তাছলিম সিদ্দিক
প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর ২০২৫ ১৭:৪৬ পিএম
চুলের যত্ন নিয়ে আমরা সবাই কমবেশি চিন্তিত। বিশেষ করে যারা কেরাটিন ট্রিটমেন্ট করেছেন, তাদের চুলের যত্নে প্রয়োজন বাড়তি মনোযোগ। কেন ও কীভাবে এই যত্ন নেবেন চলুন জেনে নেওয়া যাক।
কেন কেরাটিন চুলের যত্ন জরুরি
কেরাটিন ট্রিটমেন্ট চুলের প্রাকৃতিক প্রোটিন কেরাটিন দিয়ে চুলকে পুষ্ট করে, ফলে চুল হয় মসৃণ, ঝলমলে। কিন্তু এই ট্রিটমেন্টের পর চুল খানিকটা স্পর্শকাতর হয়ে পড়ে। সঠিক যত্ন না নিলে কেরাটিনের প্রভাব কমে যায়, চুল রুক্ষ বা ভঙ্গুর হয়ে পড়তে পারে। তাই নিয়মিত যত্নের মাধ্যমে আপনি এই ট্রিটমেন্টের ফলাফল দীর্ঘস্থায়ী করতে পারেন। এই যত্ন শুধু চুলের সৌন্দর্যই বাড়ায় না, বরং এর স্বাস্থ্যও রক্ষা করে।
সঠিক শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার বেছে নিন
কেরাটিন করা চুলের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সঠিক শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহার। সালফেট-ফ্রি শ্যাম্পু বেছে নিন, কারণ সালফেট কেরাটিনের আবরণ নষ্ট করতে পারে। সঙ্গে কেরাটিন-ইনফিউজড কন্ডিশনার ব্যবহার করলে চুলের মসৃণতা আরও বাড়বে। শ্যাম্পু করার সময় হালকা গরম বা ঠান্ডা পানি ব্যবহার করুন। কারণ গরম পানি চুলের কিউটিকল খুলে দিতে পারে, যা কেরাটিনের প্রভাব কমিয়ে দেয়। সপ্তাহে দু-তিনবার শ্যাম্পু করাই যথেষ্ট। বেশি শ্যাম্পু করলে চুলের প্রাকৃতিক তেল নষ্ট হয়, ফলে চুল শুষ্ক হয়ে যায়।

হিট স্টাইলিং থেকে সাবধান
কেরাটিন করা চুল সাধারণত সোজা ও ম্যানেজেবল থাকে। তাই বাড়তি হিট স্টাইলিংয়ের প্রয়োজন কম পড়ে। তবু যদি হেয়ার ড্রায়ার, স্ট্রেইটনার বা কার্লিং আয়রন ব্যবহার করতে হয়, তাহলে অবশ্যই হিট প্রোটেক্ট্যান্ট স্প্রে ব্যবহার করুন। এটি চুলকে উচ্চ তাপমাত্রার ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। তাপমাত্রা ১২০-১৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখার চেষ্টা করুন। এ ছাড়া চুল ভেজা থাকা অবস্থায় হিট স্টাইলিং এড়িয়ে চলুন। কারণ এতে চুলের ক্ষতি বেশি হয়।
পুষ্টিকর হেয়ার মাস্ক ও তেল
কেরাটিন করা চুলের জন্য সপ্তাহে একবার কেরাটিন-ইনফিউজড হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করুন। এটি চুলের গভীরে পুষ্টি জোগায় ও কেরাটিনের প্রভাব ধরে রাখে। নারকেল তেল, আরগান তেল বা মরক্কান অয়েল চুলের জন্য খুব ভালো। তবে তেল ব্যবহারে পরিমিতি রাখুন, বেশি তেল চুলকে তৈলাক্ত করে ফেলতে পারে। তেল লাগানোর পর হালকা গরম পানিতে ধুয়ে ফেলুন এবং শ্যাম্পু করুন। এতে চুল নরম ও চকচকে থাকবে।
চুলের যত্নে ছোট ছোট অভ্যাস
কেরাটিন চুলের যত্ন শুধু শ্যাম্পু বা তেলের ওপর নির্ভর করে না, আপনার দৈনন্দিন অভ্যাসও এখানে বড় ভূমিকা রাখে। চুল শুকানোর সময় রুক্ষ তোয়ালে ব্যবহার না করে নরম মাইক্রোফাইবার তোয়ালে ব্যবহার করুন। এটি চুলের ঘর্ষণ কমায়। চুল আঁচড়ানোর সময় চওড়া দাঁতের চিরুনি ব্যবহার করুন এবং নিচ থেকে ওপরের দিকে আলত করে আঁচড়ান। এতে চুল কম ভাঙবে। আর রাতে ঘুমানোর আগে চুল হালকা করে বেঁধে রাখুন, এটি চুলের ঝরঝরে ভাব বজায় রাখবে।
খাবার ও পানি
চুলের সৌন্দর্য শুধু বাইরের যত্নেই নয়, অভ্যন্তরীণ পুষ্টির ওপরও নির্ভর করে। প্রচুর পানি পান করুন, কারণ হাইড্রেশন চুলের স্বাস্থ্যের জন্য খুব জরুরি। আপনার খাদ্যতালিকায় প্রোটিন, ভিটামিন ‘ই’, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার যোগ করুন। বাদাম, মাছ, ডিম, পালংশাক, অ্যাভোকাডো ইত্যাদি চুলের জন্য দারুণ উপকারী। এ ছাড়া ধূমপান ও অতিরিক্ত ক্যাফেইন এড়িয়ে চলুন, কারণ এগুলো চুলের ক্ষতি করতে পারে।
ক্লোরিন ও সূর্যের আলো থেকে সুরক্ষা
কেরাটিন করা চুল ক্লোরিনযুক্ত পানি, যেমন সুইমিং পুলের পানি বা অতিরিক্ত সূর্যের আলোর সংস্পর্শে এলে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সুইমিং করার আগে চুল ভিজিয়ে নিন এবং সুইমিং ক্যাপ ব্যবহার করুন। সূর্যের আলো থেকে রক্ষা পেতে হ্যাট বা স্কার্ফ ব্যবহার করুন। এ ছাড়া ইউভি প্রোটেকশনযুক্ত হেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার করতে পারেন। এটি চুলকে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে বাঁচায়।
নিয়মিত ট্রিম ও সেলুন ভিজিট
স্বাস্থ্য ধরে রাখতে প্রতি ৬-৮ সপ্তাহ পরপর চুল ট্রিম করুন। এটি চুলের বিভক্ত প্রান্ত (স্প্লিট এন্ডস) দূর করে এবং চুলকে সতেজ রাখে। এ ছাড়া প্রতি ৩-৪ মাস পর সেলুনে গিয়ে কেরাটিন ট্রিটমেন্টের ফলোআপ করতে পারেন। এটি চুলের মসৃণতা ফিরিয়ে আনে।