মিনহাজুল ইসলাম
প্রকাশ : ২৬ নভেম্বর ২০২৫ ১২:৫৭ পিএম
অভাব-অনটনের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকা এক অসহায় পরিবারের হৃদয়বিদারক চিত্র এখন রংপুরের পীরগঞ্জের নখার পাড়া গ্রামে। শ্রী সন্তোষ চন্দ্র মহন্ত ও তার স্ত্রী পপি রানী মহন্ত প্রতিদিন দিনমজুরের কাজ করে কোনোমতে সংসার চালান। কিন্তু তাদের সবচেয়ে বড় কষ্টের কারণ একমাত্র ছেলে অরণ্য বাবু। জন্মের মাত্র ছয় মাস পর থেকেই প্রতিবন্ধী হয়ে পড়ে শিশু অরণ্য। আজ প্রায় এক দশক ধরে কাঠের খাঁচায় বন্দি জীবন কাটছে তার।
২০১৬ সালে জন্ম নেওয়া অরণ্য বাবুর চিকিৎসার জন্য বাবা-মা সর্বস্ব হারিয়ে দেশের বিভিন্ন ডাক্তার ও কবিরাজের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। কিন্তু কোনো সুফল মেলেনি। চিকিৎসার খরচ জোগাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে পরিবারটি। ফলে অরণ্যের জীবন এখন খাঁচার ভেতরেই সীমাবদ্ধ। মাত্র ১ শতক জমির ওপর টিনের জীর্ণশীর্ণ ঘরে কোনোমতে দিন কাটছে তাদের। ঘরের চাল ফুটো হয়ে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই পানি পড়ে বিছানা ভিজে যায়। পলিথিন দিয়েও তা ঠেকানো যায় না। একদিন কাজ না করলে চুলায় হাঁড়ি ওঠে না। তাই কাজের প্রয়োজনে বাইরে যেতে হলে বাধ্য হয়েই অসহায় ছেলেকে কাঠের খাঁচার ভেতরে আটকে রেখে যান বাবা-মা।
-6926a4bf9b5d0.jpg)
স্থানীয় বাসিন্দা পরশুরাম বর্মন বলেন, অরণ্য সারা দিন বন্দি কাঠের খাঁচায় থাকে। খেয়ে না খেয়ে দিন যাচ্ছে তার। সরকারিভাবে সহযোগিতা পেলে পরিবারটির দিন ফিরতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দা দেবেন্দ্রনাথ বর্মন বলেন, অরণ্য বাবুর জীবনযাপন অত্যন্ত করুণ। খাঁচার ভেতর সারা দিন কাটানো ছাড়া কোনো উপায় নেই। চিকিৎসার সামর্থ্য না থাকায় ছেলে ক্রমশ অবহেলায় বেড়ে উঠছে।
অরণ্যের মা পপি রানী মহন্ত বলেন, আমরা অনেক চেষ্টা করেছি। ডাক্তার, কবিরাজ কারও কাছে সুফল পাইনি। খাঁচায় না রাখলে ও বাইরে চলে যায়, বিপদ হতে পারে। আমাদের পক্ষে উন্নত চিকিৎসা করানো সম্ভব নয়। যদি কারও সাহায্য পাই, হয়তো ছেলেটা আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে। আমার চোখে একটাই স্বপ্ন- সন্তানের উন্নত চিকিৎসা।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান দুলাল চৌধুরী বলেন, অরণ্য বাবুর জীবনযাপন অত্যন্ত করুণ। খাঁচার ভেতর সারা দিন কাটানো ছাড়া তার আর কোনো উপায় নেই। চিকিৎসার সামর্থ্য না থাকায় অবহেলায় বেড়ে উঠছে এই শিশু।
এলাকাবাসীর দাবি, সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে এলে অরণ্য আবারও চিকিৎসা পেয়ে সুস্থ জীবনে ফিরতে পারে। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, অরণ্যকে প্রতিবন্ধী ভাতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পরবর্তীতে কোনো সরকারি সহায়তার সুযোগ হলে অরণ্যের পরিবারকে দেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পপি বেগম জানান, মানবিক সহায়তা পেলে অন্তত এই পরিবারটি নতুন করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখতে পারবে।
অরণ্যের অসহায় জীবনের এই করুণ চিত্র স্থানীয়দের হৃদয় নাড়া দিয়েছে। সবাই এখন অপেক্ষায় কখন এই খাঁচা ভেঙে অরণ্য পাবে মুক্ত আকাশের আলো-বাতাসে ভরা নতুন জীবন।