× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

টাঙ্গাইলের তাঁতশিল্প

দেশভাগ ও মুক্তিযুদ্ধের পর যেভাবে টিকে আছে

অরণ্য ইমতিয়াজ

প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর ২০২৫ ১৮:২৮ পিএম

দেশভাগ ও মুক্তিযুদ্ধের পর যেভাবে টিকে আছে

শাড়িতেই যেন নারীর সৌন্দর্য। বাঙালি নারীর সৌন্দর্যকে শাড়ি যত নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলে অন্য কোনো পোশাকে সেটা প্রকাশ পায় না। আধুনিকতার ছোঁয়াতেও শাড়ির প্রতি বাঙালি নারীদের রয়েছে প্রচণ্ড দুর্বলতা। কোনো উৎসবে তাই নারীর প্রথম পছন্দ শাড়ি। আর শাড়ির প্রসঙ্গ উঠতেই চলে আসে টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ির নাম। টাঙ্গাইলের গর্ব এই শাড়িই টাঙ্গাইলকে এনে দিয়েছে বিশ্ব পরিচিতি। টাঙ্গাইলের এমন কিছু এলাকা আছে, যার পথ দিয়ে চলতেই শোনা যায় ছন্দময় শব্দÑ ‘খট ঘটর খট, খট ঘটর খট’। সারা বছর এ শব্দ শোনা গেলেও বাংলা নববর্ষ, ঈদ-পূজাপার্বণের কিছুদিন আগে থেকে এ শব্দ প্রায় অহর্নিশি শোনা যেতে থাকে। এ শব্দ তাঁতে শাড়ি বুননের। বঙ্গললনার প্রিয় ভূষণ টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি।

টাঙ্গাইলের তাঁতশিল্প বাংলাদেশের অন্যতম পুরনো কুটিরশিল্প। টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। এই ঐতিহ্যবাহী শাড়ি টাঙ্গাইল জেলায় তৈরি হয় এবং এই জেলার নামেই এর নামকরণ করা হয়েছে।


সাজের ক্ষেত্রে বাঙালি নারীরা একটু বেশিই সচেতন। তাদের সাজের বড় অনুষঙ্গ হচ্ছে শাড়ি। আর এই শাড়ি হতে হবে টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী তাঁতের সুতিশাড়িÑ এ যেন সব নারীরই চাওয়া। বাঙালির জীবন-ঐতিহ্যের সঙ্গে বাংলা নববর্ষের সংযোগ অতি নিবিড়। পহেলা বৈশাখ প্রতিবছরই প্রতিটি বাঙালির মনে নতুন আমেজ নিয়ে আসে। এই আমেজের সঙ্গে সাজ-পোশাকের ভূমিকা কম নয়। এখানেও গুরুত্ব পেয়ে থাকে টাঙ্গাইল শাড়ি। এ ছাড়া ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কেনাকাটার তালিকায় এই শাড়ি থাকে প্রথম দিকেই। তবে এক্ষেত্রে বিগত শতাব্দীর আশির দশক থেকে বড় একটি অংশ দখল করে আছে জামদানি শাড়ি। 

তাঁতশিল্পের উৎপত্তি ও প্রসার 

টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ির ঐতিহ্য প্রায় আড়াইশ বছরের পুরনো। টাঙ্গাইল শাড়ি শুধু টাঙ্গাইলেরই গর্বের বস্তু নয়। এ নিয়ে বাংলাদেশ গর্ব করে। আর এর সুনাম ও চাহিদা শুধু দেশে নয়, প্রতিবেশী দেশ ভারত, পাকিস্তান ছাড়িয়ে ইউরোপ-আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশসহ জাপানেও বিস্তৃত। একটি তথ্যে জানা যায়, এই উপমহাদেশে ব্রিটিশ শাসনের গোড়াপত্তনের সময় ভারতের মুর্শিদাবাদ থেকে মসলিন শাড়ির কয়েকজন শিল্পী এসে টাঙ্গাইলে বসতি স্থাপন করেন। তাদের মাধ্যমেই সমৃদ্ধ কুটিরশিল্প হিসেবে তাঁতশিল্পের অগ্রযাত্রা শুরু হয়। 

আরেক তথ্যে জানা যায়, ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে টাঙ্গাইল তাঁতশিল্পের ব্যাপ্তি প্রসারিত হয়। তাঁতিরা মূলত ঐতিহ্যবাহী মসলিন তাঁতশিল্পীদের বংশধর। তাদের আদি নিবাস ছিল ঢাকা জেলার ধামরাই ও চৌহাট্টায়। তারা দেলদুয়ার, সন্তোষ এলাকার জমিদারদের আমন্ত্রণে টাঙ্গাইল আসেন এবং পরবর্তীতে সেখানে বসবাস শুরু করেন। শুরুতে তারা নকশাবিহীন কাপড় তৈরি করতেন। ১৯০৬ সালে মহাত্মা গান্ধী স্বদেশী আন্দোলনের ডাক দেন। এই আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল ইংল্যান্ডের ল্যাঞ্চাশায়ারের তৈরি কাপড় বর্জন করা। এই সময় তৎকালীন পূর্ব বাংলার (বর্তমান বাংলাদেশ) তাঁতশিল্পের প্রসার লাভ করে। ১৯২৩-২৪ সালে তাঁতের কাপড়ে নকশা প্রবর্তন করা হয়। ১৯৩১-৩২ সালে শাড়ি তৈরির জন্য তাঁত প্রবর্তন করা হয়।

বসাক তাঁতিরাই নিজেদের আদি তাঁতি বলে দাবি করেন। যুগের পর যুগ ধরে বসাকরা শাড়ি বুনছেন। আজ টাঙ্গাইলের শাড়ির যে সুনাম টাঙ্গাইল ছাড়িয়ে দেশ এবং বিশ্বজোড়া সেই সুনাম-খ্যাতি একদিনে আসেনি। বসাকদের ত্যাগ, নিষ্ঠা ও নিরন্তর পরিশ্রম-পরিচর্যার ফলেই একদিনের সাধারণ মানের তাঁতের শাড়ি ‘টাঙ্গাইল শাড়ি’ হিসেবে খ্যাতি লাভ করে। একসময় টাঙ্গাইলে অধিকাংশ এলাকাতেই বসাক শ্রেণির বসবাস ছিল। তারা ‘বসাক সমিতি’র মাধ্যমে অনভিজ্ঞ তাঁতিদের প্রশিক্ষণ ও শাড়ির মান নিয়ন্ত্রণ করতেন অত্যন্ত কঠোরভাবে। ১৯৪৭ সালে দেশভাগ ও ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের পর অনেক বসাক ভারতে চলে যান। এ সময় বসাক ছাড়াও অন্য সম্প্রদায়ের লোকেরাও তাঁতশিল্পে আত্মনিয়োগ করেন।

টাঙ্গাইলের তাঁত শাড়ির বড় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে- এগুলো অতি মিহি সুতোয় নিপুণভাবে বোনা। তাঁতে এই শাড়ি বোনার সময়ই মাড় দেওয়ার কৌশলটিও লক্ষণীয় এবং বোনার পর তা বাজারজাত করার জন্য ইস্ত্রির প্রয়োজন পড়ে না। 

এই শাড়ি বোনার সময়ই নিপুণ শিল্পীরা এতে নানা রকম ফুল বা নকশা কাটেন। আর এই নকশা কাটা শাড়ির নামই জামদানি। 

‘জামদানি’ আরবি শব্দÑ যার অর্থ ফুল-কাটা বা নকশা-তোলা। আর এ কারণেই নকশা তোলা শাড়ির নাম হয়েছে ‘জামদানি’। জামদানি শাড়ির আদি এলাকা মূলত নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ। কিন্তু টাঙ্গাইলের মিহি তাঁতের শাড়িতে ফুল তোলার মধ্য দিয়ে টাঙ্গাইলের জামদানি শাড়ির যাত্রা শুরু হয় এবং এই শাড়ির ঐতিহ্য এখন টাঙ্গাইল দখল করে নিয়েছে। টাঙ্গাইলের জামদানি শাড়ির রঙেরও রয়েছে নানা বাহার। শুধু জামদানি নয়, টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি মানেই চিরায়ত বাঙালি নারীর প্রথম পছন্দ। জামদানি শুধু সুতিই হয় না- এখন সিল্ক ও সিনথেটিক সুতাতেও এ শাড়ি বোনা হয়ে থাকে। এর নামও যেমন হরেক রকম, দামেরও তেমন রকমফের অনেক। 

তাঁতসমৃদ্ধ এলাকা

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাজিতপুর, করটিয়া, সন্তোষ, বিন্যাফৈর, বেলতা, বড় বেলতা, সুরুজ, ঘারিন্দা, দেলদুয়ার উপজেলার চণ্ডি, পাথরাইল, মঙ্গলহোড়, নলসোঁধা, নলুয়া, দেউজান ও বকুলতলা, কালিহাতী উপজেলার বল্লা, রামপুর, ছাতিহাটি গ্রামে তাঁতের শাড়ি তৈরি হয়। এর মধ্যে সদর উপজেলার বাজিতপুর, দেলদুয়ার উপজেলার পাথরাইল, চণ্ডি ও কালিহাতী উপজেলার বল্লা টাঙ্গাইলের তাঁতপল্লী এলাকা হিসেবে খ্যাত। এ গ্রামগুলোর পথ দিয়ে হাঁটলে যেকোনো মানুষ বুঝতে পারেন এগুলো তাঁতপ্রধান এলাকা। মাকুর খটখট শব্দই জানিয়ে দেয় তাঁতিদের ব্যতিব্যস্ত হাতগুলো নিরন্তর মাকু চালিয়ে শাড়ি বুনছে।

টাঙ্গাইল শাড়ির প্রকারভেদ

আগেই বলা হয়েছে টাঙ্গাইল শাড়ি বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে। এর মধ্যে সুতি শাড়ি, আধা-রেশমি শাড়ি (হাফ সিল্ক শাড়ি), সফট সিল্ক শাড়ি, সুতি জামদানি শাড়ি, কয়েক প্রকারের বালুচুরি শাড়ি অন্যতম।

তাঁত শাড়ির মূল্য

দেলদুয়ার উপজেলার পাথরাইল গিয়ে কথা হয় বিশিষ্ট শাড়ি প্রস্তুতকারী ও ব্যবসায়ী রঘুনাথ বসাকের সঙ্গে। তিনি জানান, সিল্ক জামদানির মূল্য মাত্র ৭০০ থেকে সাধারণত সর্বোচ্চ ২৬ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে ৭০-৮০ হাজার টাকা মূল্যের সিল্ক ও সুতি জামদানিও টাঙ্গাইলে প্রস্তুত হয়। এ ছাড়াও রয়েছেÑ তসর (রেশম সুতা) জামদানি ৫০০ টাকা থেকে সাড়ে চার হাজার টাকা, হাফসিল্ক জামদানি ৭০০ থেকে তিন হাজার টাকা, ফুলসিল্ক জামদানি, সফ্টসিল্ক জামদানি ও ফোরপ্লাই জামদানি চার হাজার থেকে ২৮ হাজার টাকা। আরও রয়েছে ডেনু জামদানিÑ যার মূল্য ৭০০ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা। রঘুনাথ বসাক জানান, ডেঙ্গু নামে সিনথেটিক সুতায় তৈরি শাড়িকে মূলত ডেনু জামদানি নামে অভিহিত করা হয়। ভীতিকর ডেঙ্গু জ্বরের নামের সঙ্গে এর নাম মিলে যাওয়াতেই এ-ব্যবস্থা। 

তাঁতের ধরন এবং বুননের সময়কাল

টাঙ্গাইল জেলায় কয়েক ধরনের তাঁত রয়েছে। পিটলুম তাঁত, চিত্তরঞ্জন তাঁত ও পাওয়ারলুম তাঁত। মূলত হস্তচালিত তাঁতে বোনা টাঙ্গাইল শাড়িই প্রধান। একজন শ্রমিক সাধারণত হস্তচালিত তাঁতে একদিনে একটি শাড়ি বুনতে পারেন। জটিল ও বেশি মাত্রার সূক্ষ্ম কারুকাজ করা শাড়ি বুননে সময় লাগে বেশি। ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা মূল্যের মাত্র একটি শাড়ি বুনতে তিন মাস পর্যন্ত সময় লেগে যায়। ৭০-৮০ হাজার টাকা মূল্যের শাড়ি বিশেষ অর্ডারের ভিত্তিতে কদাচিৎ বোনা হয়। আর এ শাড়ির বুননে কখনও এক বছর পর্যন্ত সময় লাগে। বুননের সময়ের ভিত্তিতে শ্রমিকের মজুরি দিতে হয় বলেই শাড়ির দাম বেড়ে যায়। বিভিন্ন রঙের সুতা ব্যবহারের মাধ্যমে বুননশৈলীর মধ্যেই রয়েছে শাড়ির ঐশ্বর্য ও সৌন্দর্য। বুননের পর ফুল-তোলা বা নকশা-কাটার বাড়তি সুতা কাঁচি দিয়ে কেটে চূড়ান্তভাবে নকশা ফুটিয়ে তোলেন বাড়ির মহিলা তাঁতশিল্পীরা। বসাক সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ বিশেষভাবে তাঁতশিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

শাড়ির হাট

টাঙ্গাইল শাড়ির প্রধান হাট হয় টাঙ্গাইল শহরের বাজিতপুরে। শহরের দেড়-দুই কিলোমিটার দক্ষিণে তাঁতবহুল এ গ্রাম। ১৯৪৫ সালে এ এলাকার বসাক সম্প্রদায়ের প্রভাবশালী তাঁত ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে আদি টাঙ্গাইল এলাকার বাজিতপুর নামক স্থানে শাড়ির হাট বসানো হয়। প্রায় ২২ গ্রামের মানুষ এ হাটে সহায়তা করেন। প্রায় ৭৫ শতাংশ জায়গাজুড়ে এ হাট বসে। টাঙ্গাইল শাড়ির হাট না বসলে বাজিতপুরকে আলাদা করে চেনার উপায় ছিল না। টাঙ্গাইল শাড়িই বাজিতপুরকে অনন্য ভাস্বর করে তুলেছে। বাজিতপুরের হাটটিও আর দশটি হাটের মতো না। একেবারেই অন্যরকম হাট। সেই ভোর থেকে শুরু হয়। ফজরের আজানের পর থেকেই শুরু হয় আনাগোনা। আগে সাইকেল নিয়ে তাঁতি ও ব্যবসায়ীরা এখানে আসতেন। এখন ইজিবাইক, মাইক্রোবাস, সিএনজিচালিত অটো, মিনিট্রাক নিয়ে আসা হয়। স্থানীয় তাঁতিরা কাপড়ের গাঁট নিয়ে হাজির হন এখানে। এই হাটটিতে জেলার সব অঞ্চলের তাঁতিরাই কাপড় বিক্রি করতে আসেন। এখানকার বেশিরভাগ ক্রেতা-মহাজন। তারা পাইকারি দরে কিনে ঢাকার নিউমার্কেট, বেইলি রোড, মৌচাক মার্কেটের শাড়ির দোকানসহ দেশের বিভিন্ন মার্কেটে নিয়ে যান। যমুনা সেতু চালু হওয়ার পর উত্তরবঙ্গের শাড়ি ব্যবসায়ীদের আগমন বাড়ে বাজিতপুরে। রাজধানী ঢাকার অনেক ধনাঢ্য ব্যবসায়ীরা আসেন এ হাটে।

এদিকে স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া হাটে তাঁতের শাড়ি বিক্রি বাড়তে থাকে। একসময় করটিয়ায় এ শাড়ি বিক্রি ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। করটিয়া হাটে বর্তমানে পাঁচ হাজারের মতো দোকান রয়েছে। এর মধ্যে অন্তত অর্ধেক দোকানে শাড়ি বিক্রি করা হয়। প্রতি হাটে দশ কোটি টাকার মতো শাড়ি বিক্রি হয় বলে জানান করটিয়া হাট পরিচালনা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হেলালুল ইসলাম হেলাল। 

তবে দেশ বিভাগের আগে টাঙ্গাইল শাড়ির প্রধান বাজার ছিল কলকাতা। বাজিতপুর, নলশোঁধা, পাথরাইলের বসাকরা শাড়ির চালান নিয়ে সদর উপজেলার চারাবাড়ী ঘাট থেকে স্টিমারে জাহাজে চরে কলকাতা যেতেন। কলকাতার নারীরা লুফে নিতেন টাঙ্গাইল শাড়ি। এখনও কলকাতায় টাঙ্গাইল শাড়িরা কদর প্রচুর। 


তাঁতের সংখ্যা

একসময় টাঙ্গাইলে হস্তচালিত তাঁতসহ বিভিন্ন শ্রেণির প্রায় দেড় লাখ তাঁত ছিল। এই তাঁতশিল্পের সঙ্গে মালিক পর্যায়ের ১০ হাজারেরও বেশি এবং শ্রমিক পর্যায়ে নারী-পুরুষ মিলিয়ে পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ ছিল যুক্ত। 

১৯৯২ সালে টাঙ্গাইল জেলায় ১ লাখের অধিক তাঁত ছিল এবং দেড় লাখ তাঁতি টাঙ্গাইল সদর, কালিহাতি, নাগরপুর ও বাসাইল উপজেলায় বসবাস করত। ২০০৮ সালে ৩৭ হাজার ২২২টি তাঁত ছিল এবং সত্তর হাজার তাঁতি টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন উপজেলার বেসিক সেন্টারের অধীনে কাজ করত। ২০১৩ সালের একটি শুমারিতে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, টাঙ্গাইল জেলায় ৬০ হাজার তাঁত ছিল। এর মধ্যে ৮ হাজার ৩০৫টি পিট তাঁত, ৫১ হাজার ১৪১ টি চিত্তরঞ্জন তাঁত এবং ৮৯২টি পাওয়ার তাঁত। 

বর্তমান তাঁত এবং তাঁতির সংখ্যা

টাঙ্গাইল শাড়ি ব্যবসায়ী মালিক সমিতি পাথরাইলের সভাপতি, বিশিষ্ট শাড়ি প্রস্তুতকারী ও ব্যবসায়ী রঘুনাথ বসাক জানান, বর্তমানে টাঙ্গাইলে পিটলুম তাঁত এক হাজারের মতো, চিত্তরঞ্জন তাঁত প্রায় ২০ হাজার ও পাওয়ার তাঁত রয়েছে আট শতাধিক। এসব তাঁতের সঙ্গে গড়ে প্রায় ৬৫ হাজার মানুষ সম্পৃক্ত।

বর্তমান অবস্থা

তাঁত, রঙ ও অন্যান্য কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি ও পরিবহন সুবিধার অব্যবস্থার কারণে টাঙ্গাইল তাঁতশিল্প ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছে। এ কারণে অনেক তাঁতি এই পেশা ছেড়ে দিচ্ছে এবং অন্যত্র চলে যাচ্ছে। বিশেষ করে করোনা মহামারির সময় ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছেন অনেক তাঁতি। আধুনিক বাজার ব্যবস্থাপনার সঙ্গে তাঁতের শাড়ির সম্পৃক্ততা না থাকা এবং সরকারি সুবিধাবঞ্চিত হওয়ার কারণে টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি ঐতিহ্য অনেকটা হারাতে বসেছে বলে অভিযোগ টাঙ্গাইল শাড়ি ব্যবসায়ী মালিক সমিতি পাথরাইলের সভাপতি, বিশিষ্ট শাড়ি প্রস্তুতকারী ও ব্যবসায়ী রঘুনাথ বসাকসহ অন্যান্য তাঁতের সঙ্গে সম্পৃক্তরা।


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা