আরফাতুন নাবিলা
প্রকাশ : ১৮ নভেম্বর ২০২৫ ১৭:২২ পিএম
নভেম্বরের অর্ধেকের বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। তবু চড়া রোদের তাপ কমছে না। বাইরে বের হলেই ত্বক পুড়ে যাচ্ছে। প্রচণ্ড রোদের তাপে ত্বক কালচে হয়ে যাচ্ছে, দেখা দিচ্ছে র্যাশ, অল্প বয়সেই বয়সের ছাপ পড়ে যাচ্ছে। সূর্যের তাপ যে ত্বকের কতটা ক্ষতি করে সেটা আমরা জানলেও এর প্রতিরোধে কী কী করা উচিত সেটা তেমন একটা মানি না। অতি বেগুনি রশ্মি থেকে ত্বককে সুরক্ষিত রাখার জন্য সানস্ক্রিন কাজ করে ম্যাজিকের মতো।
সানস্ক্রিন ব্যবহার আমাদের দেশে এর আগে তেমন একটা প্রচলিত ছিল না। কারণ এই বিষয় নিয়ে সচেতনতাও ছিল কম। যারা সানস্ক্রিন ব্যবহার করতেন তাদের মধ্যে বেশিরভাগই দেশের বাইরে থেকে সানস্ক্রিন নিয়ে আসতেন। প্রায়ই দেখা যেত সেগুলো ত্বকে ভালোভাবে কাজ করছে না। সুরক্ষার বদলে সেগুলো থেকে ত্বকে দেখা দিত ব্রণ, ফুসকুড়ি বা ত্বকে সাদা সাদা হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা। এই সমস্যার সমাধান দেশেই যে পাওয়া যেতে পারে সেটা কয়েক বছর আগেও কেউ চিন্তা করেনি। কারণ দেশীয় বাজারে দেশেই তৈরি এ ধরনের পণ্য নিয়ে কোনো ব্র্যান্ড সেভাবে কখনও ভাবেইনি।
দেশে বড় বড় ব্র্যান্ড তাদের নিজস্ব নানা প্রসাধনী পণ্য নিয়ে অনেক দিন ধরেই কাজ করছে। তবে ত্বককে সুরক্ষিত রাখার জন্য অন্যতম জরুরি যে সানস্ক্রিনÑ সেটা নিয়ে কেউ সেভাবে এতদিন এগিয়ে আসেনি। বাংলাদেশের আবহাওয়ায় যে দেশীয় পণ্যই একমাত্র সমাধান হতে পারে সেটা নিয়ে সবার আগে ভেবেছে স্কিনক্যাফে। তারাই সর্বপ্রথম দেশে নিয়ে এসেছে স্কিনক্যাফে সানস্ক্রিন।

সানস্ক্রিন ব্যবহার না করলে কী কী ক্ষতি
আমাদের ত্বক সাধারণত ইউভিএ ও ইউভিবি নামে দুই ধরনের সূর্যরশ্মির মুখোমুখি হয়। এই দুই রশ্মির কারণে আমাদের স্কিনে যে সমস্যাগুলো হয়Ñ
ইউভিএ রশ্মি : ত্বকের ভেতর পর্যন্ত গিয়ে কোলাজেন প্রোডাকশন কমিয়ে দেয় এই রশ্মিটি। আর এ কারণে বয়সের আগেই ত্বক বুড়িয়ে যায়।
ইউভিবি রশ্মি : আমাদের ত্বকের সানবার্ন হয় এই রশ্মির কারণে। এ ছাড়া ত্বকে পিগমেন্টেশন বা ডার্ক প্যাচের মতো সমস্যাগুলো হওয়ার পেছনেও এই রশ্মিটি দায়ী।
সূর্যের এই রশ্মিগুলো থেকে ত্বককে সুরক্ষা দেওয়ার কাজটিই সানস্ক্রিন করে। তাই ত্বককে এই রশ্মিগুলো থেকে সুরক্ষিত রাখতে হলে ত্বকের যত্নে প্রতিদিনের রুটিনে সানস্ক্রিন অবশ্যই রাখতে হবে।
এসপিএফ ও পিএ প্লাস কী
সানস্ক্রিনে এসপিএফ শব্দটির সঙ্গে আমরা অনেকেই পরিচিত। এর অর্থ হচ্ছে সান প্রোটেকশন ফ্যাক্টর। এই এসপিএফের ওপরই ডিপেন্ড করে আপনার সানস্ক্রিন আপনাকে সান ড্যামেজ থেকে কতটুকু সুরক্ষা দেবে। ধরুন আপনার সানস্ক্রিনে SPF 35 লেখা আছে। এর অর্থ হচ্ছে সানস্ক্রিনটি আপনাকে ইউভি রে থেকে ৯৭% সুরক্ষা দেবে। ঠিক একইভাবে SPF 50 ৯৮% ইউভি রে এবং SPF 100 যুক্ত সানস্ক্রিন আপনাকে ৯৯% সুরক্ষা দেবে। সব সানস্ক্রিনই একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সূর্যরশ্মি থেকে সুরক্ষা দেয়। আপনি যত লম্বা সময় সূর্যের আলোতে থাকবেন, যত বেশি ঘামবেন তত এর কার্যকারিতা কমতে থাকবে। যে ব্যক্তি SPF 30 যুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করছেন তিনি অবশ্যই SPF 15-এর চেয়ে বেশি সুরক্ষা পাচ্ছেন। তবে আরও একটি বিষয় জানিয়ে রাখি, আপনি যত বেশি এসপিএফ যুক্ত সানস্ক্রিনই ব্যবহার করুন না কেন ২-৩ ঘণ্টা পরপর অবশ্যই সেটা রিঅ্যাপ্লাই করতে হবে।
সানস্ক্রিনের প্যাকেজিংয়ে পিএ প্লাস (PA+) থেকে পিএ প্লাস প্লাস (PA++) এবং পিএ প্লাস প্লাস প্লাস (PA+++) পর্যন্ত দেখা যায়। যত বেশি প্লাস, তত বেশি ইউ ভি এ (UV A) রশ্মি থেকে প্রোটেকশন পাওয়া যায়, মানে ডিপ লেয়ারে গিয়ে কাজ করে।
স্কিনক্যাফে সানস্ক্রিন
সানস্ক্রিনের জগতে বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নাম আমরা জানি। সুপরিচিত যে ব্র্যান্ডগুলো রয়েছে সেগুলো ব্যবহারে কমবেশি অনেকেই সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। কারণ সেগুলো বানানো হয় নিজ নিজ দেশের আবহাওয়ার পর নির্ভর করে। বাংলাদেশের যে আবহাওয়া সেখানে প্রয়োজন দেশীয় কোনো পণ্য যেটা আমাদের ত্বকে কার্যকর হবে। আমাদের ত্বক, আবহাওয়া এসব কিছুর ওপর গবেষণা করে তৈরি করা হয়েছে স্কিনক্যাফে সানস্ক্রিন।
এই সানস্ক্রিন কেন বেস্ট
ত্বককে সুরক্ষিত রাখার জন্য স্কিনক্যাফে ব্র্যান্ডের রয়েছে নানা ধরনের প্রসাধনী পণ্য, যার মধ্যে সানস্ক্রিন অন্যতম। ঘরে বসে স্কিন ক্যাফে সানস্ক্রিন কিনতে সরাসরি ভিজিট করতে পারেন skincafe.co এই ওয়েবসাইটে। অথবা সানস্ক্রিনটি কিনতে পারেন আপনার নিকটের যেকোনো সুপারশপ অথবা সাজগোজ ডটকমে।