প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৯:১৯ পিএম
ছবিতে ট্যুরিজম অ্যালায়েন্স সোসাইটির প্রেসিডেন্ট এইচ. এম. হাকিম আলী (মধ্যভাগে)। তাঁর বাম পাশে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের (বিটিবি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নুজহাত ইয়াসমিন এবং ডান পাশে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান সায়মা শাহীন সুলতানা।
বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে ট্যুরিজম অ্যালায়েন্স সোসাইটি “পর্যটন ও টেকসই রূপান্তর বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট” শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকের সফল আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠানটি ঢাকার ডেইস হোটেলে রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত হয়। বিশিষ্ট অতিথি, নীতি-নির্ধারক এবং পর্যটন খাতের বিভিন্ন অংশীজন উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের (BTB) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নুজহাত ইয়াসমিন এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের (BPC) চেয়ারম্যান সায়মা শাহীন সুলতানা। বাংলাদেশের টেকসই পর্যটন উন্নয়নে তাঁদের অবদান ও উৎসাহের স্বীকৃতি হিসেবে আয়োজকরা তাঁদের উভয়কে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করেন। আলোচনায় বাংলাদেশের পর্যটন খাতের বিশাল সম্ভাবনা ও সমস্যা তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে টেকসই চর্চা, ইকো-ট্যুরিজম এবং সরকারি সংস্থা, বেসরকারিখাত ও স্থানীয় অংশীজনদের মধ্যে যৌথ সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়। অংশগ্রহণকারীরা আরও গুরুত্ব আরোপ করেন প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের ওপর, যা আন্তর্জাতিক পর্যটক আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল একরাম ট্যুরিজম অ্যালায়েন্স সোসাইটির উদ্দেশ্য ও ভিশন সম্পর্কে উপস্থিতদের অবহিত করেন এবং টেকসই পর্যটনের উন্নয়নে সকল অংশীজনের সঙ্গে একযোগে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। গোলটেবিল আলোচনায় ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির ট্যুরিজম বিভাগের মাহবুব পারভেজ সাধারণ মানুষকে পর্যটন বোঝানোর উপর গুরুত্বরোপ করেন। নিজেদের আত্মসমালোচনা করে পর্যটন শিল্পের একজন উদ্যোক্তা মাসুদ হোসেন বলেন, পর্যটনের জন্য আমরা কিছুই করতে পারিনি। হাওর, সুন্দরবন ও সেন্টমার্টিনের পরিবেশ রক্ষায় আরো সচেষ্ট হওয়া উচিত ছিল বলে তিনি মনে করেন। ট্যুরিজম অ্যালায়েন্স সোসাইটির একজন সদস্য ও পর্যটন উদ্যোক্তা সৈয়দ গোলাম কাদির বলেন, শুধু কথা বলে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। আমাদের স্বেচ্ছাসেবক হতে হবে। যথার্থ জায়গায় আমাদের কথাগুলো পৌঁছাতে হবে। এছাড়াও গোলটেবিল আলোচনায় পর্যটনে ডাটাবেস না থাকা, পর্যাপ্ত গবেষণার অভাব, পর্যটন পণ্য চিন্নিতকরণসহ পর্যটন মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের কথা তুলে ধরেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সায়মা শাহীন সুলতানা সবার সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন, দারুন একাডেমিক আলোচনা হয়েছে। আমি সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজগুলো করতে চাই। নিয়মিত আলোচনা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে পর্যটন এগিয়ে যাবে মনে করেন তিনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের (BTB) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নুজহাত ইয়াসমিন বলেন, আমাদের দেশে পর্যটন যে পর্যায়ে যাওয়া উচিত ছিল সে পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। সবার সহযোগিতা নিয়ে আমরা সামনে এগিয়ে যেতে চাই।
সভাটি সভাপতিত্ব করেন ট্যুরিজম অ্যালায়েন্স সোসাইটির সভাপতি এইচ. এম. হাকিম আলী এবং সঞ্চালনা করেন তৌফিক রহমান।