× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ডিজিটাল ডিটক্সে সুস্থতা

মাহবুবা মিতু

প্রকাশ : ১৮ নভেম্বর ২০২৫ ১৫:৩৮ পিএম

ডিজিটাল ডিটক্সে সুস্থতা

আজকের বিশ্বে আমরা এক অদৃশ্য সুতোয় বাঁধা, তা হলো ডিজিটাল ডিভাইস ও স্ক্রিনের প্রবল আকর্ষণ। স্মার্টফোন, ল্যাপটপ এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মগুলো জীবনকে সহজ করেছে ঠিকই, কিন্তু এর অতিরিক্ত ব্যবহার আমাদের মানসিক শান্তি ও শারীরিক সুস্থতার ওপর গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ক্রমাগত নোটিফিকেশন, স্ক্রল করার অভ্যাস এবং অন্যের নিখুঁত জীবন দেখে নিজেদের তুলনা করার ফলে বাড়ছে উদ্বেগ, মানসিক চাপ, কাজে মনোযোগের অভাব, ঘুমের ব্যাঘাত, স্থূলতাসহ নানান রোগ। এই ডিজিটাল আসক্তি যখন দৈনন্দিন জীবনে বাধা সৃষ্টি করতে শুরু করে, ঠিক তখনই প্রয়োজন হয় একটি সচেতন বিরতির, আর সেই সচেতন বিরতির নামই হলো ডিজিটাল ডিটক্স। এটা শুধু নিছকই একটি বিরতি নয়; এটি হলো সচেতনভাবে নেওয়া একটি সংকল্প। একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্বেচ্ছায় সব ডিজিটাল সরঞ্জাম বিশেষত ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়ার বাঁধাধরা জগৎ থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করার প্রক্রিয়া।

ডিজিটাল ডিটক্স কেন জরুরি 

আজকের যুগে আমরা প্রায় সারা দিনই ফোন, ট্যাব, কম্পিউটার বা টেলিভিশনের মাধ্যমে কোনো না কোনোভাবে স্ক্রিনের সঙ্গে যুক্ত থাকি। সকাল থেকে রাত কাজের নোটিফিকেশনের অবিরাম ঝনঝনানি, সোশ্যাল মিডিয়ায় আপ টু ডেট থাকার অদৃশ্য চাপ, FOMO (Fear of Missing Out), সারাক্ষণ ‘অনলাইন’ থাকার নীরব বাধ্যবাধকতা। এতে কাজের গতি যেমন বেড়েছে, তেমনই মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও মনোযোগের ভাঙনও বেড়েছে অনেকগুণ। কিন্তু মনোযোগ বাড়ানোর জন্যই হোক বা উদ্বেগ কমানোর জন্য; ডিজিটাল ডিটক্সের প্রয়োজনীয়তা কেন চলুন জেনে নেওয়া যাক। 

মানসিক স্বাস্থ্য 

আমাদের মন আজ এক নীরব ডিজিটাল যুদ্ধক্ষেত্র, আর আমরা ক্লান্ত সৈনিক। এ ক্লান্তি আমরা লুকিয়ে রাখি ‘আধুনিক জীবন’ নামের ঢালে। ফলে মনোযোগ ছিন্নভিন্ন হয়, আত্মবিশ্বাস ক্ষয়ে যায়, মনে উদ্বেগ জমে, আমরা ভাবি, ‘এটাই তো স্বাভাবিক’। কিন্তু এই ডিজিটাল আসক্তি আমাদের মানসিক ও শারীরিক সুস্থতাকে গ্রাস করছে।

মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ডিজিটাল ডিটক্স কেন জরুরি 

উদ্বেগ কমাতে 

ক্রমাগত নোটিফিকেশন, মেসেজ, ইমেইল আমাদের মস্তিষ্ককে সর্বদা সতর্ক রাখে। অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম স্ট্রেস ও অ্যাংজাইটি বাড়ায়, ডিজিটাল ডিটক্স এই চাপ কমিয়ে উদ্বেগ হ্রাস করে। কয়েক ঘণ্টার ডিজিটাল বিরতি মস্তিষ্ককে বিশ্রাম দেয়, যা স্ট্রেস ও অ্যাংজাইটি কমাতে সাহায্য করে।

মনোযোগ বাড়াতে

একই সঙ্গে অনেক কাজ করার দরুণ স্ক্রিনে বারবার মনোযোগ বদলাতে গিয়ে মনোযোগের স্থায়িত্ব কমে যায়। ডিজিটাল ডিটক্স মনকে পুনরায় কেন্দ্রীভূত হতে সহায়তা করে। এর মাধ্যমে মাল্টিটাস্কিং কমে, এতে কোনো একটা কাজে সম্পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া যায়, আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনে।

মানবিক সম্পর্ক মজবুত করে

বাস্তব জীবনের মানুষের সঙ্গে সময় কাটালে একাকিত্ব কমে ও আবেগগত সংযোগ বৃদ্ধি পায়। ডিজিটাল ডিটক্স পরিবার ও বন্ধুর সঙ্গে সম্পর্ককে আরও উষ্ণ করে তোলে।

আত্মচেতনা ও মানসিক প্রশান্তি আনে

ডিজিটাল ডিটক্সের সময় বই পড়া, হাঁটাহাঁটি, ধ্যান বা বাগান করার মতো কাজ করলে নিজের সঙ্গে সময় কাটানো যায়, যা আত্মসচেতনতা বাড়ায়, মানসিক ভারসাম্য রক্ষা করে।

শারীরিক স্বাস্থ্য 

ডিজিটাল ডিভাইসের অতিরিক্ত ব্যবহার শুধু মানসিক নয়, শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্যও বড় হুমকি। দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকা, অনিয়মিত জীবনযাপন ও শারীরিক নড়াচড়া কমে যাওয়া নানা রোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। শারীরিক দিক থেকে ডিজিটাল ডিটক্সের কিছু উপকারিতা হচ্ছেÑ

ভালো ঘুম 

স্ক্রিনের নীল আলো ঘুমের হরমোন ‘মেলাটোনিন’-এর ক্ষরণে বাধা দেয়। রাতে স্ক্রিনমুক্ত সময় ঘুমকে গভীর ও প্রশান্ত করে।

চোখের ক্লান্তি ও দৃষ্টি সমস্যা কমায়

দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকলে চোখে জ্বালা, ঝাপসা দেখা ও মাথাব্যথা হতে পারে; যা ‘ডিজিটাল আই স্ট্রেইন’ নামে পরিচিত। স্ক্রিন থেকে বিরতি নিলে চোখ বিশ্রাম পায় ও দৃষ্টিশক্তি ভালো থাকে।

শরীরের সক্রিয়তা ও সুরক্ষা

মোবাইল বা ল্যাপটপে ঝুঁকে বসার অভ্যাস ঘাড়, কাঁধ ও পিঠে ব্যথার কারণ হয়। নিয়মিত ডিজিটাল ডিটক্স শরীরের স্বাভাবিক অঙ্গভঙ্গি ফিরিয়ে আনে ও ব্যথা কমায়। তা ছাড়া স্ক্রিনে সময় কাটানোর ফলে শারীরিক কার্যক্রম কমে যায়, যা মোটা হয়ে যাওয়া, ডায়াবেটিস বা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। ডিজিটাল ডিটক্স চলাকালীন হাঁটা, ব্যায়াম বা বাইরের কাজ করলে শরীর সক্রিয় থাকে।

শরীর-মনের ভারসাম্য ফেরাতে

ডিজিটাল ডিটক্সের সময় প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটালে শরীর সতেজ হয়, মস্তিষ্কে অক্সিজেনের সরবরাহ বাড়ে ও সার্বিক সুস্থতা ফিরে আসে।

ডিজিটাল ডিটক্স শুরু করার কার্যকরী পদক্ষেপ

প্রথমেই নিজের উদ্দেশ্য পরিষ্কার করতে হবেÑ আপনি কেন ডিজিটাল ডিটক্স করতে চান? লক্ষ্য ঠিক থাকলে অনুপ্রেরণা বজায় রাখা সহজ হয়। এরপর নিজের দৈনন্দিন স্ক্রিন ব্যবহারের পরিমাণ জানার চেষ্টা করুন। ফোনের স্ক্রিন টাইম বা ডিজিটাল ওয়েলবিং ফিচার ব্যবহার করে দেখুন দিনে কোন অ্যাপে সবচেয়ে বেশি সময় দিচ্ছেন। এরপর ব্যবহার সীমিত করার পরিকল্পনা নিন। 

বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নির্ধারণ

ছোট্ট পদক্ষেপ দিয়ে শুরু করা যেমনÑ দিনে ১-২ ঘণ্টা ডিভাইসমুক্ত থাকা, পরবর্তীতে তা পুরো ১ দিনে নিতে পারেন। 

রুটিন পরিবর্তন

সকালের রুটিন : ঘুম থেকে ওঠার প্রথম ১ ঘণ্টা ফোন স্পর্শ না করা।

রাতের রুটিন : ঘুমানোর ১ ঘণ্টা আগে থেকে সব স্ক্রিন বন্ধ করা।

নোটিফিকেশন নিয়ন্ত্রণ : অপ্রয়োজনীয় অ্যাপসের নোটিফিকেশন বন্ধ করা এবং ফোনকে ‘সাইলেন্ট’ বা ‘ডু নট ডিস্টার্ব’ মোডে রাখা। 

নো ফোন জোন নির্ধারণ : ডাইনিং টেবিল বা শোবার ঘরকে ‘নো-ফোন জোন’ হিসেবে ঘোষণা করা।

বিকল্প কার্যকলাপ খুঁজে বের করা : স্ক্রিন টাইমের বিকল্প খুঁজে বের করুন। এটা হতে পারে বই পড়া, ছবি আঁকা, রান্না করা বা সরাসরি সামাজিক যোগাযোগ স্থাপন করা। পরিবারের সবাই মিলে ‘ডিজিটাল ডিটক্স ডে’ পালন করাও চমৎকার একটি উদ্যোগ হতে পারে, যেখানে সবাই ফোন ছাড়াই একসঙ্গে সময় কাটাবে।


শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা