এসকে সুজয়, নড়াইল
প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর ২০২৫ ১৪:৪৯ পিএম
নড়াইলের তুলারামপুর ও চাঁচড়া এলাকায় সবুজ গাছে ঝুলছে রঙিন টমেটো। ভারে নুয়ে পড়েছে কোনো কোনো গাছ। গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষে সফলতা পেয়েছেন স্থানীয় কৃষক। বেশি দাম পাওয়ায় খুশি তারা। হাসি ফুটেছে তাদের মুখে। অন্য ফসলের তুলনায় অধিক লাভজনক হওয়ায় আরও অনেকেই চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।
ক্লাইমেট স্মার্ট অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প (ডিএই অংশ) নড়াইল সদর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় পলিথিনের শেডে গ্রীষ্মকালীন বারি-৮ জাতের টমেটো চাষ করা হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি, অনুকূল আবহাওয়া এবং সঠিক পরিচর্যায় এ বছর টমেটোর ফলন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। কৃষি অফিসের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শে প্রথমবারের মতো চাষ করে সফল তারা।
চাঁচড়ার কৃষক কামরুল ইসলাম জানান, তিনি এ বছর কৃষি অফিস থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে তাদের পরামর্শে ২০ শতক জমিতে গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষ করেছেন। প্রায় ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বিক্রি করে খরচ বাদে এক থেকে দেড় লাখ টাকা লাভ হবে বলে তিনি আশা করছেন।
আরেক কৃষক বাহারুল মোল্যা বলেন, ‘আমি মূলত অন্যান্য ফসল চাষ করি। বাজারে টমেটোর দাম বেশি হওয়ায় এ বছর গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষের চেষ্টা করেছি। ফলন ভালো হয়েছে এবং খরচ বাদে যথেষ্ট লাভ হবে। এটা আমার জন্য খুবই ফলপ্রসূ প্রমাণিত হয়েছে।’
কৃষি অফিস থেকে আধুনিক চাষপদ্ধতির প্রশিক্ষণ নিয়েছেন রানা মোল্যা। তিনি জানান, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ এবং সঠিক পরিচর্যার কারণে ফলন ভালো হয়েছে। তার জমিতেও প্রায় ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। স্থানীয় বাজারে চাহিদা বেশি হওয়ায় পাইকারিতে প্রতিকেজি ৮০-৯০ টাকায় বিক্রি করেছেন। দাম এমন থাকলে প্রত্যাশা অনুযায়ী লাভ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রাজিব বিশ্বাস বলেন, ‘এ বছর তুলারামপুর ইউনিয়নে দেড় একর জমিতে গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষ হয়েছে। টমেটোর বাজারমূল্য ভালো হওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বৃদ্ধি বাড়ছে। আমরা কৃষকদের প্রশিক্ষণ, পরামর্শ, উপকরণ এবং বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি। এক একর জমিতে গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষে প্রায় তিন লাখ টাকা খরচ হয়। খরচ বাদেই আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা লাভ করা সম্ভব। কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় এখন আরও অনেকেই টমেটো চাষে ঝুঁকছেন।’
কৃষি অফিস আশা করছে, আগামী বছর আরও বেশি জমিতে গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষ হবে। এই সফলতা কৃষকদের মুখে যেমন হাসি ফুটিয়েছে, তেমনি নড়াইলের কৃষি অর্থনীতির চিত্রও বদলে দিচ্ছে। এমন ফলনশীল চাষপদ্ধতি স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
কৃষকরা জানান, সঠিক পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণ পেলে এই টমেটো চাষ আরও বেশি লাভজনক হতে পারে। খরচ কম এবং বাজারমূল্য বেশি হওয়ায় চাষিরা আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছেন।
নড়াইলের এ সফলতা অন্য অঞ্চলের কৃষকদের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।