× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

করপোরেট পরিধেয়

আরফাতুন নাবিলা

প্রকাশ : ১৮ নভেম্বর ২০২৫ ১৭:২৭ পিএম

আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০২৫ ১৭:৩০ পিএম

করপোরেট পরিধেয়

করপোরেট জগৎ মানেই নিয়মের বেড়াজালে আটকে থাকা। কাজের নানা দায়িত্ব আর সারা দিনের ব্যস্ততার ভিড়ে আলাদাভাবে ভাবতে হয় পোশাক নিয়েও। কারণ করপোরেট মানে শুধু দায়িত্ব পালন নয়, পোশাকের মাধ্যমে নিজেকে দায়িত্বশীলভাবে তুলে ধরার নিরন্তর প্রয়াসও বটে। করপোরেট পরিধেয় নিয়ে লিখেছেন আরফাতুন নাবিলা

চাকরিতে প্রবেশ করেই আমরা শিখি অফিস এটিকেট। যার মধ্যে পোশাক অন্যতম। অফিসিয়াল ড্রেস কোড  মেইনটেইন না করলে কাজেও এর প্রভাব পড়তে পারে। নারী-পুরুষ সবার ক্ষেত্রেই এই ড্রেস কোড  মেনে চলা জরুরি। কাজের জায়গার পোশাকটি হওয়া চাই পুরোদস্তুর আনুষ্ঠানিক, ছিমছাম কিন্তু স্মার্ট। মানুষের রুচি ও ব্যক্তিত্বের প্রকাশ ঘটে পোশাক পরিচ্ছদে। অফিসে এমন পোশাক পরা উচিত, যা আপনাকে সম্মানিতবোধ করায়।

করপোরেট ড্রেস কোড  
নারীদের জন্য করপোরেটে কয়েক ধরনের পোশাক বাছাইয়ের সুযোগ রয়েছে। সুতি কাপড়ের সালোয়ার-কামিজ ও শাড়ি বেছে নেওয়া যায় নির্দ্বিধায়। তবে শাড়ির সঙ্গে মানিয়ে ব্লাউজ পরার জন্য বড় গলার ও নটেড ব্লাউজ পরিহার করতে হবে। শাড়ি, কামিজ বা স্যুট সবগুলো পোশাকের রঙই হালকা হবে। চড়া রঙের পোশাক করপোরেট জগতে খুব একটা মানানসই নয়। এক্ষেত্রে হালকা নীল, সাদা, হালকা গোলাপি, ধূসর রঙের প্রাধান্য বেশি। আমাদের দেশে অফিসগুলোয় মেয়েরা তেমন একটা স্যুট পরে না, তবে চাইলে ফরমাল প্যান্টের সঙ্গে ব্লেজার পরতে পারেন।
যাদের অফিসে পোশাক নিয়ে তেমন কড়া নিয়ম নেই, তারা চাইলে ক্রিয়েটিভ ড্রেস কোড  ফলো করতে পারেন। এক্ষেত্রে ক্যাজুয়াল স্টাইল থাকতেই হয়। যেকোনো রঙের পোশাক বেছে নিতে পারেন। জিন্স বা লেগিংসের সঙ্গে পরতে পারেন নিজের খুশিমতো টপস, শর্ট কুর্তি, টি-শার্ট, বাটন ডাউন কলারের শার্ট। এই পোশাকগুলো কটন, নিটেড বা জর্জেট যেকোনো ফেব্রিকেরই হতে পারে। কাটিংয়ে থাকতে পারে নানা বৈচিত্র্য। সঙ্গে পছন্দমতো কটি বা কেইপ অথবা শ্রাগ পরলেও দারুণ লাগবে। রঙের বাঁধাধরা নিয়ম তো ক্রিয়েটিভদের জন্য নয়। শুধু ইল্যুমিনেটিং কোনো কাপড়ের পোশাক না পরলেই হবে। লেদারের বা চামড়ার জ্যাকেট পরতেও কোনো বাধা নেই।

নারীদের মতো পুরুষদেরও করপোরেটে পোশাকের ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হয়। ফ্যাশনেবল হওয়া যেমন উচিত, তেমনই এক্সপেরিমেন্ট করতে গিয়ে পোশাক বাছাইয়ে যেন ভুল না হয়ে যায়, সেদিকটাও দেখতে হবে। বেশি গাঢ় রঙের শার্ট পরে অফিসে না যাওয়াই উচিত। বরং সাদা, হালকা নীল, হালকা সবুজ, মিন্ট, ম্যাজেন্টা, পিচ, অফ হোয়াইটের মতো রঙের ফুলহাতা শার্ট পরতে পারেন। শার্ট সুতির কেনাই ভালো। এখন খাদির ওপরেও কিন্তু ফরমাল শার্ট পাওয়া যায়। এমন হালকা রঙের শার্ট পরে গেলে ভদ্র ও স্নিগ্ধও দেখাবে। প্যান্টের ক্ষেত্রে কালো, ধূসর বা ক্রিম হোয়াইট রঙের মধ্যেই সীমিত থাকুন। এ ছাড়া খেয়াল রাখবেন জামা-প্যান্ট যেন একেবারে ইস্ত্রি করা থাকে। কুঁচকানো জামা পরে গেলেও ভালো দেখায় না অফিসে। শার্ট-প্যান্ট একেবারে পরিষ্কার, ঝকঝকে এবং পরিমিত, অন্যদিকে প্যান্টের বেল্ট একেবারে চিকমিক করছেÑ এমনটা পরবেন না কিন্তু। বরং একটা সাধারণ লেদারের বেল্ট কিনে নিন। সামনে যেহেতু ঠান্ডা পরবে, শীতে ব্লেজার, জ্যাকেট, কটি বা স্যুট- এগুলো ফরমাল বা সেমিফরমাল পোশাক বেছে নিতে পারেন। 

নারী-পুরুষের করপোরেট পোশাক রয়েছে বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় ব্র্যান্ড কে ক্রাফটে। কী ধরনের পোশাক তাদের কাছে পাওয়া যাচ্ছে জানতে চাইলে সিনিয়র ডিজাইনার মোহাম্মদ শরীফুল হুদা বলেন, ছেলেদের জন্য স্ট্রাইপ, চেক ছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন মার্জিত রঙের ফরমাল শার্ট এবং এই ডিজাইনগুলো গাঢ় এবং হালকা উভয় শেডের ফরমা্ল প্যান্ট বা চিনোসের সঙ্গে মিলিয়ে এমনকি ছুটির দিনে ডেনিমের সঙ্গেও পরা যাবে। মেয়েদের জন্য নানান ডিজাইনের ট্রেন্ডি কুর্তি, সালোয়ার-কামিজ এবং শাড়ি থেকে বেছে নিতে পারেন আপনার ওয়ার্ক প্লেসের জন্য উপযোগী পোশাক। ফরমাল বিবেচনায় ডিজাইনাররা চমৎকার অলংকরণ, স্ক্রিন প্রিন্টিং এবং পরিমিত হ্যান্ড এমব্রয়ডারি যোগ করেছেন। সব বয়সের মেয়েরাই তাদের দৈনন্দিন অফিস বা বিশেষ ইভেন্টের জন্য উপযোগী পোশাক পাবেন এই কালেকশন থেকে। অফিস, মিটিং কিংবা প্রেজেন্টেশনে গ্রহণযোগ্য লুক পেতে মানানসই পোশাক নির্বাচনে আমাদের একটু সতর্ক হতে হয়। এ ছাড়া আবহাওয়া উপযোগী হতে হলে ভালো রুচিরও পরিচয় দিতে হবে। আরামদায়ক এবং উৎকৃষ্ট মানের কাপড়ে তৈরি কে ক্রাফটের ফরমাল পোশাকে দিনভর আপনি থাকবেন রিলাক্সড, যা নিশ্চিতভাবে আপনার আত্মবিশ্বাসকে বাড়িয়ে তুলবে।

অফিসের সাজ 
অফিসের সাজ হবে খুব হালকা। মেকআপ বলতে চোখে পানিরোধক কাজল অথবা চিকন করে দেওয়া আইলাইনার হতে পারে। মাসকারা চাইলে ঘন করে দেওয়া যেতে পারে। মুখে কোনো দাগ বা চোখের নিচে কালি থাকলে হালকা ফাউন্ডেশন লাগানো যেতে পারে। তবে তা যেন ত্বকের ওপর ভেসে না থাকে। আইশ্যাডো না দিলেও চলে, যদি দিতেই হয় সেক্ষেত্রে ন্যুড না ন্যাচারাল রঙের হলেই ভালো। লিপস্টিক বেছে নিন হালকা গোলাপি, পিচ বা বাদামি রঙের। অফিসে বিশেষ কোনো দিনে গালে হালকা গোলাপি আভার ব্লাশন দেওয়া যেতে পারে। মুখের মেকআপ করার পর হাত বা গলার রঙের মধ্যে সামঞ্জস্য আনতে হবে। নইলে সবার আগে মানুষের নজর মুখের দিকেই যাবে। এতে বিব্রত পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। 
চুলগুলোকে তো অবশ্যই পরিপাটি করে রাখতে হবে; যেন কাজের মনোযোগ নষ্ট না হয়। চুলে সাধারণ কোনো হাতখোঁপা বা পনিটেইল করা যেতে পারে। সামনে ছোট চুল থাকলে তা ক্লিপ দিয়ে আটকে নিন। চুল ছোট হলে সুন্দর করে আঁচড়িয়ে খোলাই রাখুন। আর চুলটা যদি হয় কাঁধের নিচ পর্যন্ত বড়, তাহলে পনিটেইল বা চিগনন বান করে নিতে পারেন। 
ছেলেদের চুলের ক্ষেত্রে
স্লিকড ব্যাক : মাঝারি থেকে লম্বা চুলের জন্য এই স্টাইলটি খুব ভালো। পোমেড বা জেল ব্যবহার করে চুল মসৃণভাবে পেছনের দিকে আঁচড়ে সেট করা হয়, যা পরিপাটি ও পেশাদার লুক দেয়।
সাইড পার্ট : এটি একটি ক্লাসিক স্টাইল, যা যেকোনো পেশাদার পরিবেশের জন্য উপযুক্ত। চুল একপাশে সিঁথি করে আঁচড়ানো হয় এবং এটি দেখতে পরিপাটি ও মার্জিত লাগে।
কম্ব ওভার টেপার ফেইড : এই স্টাইলে চুলের এক পাশ থেকে অন্য পাশে নিয়ে একটি সুন্দর ফেইড করা হয়, যা একটি আধুনিক অথচ ক্লাসিক লুক দেয়।

অ্যাকসেসরিজ 
অফিসের পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে গলায় নেকলেস না পরাই ভালো। কানে টব জাতীয় দুল পরতে পারেন, তবে তা অবশ্যই যেন আপনার কানের লতি যেন ছাড়িয়ে না যায়। হাতে লেদার বা চেইনের ফরমাল ঘড়ি, পাতলা ব্রেসলেট বেশ মানিয়ে যাবে। পায়ে ১-৩ ইঞ্চির মতো টোও ক্লোসড হিল পরুন। ক্রিয়েটিভদের অনেক বেশি সময় বাইরে থাকতে হয়, তাই তারা বড় একটি ক্লাসিক হ্যান্ড ব্যাগ সঙ্গে রাখতে পারেন। ফরমাল পরিবেশে ক্লোজড-টু শু পরা উচিত, যেমন লো হিল বা ফ্ল্যাটস। এগুলো দেখতে সুন্দর এবং আরামদায়ক। যদি হিল পরেন, তাহলে লো হিল বেছে নিন, যা হবে আরামদায়ক এবং সারা দিন পরার জন্য উপযুক্ত। লেদার বা ফেব্রিক ব্যাগ বেছে নিতে পারেন; যা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বহন করতে সক্ষম। সেইসঙ্গে পোশাকের সঙ্গে মানিয়ে যাবে এমন ব্যাগ বেছে নিন। লক্ষ রাখবেন খুব বেশি বড় বা ছোট সাইজের ব্যাগ না নিতে। ব্যাগ বেশি বড় হলে ক্যারি করতে অসুবিধা হবে এবং অফিসে বেমানান লাগবে। অন্যদিকে ছোট আকারের হলে প্রয়োজনীয় সব জিনিস ক্যারি করতে পারবেন না।

যেসব দিকে খেয়াল রাখতে হবে 
পোশাকের ফিটিং যেন সঠিক হয়, খুব টাইট বা খুব ঢিলেঢালা পোশাক হওয়া উচিত নয়। সঠিক ফিটিংয়ের পোশাক পরলে দেখতে সুন্দর লাগে, অন্যদিকে আত্মবিশ্বাসী দেখায়।
পোশাক অবশ্যই পরিষ্কার এবং ইস্ত্রি করা থাকা উচিত। এতে আপনাকে পরিপাটি এবং পরিশীলিত দেখাবে। 
অফিসের পরিবেশের সঙ্গে খাপ খায় এমন পোশাক পরা গুরুত্বপূর্ণ। অত্যধিক উন্মুক্ত বা খুবই ক্যাজুয়াল পোশাক এড়িয়ে চলা উচিত।

ছবি কৃতজ্ঞতা : কে ক্র্যাফট
শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা