উপকথা
নিজাম বিশ্বাস
প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর ২০২৫ ১৫:০২ পিএম
অলংকরণ : রামিন দেওয়ান অষ্টম শ্রেণি, নেভী অ্যাংকরেজ স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা
ওয়েলিংটন, ১৯ জুলাই ১৯৬৯। স্থানীয় পুরনো কাহিনী অনুযায়ী এক মাওরী মেয়ে আগে থেকেই চাঁদে গিয়ে বসবাস করছেন। সুতরাং নীল আর্মস্ট্রং পৃথিবী হতে চাঁদে পা রাখা প্রথম ব্যক্তি হবেন না। আজ মাওরী উপজাতির রাজা হোরি পাকি ১০৪তম জন্মবার্ষিকী পালন করছেন। তিনি বলেন যে, মাওরীদের উপকথায় বলা হয়েছে, রোনা নামে একক মাওরী মেয়েকে অনেক অনেক বছর আগে চাঁদে নিয়ে যাওয়া হয়। পাকী বলেন, রোনা বহুদিন ধরে চাঁদে বসবাস করছে। আমি জানি না নতুন মানুষকে রোনা গ্রহণ করবে কি না।Ñ এপিপি/রয়টার
(প্রতিবেদনটি বর্তমান বানান রীতি অনুসারে)
এই খবর ছাপা হয়েছিল ৫৬ বছর আগে, ১৯৬৯ সালের ২০ জুলাই, দৈনিক আজাদে।
মার্কিন নভোচারী নিল আর্মস্ট্রং যখন চাঁদের মাটি স্পর্শ করতে যাচ্ছেন, নিউজিল্যান্ডের আদিবাসী মাওরিদের রাজা হোরি পাকি (১৮৬৫-১৯৭২) তখন তার ১০৪তম জন্মদিন পালনে ব্যস্ত। রাজার কানেও এ খবর এসে পৌঁছাল যে, নিল আর্মস্ট্রং নামের এক মার্কিন নভোচারী প্রথম মানুষ হিসেবে চাঁদের মাটিতে পা রাখতে যাচ্ছেন। পশ্চিমা দুনিয়ার এ খবরে রাজা মহা বিরক্ত! তিনি বললেন, ‘রোনা নামে আমাদের এক মেয়ে অনেক আগে থেকেই চাঁদে বসবাস করছেন।’ রাজার কথার ভিত্তি ছিল মাওরিদের উপকথা। একই সঙ্গে বৃদ্ধ রাজা আশঙ্কা প্রকাশ করলেন যে, নতুন করে যারা চাঁদে যাচ্ছে, রোনা তাদের গ্রহণ করবে কি না! মাওরি উপকথায় বলা আছে,‘অনেক দিন আগে রোনা নামে এক মাওরি মেয়ে ছিল। প্রতিদিন সে সাগর থেকে পানি আনতে যায়। একদিন খুব রোদ ছিল, তাই সে দিনের বেলা পানি সংগ্রহ করতে আর বের হলো না। রাতের বেলা বের হবে। কিন্তু চাঁদের আলো এতই কম ছিল যে, বের হতে তার দেরি হয়ে গেল। সামান্য আলোতে পা ফেলে ফেলে রোনা সাগরের তীরে এলো। অমনি চাঁদ মেঘের আড়ালে লুকাল, অন্ধকার নেমে এলো পথের ওপর। রোনা পথ ঠিকমতো না দেখতে পেরে হোঁচট খেয়ে পড়ে গেল। হাত ও পায়ে খুব আঘাত পেল। আর বেচারীর কলসিটাও গেল ভেঙে। চাঁদ বেটা কেন তার আলো লুকাল। এজন্য সে চাঁদকে ভীষণ বকাঝকা করল। চাঁদও কম যায় না, রোনার বকাঝকা শুনে সে নেমে এলো পৃথিবীতে। রোনাকে ধরে নিয়ে যাবে। অমনি রোনা একটি গাছ আঁকড়ে ধরল। কিন্তু চাঁদের গায়ে বেজায় জোর। সে রোনাকে ওই গাছসহ উপড়ে নিয়ে গেল। তারপর থেকে রোনা চাঁদের দেশেই বসবাস করছে। যখন পূর্ণিমা হয় তখন রোনাকে দেখা যায় তার ভাঙা কলসি নিয়ে বসে আছে, পাশেই সেদিনের সেই গাছটি।
পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা আদিবাসীরা তাদের কিংবদন্তিগাথাকে মনে-প্রাণে ধারণ করেন। বিশ্বাস করেন পুরাণের কথা। তাহলে কি সেদিন মাওরি রাজা হোরি পাকি ভুল কিছু বলেননি! অনেক অনেক দিন পরে হয়তো নিল আর্মস্ট্রংয়ের চাঁদে পা রাখার কথাটাও রূপকথা হয়ে যাবে!