এআই ও রোবটিক হ্যাকাথন-২০২৫
বর্তমান দাস
প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০২৫ ১২:৩৮ পিএম
‘ছোটবেলা থেকেই দেখেছি, মা আর আশপাশের নারীরা কত কষ্ট করে ঘরের কাজ সামলায়। তখনই মনে হতো, যদি এমন কোনো রোবট থাকত- যা তাদের একটু সাহায্য করতে পারত! সেই ভাবনা থেকেই রোবটিক্সের প্রতি আমার আগ্রহ। আমি এমন রোবট বানাতে চাই, যা মানুষের জীবনে সহজতা আর একটু ভালোবাসা এনে দেবে, বলছিলেন ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী দিনিকা।’
সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের মাঝে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবটিক্সের জ্ঞান ছড়িয়ে দিতে এবং আগামীর উদ্ভাবক হিসেবে তাদের গড়ে তুলতে অনুষ্ঠিত হলো ‘আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স ও রোবটিক হ্যাকাথন-২০২৫।’
সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এবং এমওডি (MoD) একাডেমির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের সিইও নাহিদ তামান্না। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. খালেকুজ্জামান।

হ্যাকাথনের বিভিন্ন সেশনে বিশেষজ্ঞ বক্তারা আলোচনা করেন। কোয়ান্টা রোবটিক্সের প্রতিষ্ঠাতা সঞ্জিত মন্ডল রোবটিক্সের ওপর একটি সেশন পরিচালনা করেন। এআই সেশনে বক্তব্য রাখেন টেকনোগ্রাম ও সবজান্তা এআই-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং জাপান বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের ডিরেক্টর আহমেদুল ইসলাম বাবু এবং টেকনোগ্রাম লিমিটেডের বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর এএসএম রিয়াজ। এ ছাড়া অনলাইন সেশনে অস্ট্রেলিয়া থেকে যুক্ত হন স্টেমসেল ফাউন্ডেশনের সিইও পেং চু এবং সিটিও মিরো কোস্টেকি।
অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ছিল শিক্ষার্থীদের চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা দেওয়া এবং তাদের গতানুগতিক শিক্ষার বাইরে এসে বাস্তব সমস্যা সমাধানে উদ্বুদ্ধ করা। দিনব্যাপী এই আয়োজনে রোবটিক্স এবং এআই-এর ওপর বিশেষ সেশন, ভিডিও প্রদর্শনী, শিক্ষার্থীদের প্রশ্নোত্তর পর্ব এবং গ্রুপ ফটো সেশন অন্তর্ভুক্ত ছিল।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের সিইও নাহিদ তামান্না বলেন, ‘আজকের এই হ্যাকাথন কেবল একটি প্রতিযোগিতামূলক আয়োজন নয়। এটি একটি বাস্তব অনুশীলন ক্ষেত্র, যেখানে আমাদের তরুণ মেধাবীরা একত্রিত হয়ে জটিল প্রযুক্তিগত সমস্যার সমাধান খুঁজবে। আমরা চাই, আমাদের আগামী প্রজন্ম শুধু প্রযুক্তির ব্যবহারকারী হবে না, তারা হবে প্রযুক্তির উদ্ভাবক ও নিয়ন্ত্রক। সেই লক্ষ্যে সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড স্কুলে একটি ইনোভেশন ও রোবটিক ল্যাব প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা নিজেদের সৃজনশীল চিন্তা ও উদ্ভাবনী ক্ষমতা বাস্তবে রূপ দিতে পারবে।’

সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. খালেকুজ্জামান তার স্বাগত বক্তব্যে বলেন, ‘আজকের এই দিনটি আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অগ্রযাত্রায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা। আমরা এমন এক শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে শেখা হবে আনন্দের, চিন্তা হবে মুক্ত এবং উদ্ভাবন হবে নিত্যনৈমিত্তিক অভ্যাস। আমরা আর শুধু প্রযুক্তির ব্যবহারকারী হয়ে থাকতে চাই না, আমরা প্রযুক্তির উদ্ভাবক হতে চাই। এই হ্যাকাথন শিক্ষার্থীদের নিজেদের সক্ষমতা আবিষ্কার করার একটি মঞ্চ।’
টেকনোগ্রাম ও সবজান্তা এআই-এর প্রতিষ্ঠাতা আহমেদুল ইসলাম বাবু বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কোনো ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি নয়; এটা বর্তমান। সত্যি হলো, এআই ইতোমধ্যে তোমাদের সবার পকেটে।’ তিনি আরও বলেন, ‘তোমাদের কাছে আমার একটাই অনুরোধ- প্রশ্ন করো এবং কৌতূহলী হও। তোমাদের এই কৌতূহলই বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।’
অস্ট্রেলিয়ার স্টেমসেল ফাউন্ডেশনের সিইও পেং চু তার বক্তব্যে বলেন, ‘প্রযুক্তি এবং মেধার কোনো সীমানা নেই। অস্ট্রেলিয়া থেকে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের এই অদম্য উৎসাহ ও মেধা দেখে আমরা রোমাঞ্চিত। সৈয়দপুরের এই আয়োজনটি বিশ্বমানের। আমরা সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এবং এমওডি একাডেমির এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। বাংলাদেশের এই তরুণ উদ্ভাবকদের জন্য বৈশ্বিক সহযোগিতার দ্বার উন্মুক্ত করতে আমরা আগ্রহী।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন এমওডি একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা সজীব রায়। সজীব রায় বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ছিল ঢাকার বাইরে, বিশেষ করে সৈয়দপুরের মতো সম্ভাবনাময় শহরে এআই এবং রোবটিক্সকে তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া। আজ শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দেখে আমি নিশ্চিত যে, আমরা সঠিক পথেই আছি।’ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ভিডিও বার্তায় বক্তব্য দেয় আমেরিকায় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী আরাফ ইসরাক।
অনুষ্ঠানের মিডিয়া পার্টনার হিসেবে যুক্ত ছিল- চ্যানেল আই, দৈনিক যুগান্তর এবং দ্য ডেইলি সান। ডকুমেন্টেশন পার্টনার ইন্টেলিয়া, ব্র্যান্ডিং পার্টনার কমস্কিউ এবং ইউনিক কমিউনিকেশন। হ্যাকাথন শেষে বিশেষজ্ঞ অতিথি এবং আয়োজকদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয় এবং একটি গ্রুপ ফটো সেশনের মাধ্যমে আয়োজনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয় উক্ত হ্যাকাথন ৭ দিনের অনলাইন প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে এবং শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে রোবট তৈরির প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।