প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ অক্টোবর ২০২৫ ১৬:৩৯ পিএম
চুল সব সময় ঝলমলে ও সুন্দর থাকবেÑ এমনটা চাইলেও যত্ন নেওয়ার ক্ষেত্রে ছেলেদের আগ্রহ তেমন একটা নেই। সময় না পাওয়াও অবশ্য এর মধ্যে একটা কারণ। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যত্ন না নিলে চুল ঝরে পড়বে, যা মন খারাপেরই বিষয়। সহজ কয়েকটি নিয়ম মেনে চলেও চুল ভালো রাখা সম্ভব। চলুন জেনে নেই সেই নিয়মগুলো সম্পর্কে।
অতিরিক্ত পরিষ্কার না করা : অনেক ছেলেই ভাবেন চুলের যত্ন নেওয়া মানে বার বার চুল পরিষ্কার করা। অথচ এমনটা হলেই বরং চুলের জন্য ক্ষতিকর। সপ্তাহে দুই বা তিনবার কিংবা এক দিন পরপর শ্যাম্পু করাই যথেষ্ট। এর বেশি হলে মাথার ত্বকের প্রাকৃতিক তেল হারিয়ে যায়। অন্যান্য দিন পানি দিয়ে পরিষ্কার করে নিলেই চলবে। এতে চুলের স্বাস্থ্যও ভালো থাকবে, মাথার ত্বক প্রয়োজনীয় তেল হারাবে না।
আলতো করে শুকিয়ে নেওয়া : চুল ধোয়ার পর গামছা বা তোয়ালে দিয়ে আলতো করে মুছে ফেলতে হবে। বেশি জোরে ঘষা যাবে না। কারণ ভেজা চুল বেশ দুর্বল থাকে। বেশি জোরে ঘষে মুছলে চুল পড়তে শুরু করে। তাই হালকা করে মুছে ফ্যানের বাতাসে শুকিয়ে নিতে হবে।
অ্যালোভেরা জেলের ব্যবহার : চুলে স্টাইলিংয়ের জন্য অনেকেই নানা ধরনের হেয়ার ক্রিম বা জেল ব্যবহার করেন। এতে অনেক ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকে, যা দীর্ঘদিন ব্যবহারে চুলের ক্ষতি হতে পারে। এর খুব ভালো বিকল্প হিসেবে অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করতে পারেন। চুলের স্টাইলিংও হবে, আবার পুষ্টিও জোগাবে।
সপ্তাহে অন্তত দুদিন তেল দেওয়া : সুস্থ ও সুন্দর চুলের জন্য সপ্তাহে অন্তত দুদিন তেল দেওয়া উচিত। নারিকেল তেল ছাড়াও জলপাই তেল, আমন্ড তেল, আর্গান তেলও চুলে ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যায়। এগুলো চুলের পুষ্টি জোগাতে বেশ ভালো ভূমিকা রাখতে পারে।
খুশকির সমাধানে টি ট্রি অয়েল : ছেলেদের চুলের খুশকি হওয়ার প্রবণতা অনেক বেশি। এর সমাধান হিসেবে টি ট্রি অয়েল ব্যবহার করা যেতে পারে। বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত যে টি ট্রি অয়েল অনেক শক্তিশালী অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ও অ্যান্টিইনফ্ল্যামেটরি উপাদানে ভরপুর, যা খুশকি প্রতিরোধের ক্ষমতা রাখে। নারকেল বা অন্য যেকোনো তেলে কয়েক ফোঁটা টি ট্রি অয়েল মিশিয়ে সপ্তাহে দুদিন ব্যবহার করলে খুশকির সমস্যা কমে আসবে।
ঘরোয়া মাস্ক : চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য ডিম ও টক দই দিয়ে তৈরি ঘরোয়া মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন। ডিমে রয়েছে সালফার ও প্রোটিন, যা চুলের ফলিকল মজবুত করে ও নতুন চুল গজাতে ভূমিকা রাখে। সপ্তাহে অন্তত একবার চুলে এই মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন। এতে চুলের গোড়া শক্ত হওয়ার পাশাপাশি চুল ঝলমলে ও নরম হবে।
শক্ত করে চুল না বাঁধা : অনেকেই কাজের খাতিরে বা স্টাইল করতে চুল শক্ত করে বাঁধেন। এতে ‘ট্র্যাকশন অ্যালোপেশিয়া’ হয়ে চুল পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। একই কথা চুল বাঁধার ক্ষেত্রেও খাটে। লম্বা চুল যাদের আছে, তারা শক্ত করে পনিটেইল করা এড়িয়ে চলুন।
ট্রিম করা : চুল পরিপাটি ও ভালো রাখতে রাখতে ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ পরপর ট্রিম করতে হবে।
সুষম খাবার : ভিটামিন বি-১২ ও ডি, বায়োটিন, রাইবোফ্লাভিন, আয়রনসহ অন্যান্য পুষ্টির ঘাটতি চুল পড়ার সঙ্গে জড়িত। ডায়েটে প্রোটিন ও বায়োটিনের অভাব হলে চুল পড়ে। প্রোটিন ও বায়োটিনের ভালো উৎস হলো ডিম, যা চুলের বৃদ্ধির জন্য দ্রুত পুষ্টি জোগায়। ছেলেদের ডায়েটে ডিম, সবুজ শাক ও চর্বিযুক্ত মাছের মতো উচ্চ পুষ্টি রয়েছে, এমন খাবার রাখা উচিত।