আসমাউল হুসনা
প্রকাশ : ০৫ অক্টোবর ২০২৫ ১২:৩৩ পিএম
ওপেন ওয়ার্ল্ড অ্যাস্ট্রোনমি অলিম্পিয়াডের চতুর্থ আসরে স্বর্ণপদকসহ চারটি পদক ও একটি সম্মানজনক স্বীকৃতি পেয়েছে বাংলাদেশ। ২৭ সেপ্টেম্বর রাশিয়ার সোচি শহরে এই অলিম্পিয়াডের পুরস্কার ঘোষণা করা হয়।

বাংলাদেশ থেকে স্বর্ণপদক পেয়েছেন যশোরের পুলিশ লাইন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. মখদুম আমিন ফাহিম। রৌপ্যপদক পেয়েছেন রাজধানীর হীড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের এ-লেভেলের শিক্ষার্থী সপ্তর্ষি রহমান এবং আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. রাদিত রাইয়ান। ব্রোঞ্জপদক পেয়েছেন রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. জুবায়ের হোসেন জিসান। আর সম্মানসূচক স্বীকৃতি পেয়েছেন খুলনার সাউথ হেরাল্ড ইংলিশ স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সায়ন্তন রায়।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০ সেপ্টেম্বর শনিবার উদ্বোধন হয় চতুর্থ ওপেন ওয়ার্ল্ড অ্যাস্ট্রোনমি অলিম্পিয়াডের। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভিডিও বার্তায় রাশিয়ার শিক্ষামন্ত্রী সের্গেই খারসভ এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানী মহলকে এক হয়ে বিজ্ঞানের কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন রাশিয়ান একাডেমি অব সায়েন্সের পরিচালক (অ্যাস্ট্রোনমি) অলেয়াগুখ মালকভ, সিরিয়াস শিক্ষাকেন্দ্রের ডেপুটি প্রধান আন্তন গুসেভসহ আরও কয়েকজন। আনিসিয়া গরোবেতস ইয়োহান জেবাস্টিয়ান বাখের সিম্ফনি পরিবেশন আয়োজনকে স্বপ্নময় করে তোলে।
সশরীর ও অনলাইনে ২০টি দেশের ৯০ জন প্রতিযোগী এতে অংশ নেন। বাংলাদেশ থেকে অংশ নেয় ছয় সদস্যের দল। গত ২১ সেপ্টেম্বর রাশিয়ার সোচির সিরিয়াস অলিম্পিক সিটিতে বসে এবারের আসর। রাশিয়ার শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সিরিয়াস এডুকেশন সেন্টারের উদ্যোগে এই অলিম্পিয়াড আয়োজিত হয়।
প্রতিযোগিতাটিকে চারটি পর্বে ভাগ করা হয়েছে। তাত্ত্বিক পর্ব ও তথ্য বিশ্লেষণ পর্ব দুটি ৫ ঘণ্টা করে দুদিনে মোট ১০ ঘণ্টা অনুষ্ঠিত হয়। আর আকাশ পর্যবেক্ষণ ও সাধারণ জ্ঞানের পর্ব দুটি ২ ঘণ্টা করে দুদিনে মোট ৪ ঘণ্টা হয়।
বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের এই সাফল্যের সংবাদে বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রো-অলিম্পিয়াড জাতীয় কমিটির পরিচালক শাহপার আলম বিজয়ীদের অভিনন্দন জানান। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএএ) আয়োজনে ৩০ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) রাজধানীর বাংলামোটরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বিজয়ীরা নিজ নিজ অভিজ্ঞতার আলোকে রাশিয়া জয়ের গল্প তুলে ধরেন। আয়োজকরা ভবিষ্যৎ সাফল্যের জন্য তাদের অনুপ্রাণিত করেন। বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মশহুরুল আমিন বলেন, এবার আমাদের দলের একজন স্বর্ণপদক পেয়েছেন। বাকি পাঁচজনই কোনো না কোনো পদক পেয়েছেন। এটা অনেক বড় অর্জন। তবে এখানেই শেষ নয়। আমরা চাই যারা পদক জয় করেছেন তারা যেন ভবিষ্যতে অ্যাস্ট্রোনমি নিয়ে উচ্চতর পড়াশোনা করে দেশের কল্যাণে অবদান রাখেন। মৌলিক গবেষণায় যদি তারা আগ্রহ দেখান তাহলে অ্যাস্টোনমিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন তাদের পাশে থাকবে।
বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রো-অলিম্পিয়াড ন্যাশনাল কমিটির পরিচালক শাহপার আলম বলেন, ‘আমাদের তরুণ শিক্ষার্থীরা বৈশ্বিক অঙ্গনে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছে। তাদের এই সাফল্য আগামী প্রজন্মকে বিজ্ঞানের প্রতি আরও অনুপ্রাণিত করবে।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন অ্যাস্ট্রো-অলিম্পিয়াডের জাতীয় কমিটির পরিচালক (একাডেমিক) ও কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর রবিন ফকির ও পদকজয়ী শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা। ২০২৫ সালে বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমি অলিম্পিয়াডের ২০তম আসর আয়োজিত হয়। ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সি স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এ আয়োজনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক টাইটেল স্পন্সর ছিল অ্যাপেক্স গ্রুপ।
বাংলাদেশ পর্বের আয়োজনটি তিনটি পর্যায়ে বিভক্ত ছিল, যেখানে বিভাগীয় শহর ও জেলা শহরগুলোতে এবং জাতীয় পর্যায়ে দিনব্যাপী আয়োজিত অ্যাস্ট্রো-অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠানে জ্যোতির্বিজ্ঞান-বিষয়ক লিখিত পরীক্ষা, টেলিস্কোপে সূর্য দেখানো এবং রকেটের মডেল তৈরির প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। বিভাগীয় শহর ও জেলা শহরগুলোতে আয়োজিত হয়েছে প্রাথমিক বাছাই বা প্রথম রাউন্ড। প্রথম রাউন্ড থেকে বাছাইকৃত ৩০০ শিক্ষার্থী নিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ড বা জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা এবং সর্বশেষ তৃতীয় রাউন্ড বা ক্লোজড ক্যাম্প। জাতীয় পর্যায় থেকে নির্বাচিত ৩০ প্রতিযোগীকে নিয়ে পর্বটি অনুষ্ঠিত হয়। ক্লোজড ক্যাম্পের শেষ দিন অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষায় নির্বাচিত হয়েছেন ছয়জন।
এর আগে রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত তৃতীয় ওপেন ওয়ার্ল্ড অ্যাস্ট্রোনমি অলিম্পিয়াড ২০২৪-এ বাংলাদেশ রৌপ্যপদক জিতেছে।