এই সময়ের ছায়াযুদ্ধ
নুসরাত মুনা
প্রকাশ : ১৯ নভেম্বর ২০২৫ ১২:২৭ পিএম
ছদ্মনাম রেহনুমা। সমবয়সি ছোট ভাইকে নিয়ে গেছেন মার্কেটে। সঙ্গে ৩ বছর বয়সি ছোট মেয়ে। মার্কেট করার সময় একপর্যায়ে ভাইয়ের সঙ্গে একটু তর্কাতর্কি হয়। কাজ শেষে খুব সাধারণ নিয়মেই বাসায় ফিরে আসেন। দিন পেরোতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় গিয়ে দেখে দোকানের সামনে তার ও ভাইয়ের বাকবিতণ্ডা কেউ একজন ভিডিও করে একটি জনপ্রিয় গ্রুপে ছেড়ে দিয়েছেন, তার সঙ্গে মনগড়া আপত্তিকর গল্প। যেন পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গেই মেয়ে সঙ্গে করে ঘুরতে গিয়েছেন তিনি। লজ্জায় অপমানে ছোট ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলতে পারছেন না তিনি। আপনজনরা বিষয়টা বুঝলেও, সোশ্যাল মিডিয়ার কটূক্তি রেহনুমার ব্যক্তিগত ও সোশ্যাল লাইফকে করেছে এলোমেলো, ক্ষতিগ্রস্ত।
গ্লোবালাইজেশনের এই সময়ে তথ্য পাওয়া আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে সহজ। হাতে একটি স্মার্টফোন থাকলেই পুরো পৃথিবীকে জানা সম্ভব। কিন্তু এই সুবিধার মধ্যে লুকিয়ে আছে বিপজ্জনক এক ছায়া। তা হলোÑ গুজব, ভুয়া খবর এবং সাজানো-বাঁধানো তথ্যযুদ্ধ। সামাজিক মাধ্যমের সীমাহীন স্বাধীনতা, অ্যালগরিদমের মনস্তাত্ত্বিক খেলা এবং মানুষের আবেগাধিক্য একত্রে গড়ে তুলেছে এমন এক বাস্তবতা, যেখানে সত্যের চেয়ে মিথ্যা বেশি ছড়িয়ে পড়ে, আর তথ্যের চেয়ে বিভ্রান্তিই বেশি আকর্ষণ করে। সাধারণ মানুষেরও স্বভাবে পরিণত হয়েছে যাচাই-বাছাই ছাড়াই কটু মন্তব্য করা। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনাবলি থেকে বৈশ্বিক রাজনীতির চিত্র সবকিছুই আমাদের দেখায়, তথ্যবিশৃঙ্খলা এখন সমাজের স্থিতিশীলতা ও মানবিক নিরাপত্তার ওপর সরাসরি হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অনলাইনের এই অদৃশ্য মহামারি সমাজে সৃষ্টি করছে আতঙ্ক, সহিংসতা, বিভাজন এবং গণবিশ্বাসের সংকট। কেন এই বিপদ এত দ্রুত বাড়ছে, এর প্রভাব কতটা বিপজ্জনক এবং আমরা কীভাবে এ থেকে বেরিয়ে আসতে পারি এখনই সেই প্রশ্ন তোলার সময়।
গুজবের দ্রুত বিস্তার : মনস্তত্ত্ব, প্রযুক্তি ও রাজনীতির অনিবার্য যোগসূত্র
গুজব কেন দ্রুত ছড়ায়- এ প্রশ্নের উত্তর কেবল প্রযুক্তিতে সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের আবেগপ্রবণতা, উত্তেজনাপূর্ণ তথ্যের প্রতি আগ্রহ এবং ভয়ের প্রতি সহজ প্রতিক্রিয়া গুজবের সাফল্যের মূল হিসেবে কাজ করে। মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, মানুষ এমন তথ্যই দ্রুত শেয়ার করে যেগুলো তাকে আতঙ্কিত, উত্তেজিত বা বিস্মিত করে। সামাজিক মাধ্যমের অ্যালগরিদমও ঠিক সেই ধরনের কনটেন্টই সামনে আনে, কারণ অ্যানগেজমেন্ট যত বেশি, মুনাফাও তত বেশি। ফলে সত্যের নিরপেক্ষ ভাষা প্রায়ই হারিয়ে যায় মিথ্যার নাটকীয় শব্দে। ঘরে ঘরে কনটেন্ট ক্রিয়েটররা গুজবকেই করছেন ডলার আয়ের মূল হাতিয়ার।
ডিজিটাল স্বাক্ষরতার ঘাটতিও গুজব ছড়ানোর বড় কারণ। সাম্প্রতিক জরিপ বলছে, বাংলাদেশের বেশিরভাগ তরুণ সামাজিক মাধ্যমে তথ্যের উৎস যাচাই না করেই তা পড়ে ও শেয়ার করে। অনেকে আবার সংবাদ-প্রতিষ্ঠান, বিজ্ঞাপন এবং ভুয়া প্রচারণার মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না। জানে না কীভাবে যাচাই করতে হয় সত্যতা। বিশেষত রাজনৈতিক উত্তেজনা, ধর্মীয় আবেগ কিংবা জাতীয় সংকটের মুহূর্তে এই মনস্তাত্ত্বিক ফাঁক আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।
রাজনৈতিক স্বার্থও গুজবের তীব্রতা বাড়িয়ে দেয়। নির্বাচন সামনে এলেই সামাজিক মাধ্যমে মিথ্যা তথ্যের স্রোত বাড়ে। একটি বানোয়াট ভিডিও বা বিকৃত বিবৃতি মুহূর্তেই চরিত্র হনন, বিভ্রান্তি ও উত্তেজনার জন্ম দেয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নির্বাচনের সময় ভুয়া খবরে জনমত প্রভাবিত হওয়ার ঘটনা বেড়েছে ২৫০ শতাংশ। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গুজব এখন গণতন্ত্রের জন্য বাস্তব হুমকি।
ভুয়া তথ্যযুদ্ধের নতুন ও ভয়ংকর অস্ত্র এআই
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আজ মানুষের কাজ সহজ করছে, কিন্তু একই সঙ্গে মিথ্যা তথ্য তৈরি ও প্রচারের ক্ষমতাও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষত ডিপফেক প্রযুক্তি ইতোমধ্যেই বৈশ্বিক রাজনীতিতে আতঙ্ক তৈরি করেছে। মানুষের মুখ, কণ্ঠস্বর বা অভিব্যক্তি এত নিখুঁতভাবে নকল করা যায় যে সত্য-মিথ্যার সীমা একেবারেই অস্পষ্ট হয়ে যায়। মাত্র এক বছরে ডিপফেক প্রতারণা ৩০০০ শতাংশ বেড়েছে। এ তথ্যই ভবিষ্যতের ঝুঁকি বোঝার জন্য যথেষ্ট।
এআই এখন শুধু ভিডিও বা অডিওই বানাচ্ছে না; প্রতিদিন হাজার হাজার ভুয়া সংবাদও তৈরি করছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা নিউজগার্ড জানাচ্ছে, বর্তমানে অন্তত ৬০০-এর বেশি ওয়েবসাইট সম্পূর্ণ এআই-নির্ভর ভুয়া কনটেন্ট ছড়ায়, যেগুলোর সংখ্যা গত বছর থেকে ১০০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সংবাদপত্রের মতো ডিজাইন করা এসব সাইটে পাঠক বুঝতেই পারেন না যে খবরটি পড়ছেনÑ তা কোনো সাংবাদিক নয়, বরং একটি অ্যালগরিদম লিখেছে।
গুজবের আগুনে বারবার দগ্ধ বাংলাদেশ
গুজব শুধু সামাজিক মাধ্যমের অস্থিরতাই সৃষ্টি করে না, বাংলাদেশে বহুবার গুজবের সামাজিক ভয়াবহতা প্রত্যক্ষ করেছে।
২০১২ সালে রামুতে বৌদ্ধপল্লিতে হামলা হয় একটি ভুয়া ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে। সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুরো এলাকা পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ২০১৩ সালে ‘চাঁদে সাঈদীকে দেখা গেছে’ গুজব সারা দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। ২০১৯ সালে ‘পদ্মা সেতুতে মাথা লাগবে’Ñ এই বানোয়াট তথ্য ছড়িয়ে পড়ে দেশের প্রতিটি প্রান্তে; এরই জেরে বাড্ডায় গণপিটুনিতে নির্মমভাবে নিহত হন এক নিরীহ নারী।
স্বাস্থ্য খাতে গুজবের প্রভাবও কম নয়। কোভিড-১৯ মহামারির সময় টিকা নিয়ে বিভ্রান্তি, ভুয়া চিকিৎসা এবং বিভিন্ন ‘চিকিৎসা-পরামর্শ’ অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে অনেক মানুষ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ে। বাংলাদেশের বিভিন্ন ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিভ্রান্তিকর তথ্য শনাক্তের সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪-এর জুলাই আন্দোলনেও ফেসবুকে ভুল তথ্যের প্রবণতা দেখা গিয়েছিল তীব্র হারে।
গুজব কিংবা ভুয়া তথ্যের পরিণতি
গুজব বা ভুয়া তথ্যকে অনেকেই তুচ্ছ মনে করেন; কিন্তু এর সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক অভিঘাত ভয়াবহ। মিথ্যা খবরের কারণে সমাজে বিভাজন বাড়ে, সন্দেহ ও শত্রুতা জন্ম নেয়। জাতিগত বা ধর্মীয় গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সামান্য ইঙ্গিতও মহানগর থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত উত্তেজনার আগুন জ্বালাতে পারে। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার সময় ভুয়া তথ্য রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট করে; গণমাধ্যম, নির্বাচন বা বিচারব্যবস্থা সবকিছুই অবিশ্বাসের চোখে দেখা শুরু হয়। শুধু তাই নয়, ভুয়া তথ্য ব্যক্তিজীবনকে করে অসহনীয়। সামাজিক ও পারিবারিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়ে মানসিক অস্থিরতায় ভোগেন অনেকে।
অর্থনীতিও এর বাইরে নয়। গুজবনির্ভর আতঙ্কে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়, বিনিয়োগকারীরা পিছিয়ে আসে এবং প্রতারণার হার বাড়ে। ডিজিটাল প্রতারণা ও ফিশিং স্ক্যাম সামাজিক মাধ্যমে বৃদ্ধি পেয়েছে ৪৫ শতাংশ।
ব্যক্তিগত পর্যায়ে, ভুয়া তথ্যের কারণে মানহানি, সাইবার বুলিং, ব্ল্যাকমেলিংÑ এসব ঘটনার সংখ্যা বাড়ছে। অনেক মানুষ সামাজিক লজ্জা বা মিথ্যা প্রচারণার শিকার হয়ে মানসিক চাপ, হতাশা বা ভয়াবহ সিদ্ধান্ত নেওয়ার দিকে ধাবিত হয়।
সমাধানের পথ
ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ারের আগে থামুন
গুজব ছড়ানোর প্রথম চক্রটি ব্যক্তির হাতে। তাই প্রথম সমাধানও এখান থেকেই শুরু।
মানুষকে জানতে হবে সামাজিক মাধ্যম কোনো যাচাইকৃত সংবাদমাধ্যম নয়। উত্তেজনাপূর্ণ শিরোনাম বা আবেগে আঘাত করা কোনো ভিডিও দেখলে সঙ্গে সঙ্গে শেয়ার না করে তথ্যের উৎস খুঁজে দেখা জরুরি। পরিচিত সংবাদমাধ্যমে একই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে কি না, ছবি বা ভিডিওটি পুরনো কি নাÑ এসব যাচাই করা খুব কঠিন নয়। স্ক্রিনশট বা কপি-পেস্ট করা লেখা অনেক সময়ই তথ্য বিকৃতি ঘটায়। স্কুলে ডিজিটাল প্রযুক্তি বইয়ে ডিজিটাল লিটারেসি শিখছে শিশুরা, তার পাশাপাশি পারিবারিক পর্যায়ে ছোটদের ডিজিটাল আচরণ নিয়ন্ত্রণ করা, তাদের সঠিক ও ভুল তথ্য চেনার অভ্যাস গড়ে তোলাও অত্যন্ত জরুরি।
ডিজিটাল সাক্ষরতা শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা
গুজব প্রতিরোধে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হলো ডিজিটাল সাক্ষরতা। বিদ্যালয়, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইনফরমেশন লিটারেসি’, ‘মিডিয়া লিটারেসি’ ও ‘ফ্যাক্ট-চেকিং’ দক্ষতাকে শিক্ষা কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। শিক্ষার্থীরা যদি শুরু থেকেই তথ্য বিশ্লেষণ, উৎস যাচাই ও অনলাইন আচরণ শেখে, তাহলে গুজব ছড়ানোর প্রবণতা স্বাভাবিকভাবেই কমে যাবে। এ ছাড়া শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, কমিউনিটি লেভেলে প্রশিক্ষণ, তরুণদের সচেতনতা ক্যাম্পেইন ও গণমাধ্যম শিক্ষার কর্মসূচি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। সববয়সি সোশ্যাল মিডিয়া ইউজারকেই এই দক্ষতার আওতায় নিয়ে আসতে হবে।
আইন, নজরদারি ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া
রাষ্ট্রের ভূমিকা এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা হতে হবে ভারসাম্যপূর্ণÑ যাতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ব্যাহত না হয়, কিন্তু ভুয়া তথ্যের মাধ্যমে সহিংসতা বা অরাজকতা রোধ করা যায়।
সাইবার অপরাধ দমন ও গুজব ছড়ানোর বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত, সংশ্লিষ্টদের আইনি জবাবদিহি এবং জরুরি ভিত্তিতে সংশোধনী তথ্য প্রকাশ অত্যন্ত জরুরি। সরকারের উচিত একটি জাতীয় ইনফো-রেসপন্স মেকানিজম গঠন করা, যেখানে গুজব ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত ফ্যাক্ট চেক, সংশোধন ও গণবিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হবে।
এ ছাড়া রাজনৈতিক গোষ্ঠী বা কোনো স্বার্থসংশ্লিষ্ট পক্ষ যদি ভুয়া তথ্য ছড়ায় তাদের দায়িত্ব নির্ধারণও নীতি কাঠামোর অংশ হওয়া প্রয়োজন।
স্বচ্ছতা ও অ্যালগরিদমের জবাবদিহি
ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটকÑ এসব প্লাটফর্ম ব্যবহারকারীর তথ্য ও নিউসভিউ নির্ধারণে অ্যালগরিদম ব্যবহার করে। গুজব ও ভুয়া তথ্য ঠেকাতে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রয়োজন।
ভুয়া অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করা, সন্দেহজনক কনটেন্টে সতর্কবার্তা যুক্ত করা এবং ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতাÑ এসবকে বাধ্যতামূলক নীতিমালায় পরিণত করতে হবে।
প্লাটফর্মগুলো চাইলে একটি পোস্ট ভাইরাল হওয়ার আগেই তা থামিয়ে দিতে পারেÑ এটি তারা বহুবার প্রমাণ করেছে। কিন্তু সেটাকে ধারাবাহিক নীতিতে পরিণত করা দরকার।
মিডিয়ার নৈতিক দায়িত্ব
জার্নালিস্ট এবং মিডিয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভাইরাল বা সংবেদনশীল বিষয়কে বিপণনের হাতিয়ার বানানো থেকে বিরত থাকতে হবে। সংবাদ প্রচারের আগে সত্যতা যাচাই, প্রেক্ষাপট বোঝা এবং জনহিত নিশ্চিত করা অবশ্যই প্রাধান্য পাবে। ভাইরাল বিষয়কে প্রচারণার কৌশল হিসেবে ব্যবহার করলে সমাজে বিভাজন, উত্তেজনা ও মানহানি ঘটার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
গুজব ও ভুয়া তথ্যের বিরুদ্ধে লড়াই শুধু আইন বা প্রযুক্তির লড়াই নয়। এটি সচেতনতা, মানবিকতা ও সমালোচনামূলক চিন্তার লড়াই। সরকার, প্রযুক্তি প্লাটফর্ম, গণমাধ্যমের পাশাপাশি নাগরিকদেরও দায়িত্ব রয়েছে। তথ্য পাওয়ার আগে যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি তথ্য যাচাই করাটাও এখন সময়ের দাবি। সামাজিক মাধ্যমের প্রতিটি শেয়ার, প্রতিটি মন্তব্য এবং প্রতিটি প্রতিক্রিয়া আমাদের সমাজকে হয় নিরাপদ করে তোলে, নয় বিভ্রান্তির দিকে ঠেলে দেয়।
ডিজিটাল যুগে সত্য রক্ষার সবচেয়ে বড় অস্ত্র হলো পরিষ্কার চিন্তা, যাচাই করা তথ্য এবং দায়িত্বশীল ব্যবহার। গুজব প্রতিরোধ শুধু স্লোগান নয়; এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি নিরাপদ সমাজ দিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি।