যাবার বেলায় কেউ ডেকো না ডাকাই হবে সার
তখন আমি হাওয়ার গাড়ির উদাস পেসেঞ্জার
পুবাল হাওয়ার রেলগাড়িতে নেই কোনো ইঞ্জিন
মনপবনের স্বপ্ন বোনা কল্পনা রঙ্গিন।...
মাঠের শেষে গাছের সারি শালপিয়ালের বন
বন পেরিয়ে নির্জনতার নিবিড় ইস্টিশন।...
নীরব সবুজ পর্ণলতায় কাঁচপোকা ঝকমক
স্বর্ণরঙা হালকা রোদে পালক ঝরায় বক
জাউঠা বকের ধূসর ডানার ঝাপ্টানি ঝাঁপঝুপ
তল্লাবাঁশের দুলদুলুনি ছন্দ অনুষ্টুপ।
সকল ফেলে যাবার বেলায় ডাকাই হবে সার
পেছন ডাকে মনটা তখন সায় দেবে না আর।...
জাওয়াঝাড়ের শনশনানি গুটগুটিয়ার ঝোপ
নীল ময়ূরীর পাখার বাহার গাÑজুড়ে ছোপছোপ
খোড়ল পেঁচার ড্যাবড্যাবানো গুলগুলানো চোখ
পরান ভরে দেখব আমি বনের স্বর্গলোক।
বনের দেখা সাঙ্গ হলে ছুটবে গাড়ি ফের
বিভোরতায় ঘোর কাটিয়ে আর হব না বের।
বের হওয়া কী সাধ্য কারও জড়িয়ে নিলে মেঘ
মেঘের দেশে হারিয়ে গেলে থাকবে না উদ্বেগ।
থাকবে না আর ঝুটঝামেলা, পার্থিব হইচই
থাকবে পড়ে লেখনলাখন, ছড়িয়ে রাখা বই।
বন্ধ হবে ঝগড়াঝাটি ঈর্ষা প্রলোভন
কেউ ডেকো না যাব যখন অচিন ইস্টিশন।...
নেই সেখানে হিংসেÑক্রোধ, স্বার্থ, অহংকার
বিশ্বলোকের দৃশ্য দেখার কী আছে দরকার!
নোটন নোটন পায়রাগুলো অনেক দেখেছি
জলকুমুদীর পাপড়ি নিয়ে পদ্যি লেখেছি
তিরিশ রকম মানুষ নিয়ে সময় খুয়েছি
মায়ায় পড়ে সত্য ভেবে ছায়াই ছুঁয়েছি।...
ছায়াÑমায়ার দুপুর বিকেল সাঁঝের ঝিঁঝিডাক
নিসর্গকে বলব, এসব কায়ায় বেঁধে রাখ।
জুনির আলোয় সাজুক আঁধার গুটগুটিয়ার বন;
কেউ ডেকো না যাব যখন অচিন ইস্টিশন।