জারাদ ত্রিস্তান
প্রকাশ : ২০ নভেম্বর ২০২৫ ১৪:২০ পিএম
আঁকা : মেহেরুন্নিসা, সপ্তম শ্রেণি, রানী নীহার দেবী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, মানিকছড়ি, খাগড়াছড়ি
শহর থেকে কিছুটা দূরে। প্রায় গ্রামীণ এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে একটি বিজ্ঞান চিন্তা একাডেমি। শতাধিক চিন্তাবিদ এবং গবেষক দেশ ও বিশ্বের মানুষের উপকার হবে এমন সব বিষয় নিয়ে গবেষণা এবং চিন্তা করেন। এই চিন্তস একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ড. ক খ গ চৌধুরী আমাকে তার একাডেমি পরিদর্শনের জন্য নিমন্ত্রণ করেছেন।
নিমন্ত্রণ রক্ষা করার জন্য আমি গিয়ে হাজির হলাম তাদের চিন্তা একাডেমিতে। জনাব ড. ক খ গ আমাকে সাদরে অভ্যর্থনা জানালেন।
প্রথমে তার অফিসে বসে চা এবং বিস্কুট খেলাম। তারপর থেকে আমাকে তার একাডেমি পরিদর্শন করাতে নিয়ে গেলেন।
প্রথমেই আমরা গেলাম উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগে। এই বিভাগের প্রধান ড. লতাপাতা মুখার্জি। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে উদ্ভিদবিজ্ঞান চর্চা করছেন এবং জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কারও পেয়েছেন। তিনি বর্তমানে গবেষণা করছেন বৃক্ষের খাদ্য গ্রহণ নিয়ে।
তিনি আমাকে জানালেন তার মতে গাছটা শুধু সূর্যের আলো পানি এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে বাঁচতে পারে না। এ কারণেই পৃথিবীর সর্ব বয়স্ক গাছটির বয়সও মাত্র ৪৭৯০ বছর। তিনি জানালেন তার গবেষণা সফল হলে প্রতিটি গাছ ১০ থেকে ২০ হাজার বছর বাঁচবে এবং প্রতিবছর ৬ থেকে ৭ বার ফল দেবে।
কীভাবে এটি সম্ভব?
এই অসম্ভবকে সম্ভব করার দায়িত্বই তিনি নিয়েছেন। তিনি চিন্তা করেছেন গাছকে মানুষের মতোই খাবারদাবার খাওয়াতে হবে। তিনি এই নিয়ে বেশ কয়েকটি এক্সপেরিমেন্ট করেছেন।
তার থেকে ফলাফল এসেছে, দৈনিক তিনবার গাছের গোড়ার মাটি কুপিয়ে তাতে এক বাটি ভাত, বেশকিছু মাশরুম, মাংস এবং পানীয় দিতে হবে এবং মাঝে মাঝে মিষ্টান্ন দিতে হবে। এর ফলে মাত্র ১০ থেকে ২০ বছরের মধ্যে সেই গাছ বছরে ছয় থেকে সাত বার ফল দেবে এবং ২০ হাজার বছরের বেশি বাঁচবে।
তার কাণ্ডকারখানা দেখে আমার মাথা ভোঁ-ভোঁ করে ঘুরছিল। তাই সেখানে আর না থেকে ড. ক খ গ আমাকে নিয়ে গেলেন গাণিতিক বিজ্ঞান বিভাগে। এই বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মি. অ্যালজেব্রা। তিনি সহজ পদ্ধতিতে কোনো গাণিতিক সূত্র বা কোনো গণিত মুখস্থ করার একটি প্রক্রিয়া আবিষ্কার করেছেন।
এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মধু ১৮ দিন পানিতে ভিজিয়ে রাখা গম থেকে তৈরি ময়দা এবং সামান্য পরিমাণে লবণ দিয়ে তৈরি পাতলা বিস্কুটের ওপরে খাওয়া যায় এমন কালি দিয়ে গাণিতিক সূত্র লিখতে হবে। তারপর সেই বিস্কুট ১০৭ বার চিবিয়ে খেতে হবে এবং পরবর্তী এক সপ্তাহ শুধু পানি এবং ভাত খেতে হবে। নো তরকারি, নো অন্য কিছু।
এর মাধ্যমেই সেই গাণিতিক সূত্র হজম হয়ে মস্তিষ্কে চলে যাবে। তিনি এ নিয়ে প্রায় ৫০ জন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের ওপর এক্সপেরিমেন্ট করেছে। সব ক্ষেত্রে না হলেও এক-দুটি ক্ষেত্রে সফলতা এসেছে।
তিনি এও বললেন যদি দেশের মানুষ আর্থিক সহায়তা দেয়, তবে তিনি আর ২০ বছরের মধ্যে দেশের সকল মানুষকে বিস্কুট খাওয়ানোর মাধ্যমে শিক্ষিত করে দেবেন।
তার বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি শুনে আমার মাথাব্যথা করছিল। তাই ড. ক খ গ আমাকে নিয়ে গেলেন সংগীতবিজ্ঞান বিভাগে। এই বিভাগটি এক্কেবারে আনকোরা। এই বিভাগের প্রধান সুররাজ সারেগামা রহমান।
তিনি বর্তমানে কাককে শাস্ত্রীয় সংগীত শেখানোর চেষ্টা করছে। তার মতে টানা কয়েক ঘণ্টা কোনো কাকের পা শিকল দিয়ে বেঁধে রেখে তার কানের কাছে নির্দিষ্ট কোনো বাদ্যযন্ত্র বাজালে বেশ কিছুদিনের মধ্যেই কাক সে বাদ্যযন্ত্রের সুর রপ্ত করে নেবে। অনেক কাকের ওপরেই এক্সপেরিমেন্ট করেছেন। একবার তিনি একটি কাক ছানার কণ্ঠে গান শুনে অবাক হয়ে গিয়েছিলেন, পরে আবিষ্কার করেন সেটি ছিল একটি কোকিল।
তারপরেই আমরা গেলাম ধাতুবিজ্ঞান বিভাগে। তামা চৌধুরী এই বিভাগের প্রধান। তিনি ক খ গ চৌধুরীর সহধর্মিণী।
এই বিভাগে তামা চৌধুরী মার্বেল পাথর নরম করে বালিশ তৈরি এবং জলকণার মাধ্যমে ধাতু তৈরির চেষ্টা করছেন। তাকে প্রায় দেড়শ মানুষ এই কাজে সহযোগিতা করছেন। তিনি এর মধ্যেই জলকণা দিয়ে এমন একটি ধাতু তৈরি করেছেন, যা খালি চোখে দেখা যায় না। কিন্তু তিনি যখন বলেছেন তবে সেটা তো অবশ্যই আছে।
তারপরই গেলাম শিশু বিশেষজ্ঞ কিশোরী কুমারের বিভাগে।
তিনি একটি মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করছেন। আমাদের দেশের অধিকাংশ শিশুই অবুঝ থাকাকালীন প্লাস্টিক, ইটের টুকরা, মাটি কিংবা কাচ ইত্যাদি মুখে দিয়ে ফেলে। তাই তিনি চেষ্টা করছেন এমন প্লাস্টিক ইট, মাটি ও কাজ তৈরি করতেÑ যা খেতে খুবই সুস্বাদু এবং শিশুরা খেলে কোনো অসুবিধা হবে না। তবে এখনও সফলতা পাননি।
আর্থিক সংকটের ফলে বাকি বিভাগগুলো এখনও চালু হয়নি। তবে ড. ক খ গ চৌধুরী আমাকে বলেছেন বাপ্পি বিভাগগুলো চালু হলে তিনি আবার পরিদর্শন করাবেন। আমি আসার সময় আর্থিক সহায়তাস্বরূপ ৯ টাকা ৯৯ পয়সা দান করে এসেছি।
পঞ্চম শ্রেণি, উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল, অ্যান্ড কলেজ, কাকরাইল, ঢাকা