য মোট খরচ প্রায় ১৫-১৮ লাখ টাকা হতে পারে। এর মধ্যে টিউশন ফির পাশাপাশি অন্যান্য খরচ যেমনÑ পরিবহন, বই, খাবার ও ব্যক্তিগত খরচ অন্তর্ভুক্ত। 

ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে সর্বোচ্চ বি ফার্মে ১১ লাখ ৭৮ হাজার টাকা ও সর্বনিম্ন ব্যাচেলর অব ইংরেজিতে নিচ্ছে ৭ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। এ ছাড়া মিডিয়া অ্যান্ড জার্নালিজম, বিবিএ, সিইসি, ইইই, বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে বিষয়ভেদে খরচ পড়বে ৮ লাখ থেকে সাড়ে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত। ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে সবচেয়ে বেশি ফি নেওয়া হয় বি ফার্মে পড়তেÑ ১১ লাখ ৯২ হাজার। আর সবচেয়ে কম লাগে ম্যাথমেটিক্স পড়তে, ৬ লাখ ৯৫ হাজার ৯০০ টাকা। আহ্ছানউল্লা ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে সর্বোচ্চ ফি ৫ বছর মেয়াদি আর্কিটেকচারে ১১ লাখ ৩৯ হাজার টাকা। ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজিতে (আইইউবিএটি) বেশি ফি ইইইতে ৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা। আর কম খরচ হয় নার্সিং পড়তে ৪ লাখ ৯৯ হাজার টাকা। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ৪ বছর মেয়াদি প্রোগ্রামে সবচেয়ে বেশি নেয় সিএসইতে ১০ লাখ ২০ হাজার ৪৫০ টাকা। এ ছাড়া বাকি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিষয়ভেদে টিউশন ফির তারতম্য লক্ষ্য করা যায়। 

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের বৃত্তির ব্যবস্থা রয়েছে। যেমনÑ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব মেধাবৃত্তি এবং সরকারি ও বেসরকারি উৎস থেকে প্রাপ্ত বৃত্তি। এই বৃত্তিগুলোর জন্য আবেদন করতে হলে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি এবং বৃত্তির নিয়মাবলী ভালোভাবে জানতে হবে। সাধারণত ভালো একাডেমিক ফলাফল, নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে দক্ষতা অথবা বিশেষ আর্থিক প্রয়োজন বৃত্তির জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হয়। 

কম খরচে পড়াশোনা করতে চাইলে স্কলারশিপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ই এখন বিভিন্ন ধরনের স্কলারশিপ অফার করে থাকে। যেমনÑ ভালো ফল বা জিপিএ-এর ভিত্তিতে, আর্থিকভাবে দুর্বল শিক্ষার্থী হলে, একই পরিবারে একাধিক শিক্ষার্থী থাকলে, নারী শিক্ষার্থী হলে, মুক্তিযোদ্ধা কোটাভুক্ত হলে, প্রতিবন্ধিত্বের কারণে স্কলারশিপের মাধ্যমে কেউ পুরো কোর্সে ২০-১০০ শতাংশ পর্যন্ত ফি ছাড় পেতে পারেন।

এদিকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি আদায়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্যেও নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। যেগুলোর মধ্যে অন্যতমÑ শিক্ষার্থী ভর্তির পর টিউশন ও অন্যান্য ফি বাড়ানো যাবে না। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) থেকে টিউশন ফি অনুমোদিত হতে হবে। অন্যকোনো নামেও ফি আদায় করা যাবে না। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০২৫ (সংশোধিত)-এর খসড়ায় এসব প্রস্তাব করা হয়েছে। খসড়ায় উপাচার্য, উপউপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ নিয়োগের জন্য সার্চ কমিটি করার বিধান রাখা হয়েছে।

বর্তমানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজেরাই বিভিন্ন ফি নির্ধারণ করে থাকে, তবে ইউজিসিকে অবগত করে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১০-এ ফি নির্ধারণে ইউজিসির অনুমোদন নেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ দিনের অভিযোগ, ভর্তি হওয়ার পর হঠাৎ করেই টিউশন ও অন্যান্য ফি বাড়িয়ে দেওয়া হয়। অনেক সময় লিখিত নোটিসও দেয় না বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ইউজিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সংশোধিত নতুন আইন কার্যকর হলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ‘ইচ্ছেমতো’ টিউশন ফি নির্ধারণ ও আদায় করতে পারবে না। এতে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হবে। ইউজিসি সূত্র জানাচ্ছে, গত ২৩ অক্টোবর ইউজিসির ৫৭তম মাসিক সভায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০২৫-এর সংশোধনীর খসড়া নিয়ে বিস্তারিত আলাপ-আলোচনা হয়। ওই সভায় আইনের খসড়া চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে একটি কমিটি করার এবং অংশীজনদের নিয়ে কর্মশালা আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়।

ইউজিসির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে অনুমোদিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে ১১৬টি। এগুলোর মধ্যে ১০৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠদান চলছে। ৪টির কার্যক্রম নানা কারণে বন্ধ রয়েছে। আর বাকি ৫টির একাডেমিক কার্যক্রম এখনও শুরু হয়নি। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থী রয়েছেন ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৪১৪ জন।

সংশোধিত আইনের খসড়ায় টিউশন ফির বিষয়ে বলা হয়েছে, প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ফি কাঠামো তৈরি করে কমিশনের (ইউজিসি) অনুমোদন নেবে এবং সরকারকে জানাবে। বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এই ফি ৫০ শতাংশ বেশি হবে। একজন শিক্ষার্থী যে ফি কাঠামোয় ভর্তি হবেন, প্রোগ্রাম শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনোক্রমেই তা বাড়ানো যাবে না। অন্যকোনো নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ধরনের ফি আদায় করা যাবে না।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা