দিলীপ মজুমদার, কুমিল্লা
প্রকাশ : ১০ নভেম্বর ২০২৫ ১১:৩৪ এএম
কুমিল্লা মহেশাঙ্গনে রবিবার রাখের উপবাস পালনে প্রদীপ প্রজ্বলন করেন লোকনাথ ব্রহ্মচারীর অনুসারীরা। ছবি: প্রবা ফটো
রাখের উপবাস এ ব্রত পালন করেন বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারীর অনুসারীরা। প্রতি বছর ১৫ কার্তিকের পর মাসের বাকি শনি ও মঙ্গলবার তারা এটা পালন করেন। এ সময় আরাধনায় মগ্ন থাকেন ভক্তরা। এ উৎসব কেন্দ্র করে মেলা বসে মন্দির প্রাঙ্গণে। সব বয়সি মানুষ মেলায় এসে আনন্দ-উৎসব করে।
জানা গেছে, বাবা লোকনাথের ভক্ত ও অনুসারীরা আপনজনের মঙ্গল কামনা, বিপদ-আপদ এবং রোগবালাই থেকে মুক্তি পেতে এ ব্রত পালন করেন। ত্রিকালদর্শী পূর্ণব্রহ্ম লোকনাথের ভক্তরা ১৫ কার্তিকের পর মাসের বাকি সময়ের প্রতি শনি ও মঙ্গলবার এ ব্রত পালন করেন।
প্রতি বছরের মতো এবারও পরমপুরুষ লোকনাথ ব্রহ্মচারীর অনুসারীরা রাখের উপবাস ও ঘৃত প্রদীপ প্রজ্বালন উৎসব পালন করেছেন। শনিবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা মহেশাঙ্গনে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকশ নারী-পুরুষ প্রদীপ, ধূপ, ফুলফল সামনে নিয়ে একাগ্রচিত্তে লোকনাথের আরাধনায় নিমগ্ন। ব্রতের দ্বিতীয় দিনে মহেশাঙ্গনে দেড় হাজারেরও বেশি ব্রতী অংশ নেন। এ উৎসব কেন্দ্র করে মন্দির প্রাঙ্গণের খোলা মাঠজুড়ে মেলা বসেছে। মেলায় নানা পণ্য নিয়ে হাজির হয়েছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা বিক্রেতারা। তারা নানা আকর্ষণীয় পণ্যের পসরা নিয়ে এসেছেন। মেলায় এসেছেন বিভিন্ন ধর্মের মানুষ। উৎসুক মানুষের পাশাপাশি ক্রেতাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
এ বিষয়ে লোকনাথ স্মৃতি তর্পণ সংঘের সভাপতি ননীগোপাল পাল বলেন, এই ব্রতের আগের দিন সংযম করতে হয়। তারপর উপবাস থেকে সন্ধ্যার আগে ধূপ, প্রদীপ নিয়ে বসতে হবে। আরাধনায় বসে প্রদীপ জ্বালানোর সঙ্গে সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দিতে হয়। সংযম, মনোব্রত ও মনটাকে একাত্মচিত্তে লোকনাথকে ডাকতে হয়। প্রদীপ যখন জ্বালা শেষ হবে, মন্দির থেকে চালকলা দিয়ে দেয়। সেই চালকলা পুণ্যার্থীরা খায়। অনেকে এই চাল রেখে দেয়, যখন বিপদ-আপদ আসে, তখন খায়।
লোকনাথ স্মৃতি তর্পণ সংঘের সাধারণ সম্পাদক হারাধন ভৌমিক বলেন, এই ব্রত আগে বারদীতে হতো। এই মন্দিরে এ ব্রত হতো না। বারদী থেকে এটা প্রচার হয়েছে। প্রায় ৩৩ বছর আগে মহেশাঙ্গনে এ আরাধনা শুরু করেছে। এখন সারা দেশেই লোকনাথের মন্দিরে এই ব্রত হচ্ছে। অনেকে বাসাতে বসেও এই ব্রত করেন বলেও জানান তিনি।
মহেশাঙ্গনে ‘রাখের উপবাস’ ব্রত করতে আসা লোকনাথ ভক্ত অর্পিতা সরকার বলেন, আপনজনের মঙ্গল কামনা এবং রোগবালাই থেকে মুক্তি পেতে এ ব্রত পালন করতে এসেছি।