আমাদের আরিয়া। সারা দিন তার হাজারো প্রশ্ন। এটা হলো কেন? ওটা হলো কেন? যা দেখে তাই নিয়ে প্রশ্ন। প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতে বাড়ির সবাই ক্লান্ত। তবে আরিয়া ক্লান্ত হয় না।
এক দিন টবে গাছ দেখে প্রশ্ন করে, ‘বাবা, গাছের পাতা সবুজ কেন?’
বাবা হেসে উত্তর দিলেন, ‘পাতায় ক্লোরোফিল থাকে। তাই পাতা সবুজ।’
আরিয়ার পাল্টা প্রশ্ন, ‘বাবা, ক্লোরোফিল কী?’
বাবা আর উত্তর দিতে পারলেন না। বললেন, ‘তুমি বড় হও। তারপর সব জানবে।’
আরিয়া বিরক্ত হয়ে বলল, ‘তার মানে তুমি জানো না। এটা স্বীকার করলেই হয়। আর আমি এখন অনেক বড় হয়েছি।’
বাবা আর কথা বাড়ালেন না। কিছু বললেই আবার কোনো প্রশ্ন করে বসে। তাই চুপ থাকাই ভালো।
আরেক দিন বিকালের কথা। বাবার সঙ্গে শহর ঘুরতে বের হয়েছে আরিয়া। ও দেখল, রাস্তার মোড়ে একটি পোস্ট। তাতে তিনটি বাতি। এটা তো জানতেই হবে। তাই বাবাকে প্রশ্ন করল, ‘ওখানে সবুজ বাতি জ্বলছে কেন?’
বাবা বললেন, ‘এগুলো হলো ট্রাফিক সংকেত। সবুজ বাতি জ্বলা মানে গাড়ি চলবে। হলুদ বাতি জ্বলা মানে সতর্কসংকেত। আর লালবাতি জ্বললে গাড়ি থেমে যাবে।’
ঠিক তখনই লালবাতি জ্বলে ওঠে। ওকে নিয়ে রাস্তা পার হলেন বাবা। রাস্তার ওপাশে গিয়ে আরিয়া বলল, ‘বাবা, রাস্তায় ডোরাকাটা দাগ কেন?’
বাবা বলেন, ‘এই ডোরাকাটা দাগকে জেব্রা ক্রসিং বলে। হেঁটে রাস্তা পার হওয়ার সময় জেব্রা ক্রসিং দিয়ে পার হতে হয়।’
এ কথা শোনার পর আরিয়া ফিকফিক করে হেসে ওঠে।
বাবা অবাক হয়ে বললেন, ‘আমি কি হাসির কিছু বলেছি?’
আরিয়া বলল, ‘না, বাবা। তুমি হাসির কিছু বলোনি। তবে আমার হাসি পাচ্ছে, অন্য কারণে।’
বাবা জানতে চান, ‘কী কারণে তোমার হাসি পাচ্ছি, মামণি।’ ‘আচ্ছা বাবা, বড়রা বোকা কেন?’ আরিয়া প্রশ্ন করে।
বাবা বলেন, ‘তোমার কেন মনে হলো, বড়রা বোকা?’
‘কেন মনে হবে না বলো! রাস্তায় ডোরাকাটা দাগ। আর তার নাম জেব্রা ক্রসিং। অথচ দাগ দিয়ে পার হচ্ছে মানুষ! মানুষ ক্রসিং নাম দিলে ভালো হতো। জেব্রা ক্রসিং দিয়ে জেব্রা পার হবে, মানুষ কেন?’
আরিয়ার কথায় চুপ হয়ে যান বাবা। এই প্রশ্নের উত্তর জানা নেই তার। তিনি বললেন, ‘অনেক বক বক হয়েছে। এবার চলো একটু পানি খেয়ে নিই।’
আরিয়া বলল, ‘এইতো আবার বোকামি করলে।’
বাবা বুঝতে পারেন না কী বোকামি করলেন। তাই বোকার মতো আরিয়ার দিকে তাকিয়ে থাকেন। তখন আরিয়া বলে, ‘তোমার এই এক সমস্যা। ভুল করে বোকার মতো তাকিয়ে থাকো। তুমি বললে, পানি খাবে। আচ্ছা পানি কি খাওয়া যায়? পানি পান করতে হয়!’
বাবা আর কিছু বললেন না। দোকান থেকে এক লিটার পানি নিলেন। ঢকঢক করে কয়েক ঢোক পান করলেন। তারপর পানির বোতল আরিয়ার দিকে বাড়িয়ে দেন।
আরিয়া পানির বোতল নিয়ে দৌড়ে মাঠের দিকে যায়। বাবা ওপর পেছনে পেছনে যান। সেখানে একজন বৃদ্ধ লোক বসে আছেন। আরিয়া পানির বোতলটা তার হাতে দিল। বৃদ্ধ লোকটি পানি পেয়ে খুশি। তিনি আরিয়ার মাথায় হাত রেখে বলেন, ‘অনেক বড় হও।’
আরিয়া বাবার কাছে আসে। বাবা ওকে বুকে জড়িয়ে ধরে বলেন, ‘আমার মা সত্যিই বড় হয়ে গেছে।’
আরিয়া বলল, ‘ভালো কাজ করতে বড় হতে হয় না। ছোট থেকেই ছোট ছোট ভালো কাজ করা যায়। কেবল ইচ্ছে থাকতে হয়। আর ছোট ছোট ভালো কাজগুলোই এক দিন অনেক বড় হয়।’
আরিয়ার কথা শুনে বাবা হাসেন। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ মা, তুমি একদম ঠিক বলেছ।’