প্রতিযোগিতা
মোকছেদুল মমিন মোয়াজ্জেম, হিলি (দিনাজপুর)
প্রকাশ : ১৫ নভেম্বর ২০২৫ ১০:০৪ এএম
প্রবা ফটো
কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে জনসাধারণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে গ্রামবাংলার অনেক প্রতিযোগিতা। আবহমান ইতিহাস ঐতিহ্যেরও অনেক কিছুই আজ বিলুপ্তির পথে। তার মাঝেও দেশের কোথাও কোথাও এখনও ফুটবল, ক্রিকেট, হাডুডু, সাপ খেলা, পাতা খেলাসহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী খেলার আয়োজন হয়। এবারে তারই ধারাবাহিকতায় দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে অনুষ্ঠিত হলো ব্যতিক্রমধর্মী এক প্রতিযোগিতাÑ যার নাম খাদক (হাঙর) খাওয়ার প্রতিযোগিতা।
গতকাল শুক্রবার বিকালে ঘোড়াঘাট পৌর শহরের ফুটবল মাঠে অনুষ্ঠিত হয় এই ভিন্নধর্মী প্রতিযোগিতা দেখতে মাঠে শত শত নারী-পুরুষ, শিশু, কিশোর-কিশোরী ও বৃদ্ধরা ভিড় করেন। প্রতিযোগিতায় অংশ নেন নয়জন খাদক।
আয়োজকরা খেলার মাঠে প্রতিযোগীদের জন্য নির্ধারিত সময় বেঁধে দেন ১৫ মিনিট। এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই যে প্রতিযোগী সবার আগে ভাত, গরুর মাংস, ডাল ও ডিম শেষ করবে তাকেই বিজয়ী ঘোষণা করা হবে। নয়জন প্রতিযোগীর মধ্যে প্রথম হন সুলতান, রাজিব দ্বিতীয় ও স্বাধীন তৃতীয় হন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তারা খাবার শেষ করে বিজয়ী হন। প্রতিযোগিতা শেষে প্রথমস্থান অধিকারী সুলতানের হাতে তুলে দেওয়া হয় একটি ছাগল, দ্বিতীয়স্থান অধিকারী রাজিবকে দেওয়া হয় একটি রাজহাঁস এবং তৃতীয়স্থান অধিকারী স্বাধীন পান একটি মোবাইল ফোন।
খাদক প্রতিযোগিতায় প্রথমস্থান অধিকারী সুলতান হোসেন বলেন, ‘প্রথম হতে পেরে খুব ভালো লাগছে। সব ধরনের খাবারই আমি দ্রুত খেতে পারি। আরও খাবার দিলেও এখানে আমি খেতে পারতাম।’
ভিন্নধর্মী এই আয়োজন প্রসঙ্গে আয়োজক নূর মোহাম্মদ রিমন বলেন, ‘এলাকায় বিভিন্ন খেলার প্রতিযোগিতা থাকে। তবে আমরা একটু ব্যতিক্রম কিছু করার চেষ্টা করেছি। ঘোড়াঘাট পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে গত ২৩ তারিখ থেকে ওয়ার্ডভিত্তিক খাওয়ার প্রতিযোগিতা শুরু করি। প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে একজনকে বিজয়ী করে আজ নয়জনের মধ্যে ফাইনাল অনুষ্ঠিত হলো।’
প্রতিযোগিতা দেখতে আসা স্কুলছাত্রী সুমাইয়া রাজি বলেন, ‘এমন খেলা এই প্রথম দেখলাম। খুবই ভালো লেগেছে। আনন্দ পেয়েছি।’
মাঠে উপস্থিত আতোয়ার, বেলায়েক ইসলাম, বেলাল হোসেনসহ দর্শকদের অনেকেই বলেন, ‘এত অল্প সময়ে এত খাবার যে খাওয়া যায়, এটা প্রথম দেখলাম। এখানে আগে এমন প্রতিযোগিতা হয়নি।’ দর্শকরা প্রতি বছরই এমন আয়োজনের পক্ষে মত দেন।
ব্যতিক্রমী এই আয়োজনের জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে ঘোড়াঘাট উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল সাত্তার মিলন বলেন, ‘বিজয়ীদের খাদক বা হাঙর নাম দেওয়া হয়েছে, যা খুবই মানানসই। খেলাটি উপভোগ করেছি।’