আঁকা ও লেখা : তৌকির মুহাইমিন
প্রকাশ : ০২ অক্টোবর ২০২৫ ১৩:৪৮ পিএম
অরুণা যে গ্রামে বাস করত, সেখানে ছিল মাঠ ভরা ফসল, নির্মল বাতাস, গাছ ভরা ফল, নদী ভরা মাছ, পাখির ডাকÑ সব মিলে শান্তির একটি গ্রাম। হঠাৎ করে একটি বিদেশি কোম্পানি সেখানে কারখানা গড়ে তোলে। অরুণা এতে বাধা দিলেও গ্রামের কিছু লোক টাকার লোভে পরে কারখানা তৈরির পক্ষ নেয়। ধীরে ধীরে তারা গাছ কাটে, ফসলের জমিতে কারখানা করে, নদীতে-মাটিতে কারখানার বর্জ্য ফেলে ইত্যাদি। এতে পানি ও মাটি দূষিত হয়, গাছপালা কমে যায়, বাতাস দূষিত হয়, ফসল উৎপাদন কমে যায়। সব মিলে পরিবেশ নষ্ট হয়।
গ্রামবাসী ধীরে ধীরে বুঝতে পারে যে তারা লোভে পড়ে ভুল করেছে। অরুণা তার গ্রামের এই অবস্থা দেখে খুব কষ্ট পায়। অরুণা একদিন একা বসে এসব নিয়ে চিন্তা করছিল। তখন তার কাছে মেঘপরী, মৃত্তিকাপরী, বায়ুপরী এবং বৃক্ষপরী আসে। তারা অরুণাকে বলে, এক ভয়ংকর দানব তোমাদের গ্রামকে আস্তে আস্তে গ্রাস করে চলেছে। তোমাদের গ্রামকে রক্ষা করতে চাইলে দ্রুত ওই দূরের রাঙা পাহাড়ের গুহা থেকে শ্বেতপাথর এনে তোমাদের গ্রামে রাখতে হবে। কিন্তু এটা অনেক কঠিন কাজ, প্রায় অসম্ভব।
অরুণা বলল, আমার গ্রামকে রক্ষা করার জন্য আমাকে এ যুদ্ধে জিততেই হবে। পরীদের ডানায় ভর করে অরুণা চলল রাঙা পাহাড়ের দিকে। অনেক পথ পাড়ি দিয়ে তারা চলে এলো সবুজ সাগরে। সবুজ সাগর পাড়ি দেওয়ার সময় দেখতে পায় জলদস্যুদের দল একটি জাহাজকে আক্রমণ করেছে। অরুণা তার পরী-বন্ধুদের নিয়ে জলদস্যুদের কবল থেকে জাহাজ এবং এর যাত্রীদের বাঁচায় কিন্তু জলদস্যুদের ধরতে পারে না। তারা পালিয়ে যায়। জাহাজের যাত্রীরা আসলে ছিল বিজ্ঞানী। তারাও শ্বেতপাথর সম্পর্কে গবেষণা করতে যাচ্ছিল। তাই তারা অরুণাকে সাহায্য করার জন্য অরুণার সঙ্গে রওনা হয়। তারা সবাই জাহাজ নিয়ে সবুজ সাগরের মাঝে একটা দ্বীপের কাছে এসে পৌঁছায়Ñ যেখানে রাঙা পাহাড় অবস্থিত। দ্বীপে নামতে যাওয়ার পথেই এক দৈত্য তাদের বাধা দেয়। দৈত্য বলে, আমি খুব ক্ষুধার্ত। আমাকে খাবার দাও, নতুবা আমি তোমাদের খাব। তারপর তারা দৈত্যকে নিয়ে পাশের একটা দ্বীপে যায়, যেখানে জাড়াজের বিজ্ঞানীরা আগেই অনেক খাবার জমা করে রেখেছিল নিজেদের জন্য। দৈত্য সেখান থেকে কিছু খাবার খায় এবং অরুণার শ্বেতপাথরে সংগ্রহ করতে আসার কারণ জানতে পারে। তখন দৈত্য বলে, তোমরা তোমাদের খাবার নিজেরা না খেয়ে আমাদের খেতে দিয়েছ। তোমাদের মধ্যে আমি আমার বন্ধু খুঁজে পেয়েছি। এখন থেকে আমি তোমাদের বন্ধু।
এরপর সবাই মিলে রাঙা পাহাড়ের দিকে রওনা হয়। পথের সব বাধা দৈত্য খুব সহজেই পাড়ি দিয়ে তাদের রাঙা পাহাড়ের গুহার কাছে নিয়ে আসে। কিন্তু গুহা খুব ছোট হওয়ায় দৈত্য আর পরীরা সেখানে ঢুকতে পারে না। তাই অরুণা তার বিজ্ঞানী বন্ধুদের নিয়ে গুহার ভেতরে প্রবেশ করে দেখতে পায় সেই জলদস্যুরা আগে থেকেই ওখানে চলে গেছে শ্বেতপাথর চুরি করার জন্য। তারপর অরুণার সঙ্গে তাদের যুদ্ধ শুরু হয়। দৈত্য আর পরীরা বাইরে থেকে বুঝতে পারে কোনো সমস্যা হয়েছে। তাই তারা সবাই মিলে একটা শক্তি গুহার ভেতরে পাঠায় যে শক্তি সব জলদস্যুকে মেরে ফেলে। তারপর অরুণা সেই শ্বেতপাথর নিয়ে তার গ্রামে চলে যায় আর গ্রামের সেই দানবকে বিতারিত করে। আবার অরুণা ফিরে পায় তার শান্তির গ্রাম। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায় অরুণা বলতে থাকে,
‘দাও ফিরে সে অরণ্য, লও এ নগরÑ
লহো যত লৌহ লোষ্ট্র কাষ্ঠ ও প্রস্তর।’’
পঞ্চম শ্রেণি, বরিশাল জিলা স্কুল