× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ঘরে সৌরভের ছোঁয়া

মাহবুবা মিতু

প্রকাশ : ১৪ অক্টোবর ২০২৫ ১১:৫০ এএম

ঘরে সৌরভের ছোঁয়া

বর্তমানে ঘর সৌরভময় রাখাটা ট্রেন্ড, সাজসজ্জার অংশ, কিন্তু একসময় এটি ছিল পবিত্রতার প্রতীক, বিশ্বাসের প্রকাশ, এমনকি চিকিৎসারও অংশ। এটা একই সঙ্গে মানুষের জীবনযাপন, সংস্কৃতি আর মানসিকতার গল্পও। প্রাচীন মন্দিরে ধূপের ধোঁয়া থেকে শুরু করে আজকের সুগন্ধি মোমবাতি, ধূপকাঠি বা অ্যারোমা ডিফিউজার সবই হয়েছে সৌরভের জন্য। শুধু হয়তো ঘ্রাণ বদলেছে, সময় বদলেছে, কিন্তু ঘরে শান্তি আর স্বস্তির যে খোঁজ সেটা রয়ে গেছে ঠিক আগের মতোই।

ঘর সৌরভময় রাখার প্রাচীন ইতিহাস 

ঘর সৌরভময় রাখার প্রাচীন ইতিহাস হাজার হাজার বছরের পুরনো এবং এটি বিভিন্ন সংস্কৃতি, ধর্মীয় আচার এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সঙ্গে জড়িত। মানুষ প্রাচীনকাল থেকেই প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করে ঘরের পরিবেশকে সতেজ, পবিত্র ও আকর্ষণীয় করে তুলত। বিভিন্ন সময়ে এই সুঘ্রাণের রয়েছে নানা ইতিহাস। 

মিসরীয় সভ্যতায় 

প্রায় ছয় হাজার বছর আগে মিসরীয়রা দেবতার পূজায় ব্যবহার করত ধূপ ও রজন। তাদের বিশ্বাস ছিল, সুবাস আত্মাকে পবিত্র করে এবং দেবতার কাছে তাদের প্রার্থনা পৌঁছে দিয়ে তাদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে। মন্দিরে ফ্রাঙ্কিন্সেন্স, মাইর, দারুচিনি, চন্দন জ্বালানো ছিল দৈনন্দিন রীতি। এমনকি মৃতদেহ সংরক্ষণেও তারা সুগন্ধি তেল ব্যবহার করত। কারণ তারা ঘ্রাণকে আত্মায় বিশুদ্ধ প্রতীক মনে করতেন। 

ভারতীয় সভ্যতায়

বৈদিক যুগ থেকেই (খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০-৫০০) ধূপ, অগরু, আতর এবং চন্দন ভারতীয় সংস্কৃতিতে ধর্মীয়, সামাজিক ও চিকিৎসাগত উপাদান হিসেবে জায়গা করে নেয়। পূজা ও ধ্যানের সময় ধূপের ধোঁয়া শুধু বাতাসকেই সৌরভময় করত না, মনকেও প্রশান্ত করত। অগরু বা আগর কাঠ পুড়িয়ে তৈরি ধোঁয়া ছিল অশুভশক্তি দূর করার প্রতীক।

প্রাচীন ভারতীয় চিকিৎসাশাস্ত্র আয়ুর্বেদে সুগন্ধি তেল ও ভেষজের ব্যবহার ছিল মানসিক ভারসাম্য রক্ষার অন্যতম উপায়। মস্তিষ্ককে শান্ত করা, ঘুম বাড়ানো কিংবা রোগ নিরাময়ে চন্দন, কস্তুরি ও তুলসীর ঘ্রাণ ব্যবহার হতো।

রাজপ্রাসাদ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের ঘরেও গৃহশুদ্ধির অংশ হিসেবে ধূপ বা আতর জ্বালানো ছিল নিয়মিত অভ্যাস। এমনকি অতিথি আপ্যায়নেও ‘সুগন্ধি ধোঁয়া’ ছিল আতিথেয়তার প্রতীক।

গ্রিস ও রোম সভ্যতায়

গ্রিক ও রোমানদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার প্রতিটি স্তরে সুঘ্রাণের ব্যবহার ছিল লক্ষণীয়। তারা ঘরে সুগন্ধি তেল বাতি ব্যবহার করতেন এবং স্নানঘরে সুগন্ধি ফুল ও তেল মেশানো পানি রাখতেন। রোমান নারীরা ঘরের দেয়ালে সুগন্ধি মাখিয়ে রাখতেন; যাতে বাতাসে হালকা সুবাস ছড়িয়ে পড়ে। তাদের কাছে সুঘ্রাণ ছিল স্বাস্থ্য, সৌন্দর্য এবং সামাজিক প্রতিপত্তির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। 

ইউরোপীয় সভ্যতায়

ষোড়শ শতকে ফ্রান্সে পটপৌরি কৌশলে ঘরে সুগন্ধ ছড়ানো হতো। বিশেষ করে অভিজাত পরিবারগুলোতে এই পদ্ধতি ছিল আবশ্যিক। বসন্তকালে যেসব সুগন্ধি ফুল ফুটত, সেগুলোর পাপড়ি শুকিয়ে জমিয়ে রাখা হতো। তার সঙ্গে শুকনো হার্বস ও অ্যাসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে তৈরি করা হতো এক সুগন্ধি। ঘরে একটি পাত্রে এই মিশ্রণটি রেখে দিলে ঘরজুড়ে ছড়িয়ে পড়ত ফুলের সুগন্ধ। 

চীন ও জাপান 

প্রাচীন চীনে সুঘ্রাণ চর্চা ছিল আধ্যাত্মিক এক শিল্প। শিয়াং দাও ছিল মনোসংযোগ ও আত্মার বিশুদ্ধতার প্রতীক। অন্যদিকে জাপানে কোহদো নামে ধূপ ব্যবহার ছিল ধ্যান ও অনুভবের শিল্প; যেখানে ঘ্রাণ উপভোগ করাকেই ধৈর্য ও মননশীলতার অংশ মনে করা হতো। 

বাংলার ঐতিহ্য 

উপমহাদেশের সেই প্রাচীন ঘ্রাণ-ঐতিহ্য বহন করে চলেছে বাংলার লোকসংস্কৃতি। বাংলার ঘরে সৌরভচর্চা ছিল একসময় জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ, দৈনন্দিন কাব্য। সন্ধ্যা নামলে ধূপের ধোঁয়ায় ঘর ভরে যেত, সেই ধোঁয়া যেন কেবল দুর্গন্ধই দূর করত না, দূর করত দিনের সব ক্লান্তিও। আতরের মিষ্টি সুবাসে মেখে থাকত শরীর, আর উঠোন ভরে থাকত ফুলের স্নিগ্ধতায়।

বিয়ের অনুষ্ঠান, নবজাতকের আগমন কিংবা উৎসব জীবনের প্রতিটি শুভক্ষণে আতর চন্দনের ব্যবহার ছিল অপরিহার্য। ঘর সাজানোর এই ঘ্রাণভরা রীতি শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্যের জন্য ছিল না; এটি ছিল পরিচ্ছন্নতা ও রুচির গভীরতম প্রতীক। 

বর্ষার সোদা মাটির গন্ধ, নতুন চাল রান্নার সুবাস কিংবা ফুলে ভরা উঠোনের ঘ্রাণ সব মিলিয়ে বাংলার ঘরের নিজস্ব সুবাস ছিল এক আবেগময় পরিচয়। এই ঘ্রাণ-ঐতিহ্যই আমাদের স্মৃতি, সংস্কৃতি ও হৃদয়ের গভীরে আজও বেঁচে আছে, যা আমাদের শেখায় ঘর শুধু ইট-কাঠের কাঠামো নয়, এটি সুবাসিত শান্তির এক ঠিকানা।

সৌরভ কেন জরুরি 

মানবদেহে ঘ্রাণেন্দ্রিয় ও মস্তিষ্কের সংযোগের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। আমাদের নাকে থাকা ঘ্রাণগ্রাহী কোষ বা অলফ্যাক্টরি রিসেপটর ঘ্রাণ শনাক্ত করে এবং সরাসরি মস্তিষ্কের লিম্বিক সিস্টেম এ সংকেত পাঠায়, এই অংশেই আবেগ, স্মৃতি ও অনুভূতি তৈরি হয়। অন্য ইন্দ্রিয়গুলোর মতো ঘ্রাণ মস্তিষ্কে পৌঁছাতে বেশি ধাপ পার হয় না। তাই এটি আবেগে দ্রুত প্রভাব ফেলে।

নির্দিষ্ট কিছু ঘ্রাণ মস্তিষ্কে সেরোটোনিন ও ডোপামিনের মতো ‘ফিল গুড’ হরমোন বাড়ায়, যা মন ভালো রাখে ও মানসিক চাপ কমায়। যেমনÑ ল্যাভেন্ডার : ঘুম ও রিল্যাক্সেশনে সহায়ক, লেমন বা পেপারমিন্ট : সতেজতা ও একাগ্রতা বাড়ায়, রোজ : হৃৎস্পন্দন ও রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখে। 

বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত যে, সুন্দর ঘ্রাণ ঘুমের গুণমান বাড়ায় ও মনোযোগ বৃদ্ধি করে। এজন্যই অনেক দেশে পড়ার ঘর, হাসপাতাল বা স্পা সেন্টারে নির্দিষ্ট সুগন্ধি ব্যবহার করা হয়।

রোগ প্রতিরোধ ও ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণে কিছু অ্যাসেনশিয়াল অয়েলের (যেমন ইউক্যালিপটাস, টি ট্রি, লেমনগ্রাস) অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিভাইরাল বৈশিষ্ট্য রয়েছে। ফলে এগুলো শুধু ঘ্রাণ নয়, ঘরের বাতাসও বিশুদ্ধ রাখে। এ ছাড়া ঘ্রাণ আমাদের স্মৃতির সঙ্গে সবচেয়ে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। কোনো গন্ধ মুহূর্তেই শৈশব, কোনো বিশেষ মানুষ বা সময়ের স্মৃতি ফিরিয়ে আনতে পারে। এই ঘটনাকে বলে ‘প্রাউস ইফেক্ট’। একে বিজ্ঞানীরা ‘ইমোশনাল মেমোরি ট্রিগার’ও বলেন। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, সুগন্ধি পরিবেশে থাকা মানুষ বেশি পজিটিভ মুডে থাকে। হালকা ফুলের ঘ্রাণ দুশ্চিন্তা কমায়। মিষ্টি বা সতেজ ঘ্রাণ মোটিভেশন ও সৃজনশীলতা বাড়ায়।

ঘরে ব্যবহৃত সুগন্ধির প্রকারভেদ

ঘরকে শুধু পরিষ্কার নয়, সুঘ্রাণময় রাখাও এক ধরনের যত্ন, নিজের ও পরিবারের প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ। প্রাকৃতিক উপাদান থেকে আধুনিক ডিফিউজার সব মিলিয়ে ঘরকে সুগন্ধিত রাখার অসংখ্য উপায় আমাদের হাতের নাগালেই রয়েছে এখন। নিচে এমন কিছু ঘরকে সুঘ্রাণময় রাখার উপায় আলোচনা করা হলোÑ

প্রাকৃতিক উপায়

প্রাকৃতিক উপাদানই ঘরের সবচেয়ে মৃদু, নিরাপদ ও দীর্ঘস্থায়ী সুঘ্রাণের উৎস। এর মধ্যে রয়েছেÑ 

তাজা ফুল : রজনিগন্ধা, জুঁই, গোলাপ বা টিউলিপের ফুল ঘরে রাখলে দিনভর প্রাকৃতিক ঘ্রাণ ছড়ায়।

লেমন বা কমলার খোসা শুকিয়ে ছোট থলেতে রেখে আলমারি বা বাথরুমে ঝুলিয়ে রাখা যায়।

হার্বস ও পাতা : তুলসী, পুদিনা, ল্যাভেন্ডার বা রোজমেরি গাছ ঘরের বাতাস সতেজ করে ও দুর্গন্ধ দূর করে।

সিমার পট : এক পাত্র গরম পানিতে দারুচিনি, লবঙ্গ, আদা ও লেবুর খোসা ফুটিয়ে কিছুক্ষণ ঘরে রাখলে হালকা সুবাস ছড়িয়ে পড়ে।

সুগন্ধি মোমবাতি 

সুগন্ধি মোমবাতি ঘরকে শুধু আলোকিতই করে না, ঘ্রাণেও ভরিয়ে তোলে। লেমন, মিন্ট, রোজমেরি বা ল্যাভেন্ডার ফ্লেভার ঘরকে দেয় সতেজতা ও প্রশান্তি। রান্নাঘর বা পড়ার ঘরের জন্য লেবু ও হার্বসের মিশ্র ঘ্রাণ সবচেয়ে উপযুক্ত। কারণ এটি দুর্গন্ধ নাশ করে। ছোট রুমের জন্য একটিমাত্র মোমবাতি যথেষ্ট; বেশি জ্বালালে গন্ধ ভারী হয়ে যায়।

নানা ধরনের সেন্টেড ক্যান্ডেল নিয়ে কাজ করছেন হোসনে আরা বিন্নি। তার উদ্যোগের নাম ডিআইওয়াইর স্টুডিও (DIYer Studio)। সৌরভের প্রতি যে দেশের মানুষের আগ্রহ আগের চেয়ে বেড়েছে সেটা বিন্নিও মানেন। হ্যান্ডক্রাফটেড ক্যান্ডেল, অ্যারোমা ব্লেন্ড, রুম স্প্রে নিয়ে কাজ করছে এই ব্র্যান্ডটি। ডিআইওয়াইর স্টুডিও সবাইকে বোঝাতে চায় যে, সৌরভময় ঘর শুধু একটি ট্রেন্ড নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনে প্রশান্তি, আরাম ও সৃজনশীলতার বহিঃপ্রকাশ।

এই ব্র্যান্ডে বর্তমানে ছয় ধরনের ফ্রেগ্রেন্সের ক্যান্ডেল রয়েছে। ব্যক্তিত্ব অনুযায়ী প্রতিটির সুঘ্রাণ আলাদা। তা ছাড়া ঋতুভেদেও ক্যান্ডেল তৈরি হয়। ঘরময় সুঘ্রাণ কয়েক ঘণ্টাও থাকে যদি ঘরে অনেক বাতাস প্রবাহিত না হয়। বিন্নি বলেন, ‘সেন্টেড ক্যান্ডেল মানে শুধু ফ্রেগ্রেন্স নয়, বরং এটা একটা টোন তৈরি করে। দিনভর পরিশ্রমের পর সৌরভযুক্ত ঘরে ঢুকলে বেশ প্রশান্তি অনুভূত হয়। তখন ঘরকে আরও বেশি আপন লাগে।’

রুম স্প্রে/মিস্ট

দ্রুত ঘর সতেজ করতে এটি সবচেয়ে কার্যকর। বাজারে ভ্যানিলা, ল্যাভেন্ডার, রোজ, স্যান্ডাল, সাইট্রাস ইত্যাদি নানা ঘ্রাণের রুম স্প্রে পাওয়া যায়। স্প্রে বোতলে পানি, কয়েক ফোঁটা অ্যাসেনসিয়াল অয়েল ও সামান্য বেকিং সোডা মিশিয়ে চাইলে ঘরেই তৈরি করতে পারেন পছন্দের সুগন্ধি। বিছানার চাদর, পর্দা, সোফা বা কার্পেটে হালকা করে স্প্রে করলে ঘ্রাণ দীর্ঘস্থায়ী হয়।

ধূপ ও ধূপকাঠি

বাংলার ঐতিহ্যের অংশ এই ধূপ ব্যবহার। সন্ধ্যায় বা ফজরের পর একটুখানি ধূপ জ্বালালে ঘরে প্রশান্তি আসে। চন্দন, আগর, জুঁই, ল্যাভেন্ডার সৌরভের ধূপ বেশ জনপ্রিয়। ধূপ জ্বালানোর সময় বাতাস চলাচল রাখলে ধোঁয়া ঘরে ছড়িয়ে পড়ে।

অনলাইন ও অফলাইনে নানা শপেই এখন আগরবাতি ও ধূপ পাওয়া যায়। এদের মধ্যে একটি শপ হচ্ছে বোকা বাক্স। এর কর্ণধার অর্ণব সাহার সঙ্গে কথা হলো ঘরের সৌরভ নিয়ে। অর্ণব জানান, ‘ঘরকে সৌরভময় রাখার বিষয়টি এখনও আমাদের দেশে প্রচলিত নয়, বিষয়টি ঠিক এমন নয়। সুগন্ধি মানব সভ্যতার আদি আমল থেকে বেশ প্রচলিত। বিগত কয়েক শতকে আমাদের আগরবাতি বা ধূপের প্রতি কিছুটা ধর্মীয় প্রভাব পড়েছে। তবে সুগন্ধির তো কোনো ধর্ম-জাতি-গোত্র নেই। বর্তমান সময়ে এসে তাই অনেকেই সুগন্ধির প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছেন নতুনভাবে। ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের বাইরেও এখন সুগন্ধির ব্যবহার বেড়েছে। বাড়িতে মেহমান আসলে, মেডিটেশনের জন্য বা অফিসের ডেস্কে সব জায়গায় এই সুগন্ধির সমাহার আছে। ধূপকাঠি কীভাবে সাজসজ্জার অংশ হয়ে উঠছে সে বিষয়ে অর্ণব বলেন, ‘সুগন্ধি আসলে চিন্তাধারা বা রুচির বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। ধূপ তাই হোম ডেকোরের একটা অংশ হয়ে উঠেছে বর্তমানে। সুন্দর ধূপদানি ঘরের সৌন্দর্য বর্ধনে সাহায্য করে। আর সুগন্ধির একটা বড় সুবিধা হচ্ছে শেয়ারিং। আমার বাড়িতে যে আসবে সেও এই সুগন্ধির ভাগ পাবে। এমনকি প্রতিবেশী বা বাসার সামনে দিয়ে হেঁটে যাওয়া মানুষটিও।

বোকা বাক্সে ২৫০-এরও বেশি ভেরিয়েন্টের স্টিক ধূপ, কোণ ধূপ, আগরবাতি আর কাপ ধূপ আছে। এ ছাড়া সুগন্ধি মোম, বিভিন্ন ধরনের হোল্ডারও আছে। ঘরে সৌরভ ছড়ানোর জন্য ফ্লোরাল আর পারফিউম টাইপ ধূপকাঠির চাহিদা সবচেয়ে বেশি বলে জানালেন অর্ণব। কারণ এই ধরনের ধূপগুলো ট্রেডিশনাল ধূপের ঘ্রাণ থেকে আলাদা হয়। ধূপ বা আগরবাতি সম্পর্কে অনেকের মনে একটা খারাপ ধারণা তৈরি হয়ে আছে। মানুষ মারা গেলে আগরবাতি জ্বালায় অনেকে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সেই আগরবাতিগুলো কম মানের এবং কয়লার তৈরি হয়ে থাকে। এই ধরনের গ্রাহককে অন্তত এক প্যাকেট আগরবাতি নিয়ে ট্রাই করতে বলে বোকা বাক্স।

বর্তমান সময়ে বাসায় অনেকে পোষা প্রাণী পালন করেন। তাদের জন্যও ধূপ বেশ প্রয়োজনীয় একটা জিনিস। পোষা প্রাণী থাকায় বাসার দুর্গন্ধ দূর করতে সাহায্য করে।

কাঠ বা বাঁশের ফাইবার ডিফিউজার

এই ডিফিউজারগুলোতে বিদ্যুৎ লাগে না এবং খুবই প্রাকৃতিকভাবে ঘ্রাণ ছড়ায়। কাঠ বা বাঁশের ফাইবার তেলে ভিজিয়ে রাখা হয়; এটি ধীরে ধীরে ঘ্রাণ ছড়ায়। এগুলো দীর্ঘস্থায়ী ও পরিবেশবান্ধব। টেবিল, বইয়ের তাক বা শোবার ঘরের কোণে রাখলে নান্দনিকভাবেও সুন্দর লাগে।

অ্যাসেনসিয়াল অয়েল

অ্যাসেনসিয়াল অয়েল হচ্ছে ঘন প্রাকৃতিক তেল, যা উদ্ভিদ বা ফুল থেকে সংগ্রহ করা হয়। জনপ্রিয় অয়েলের মধ্যে রয়েছে ল্যাভেন্ডার, রোজ, ইউক্যালিপটাস, লেমনগ্রাস, স্যান্ডালউড। এগুলো ডিফিউজারে ব্যবহার করা যেতে পারে বা রুম স্প্রেতে কয়েক ফোঁটা মিশিয়ে বালিশ বা পর্দার কোণে হালকা লাগালে মৃদু সুবাস থাকে দীর্ঘক্ষণ।

ডিফিউজার

ঘরে ধারাবাহিক ঘ্রাণ ছড়ানোর আধুনিক উপায় হচ্ছে ডিফিউজার। 

ইলেকট্রিক ডিফিউজার : ইলেকট্রিক ডিফিউজার এ অ্যাসেনশিডিফিউজারাল অয়েল ও পানি মিশিয়ে ব্যবহার করা হয়। এটি ঘরে ঠান্ডা বাষ্প আকারে ঘ্রাণ ছড়ায়।

রিড ডিফিউজার : রিড ডিফিউজারে কাঠের রিড বা স্টিক অয়েলে ভিজে থাকে এবং ধীরে ধীরে বাতাসে ঘ্রাণ ছড়ায়। এগুলো বাথরুম, লিভিং রুম বা অফিস কর্নারের জন্য উপযুক্ত।

কাপড় ও পর্দার ঘ্রাণ

ঘরে স্থায়ী সুঘ্রাণ রাখতে কাপড়ের ঘ্রাণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চাদর, পর্দা ও কুশন কভার সপ্তাহে একবার ধুয়ে ফেলুন। ধোয়ার সময় রিন বা ফ্যাব্রিক কন্ডিশনারে পছন্দের সুগন্ধ ব্যবহার করুন। আলমারিতে ল্যাভেন্ডার ব্যাগ বা পটপৌরি রাখলে কাপড়ে দীর্ঘদিন ঘ্রাণ থাকে।

ঘরের বাতাস পরিষ্কার রাখা

যত সুন্দরই সুগন্ধ ব্যবহার করুন, বাতাস পরিষ্কার না থাকলে সৌরভ টেকে না। প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় অন্তত ৩০ মিনিট জানালা খুলে দিন। আবর্জনা বা পুরনো খাবার জমতে দেবেন না। ঘরে চারকোল ব্যাগ বা বেকিং সোডা রাখলে দুর্গন্ধ শোষণ হয়। চাইলে ঘরে ব্যবহার করতে পারেন এয়ার পিউরিফায়ার।

ঘরের ঘ্রাণ আসলে এক ধরনের ‘মুড থেরাপি’ যা মনকে শান্ত করে, মানসিক ভারসাম্য আনে। তাই ঘরকে সুন্দর রাখার পাশাপাশি সুগন্ধিত রাখাও এক ধরনের সেলফ-কেয়ার। এজন্য প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাস যেমনÑ বাতাস চলাচল রাখা, মাঝে মাঝে সুগন্ধি মোম, ধূপকাঠি জ্বালানো এসবই একসঙ্গে তৈরি করে ঘরের সুখী পরিবেশ।


ছবি কৃতজ্ঞতা : বোকা বাক্স, ডিআইওয়াইর স্টুডিও

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা