রওনক জাহান পুষ্প
প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৫:৩৬ পিএম
হাতভর্তি চুড়ির শখ মেয়েদের চিরায়ত। হাতভর্তি রেশমি চুড়ি বা নতুন বউয়ের সোনার বালা নিয়ে গান কবিতা জুড়ে আছে আমাদের সংস্কৃতিতে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রুচি তো বদলায়ই, তারই সঙ্গে বদলে যায় ফ্যাশন এবং ট্রেন্ড। বর্তমানে তাই কাচের চুড়ির জায়গায় নারীদের মন দখল করেছে হাতে বানানো, সেলাই-ফোঁড়াই করা আর কুন্দন-পাথর বসানো চুড়ি।
অবশ্য নতুন ধরনের এই চুড়ি এত তাড়াতাড়ি সবার মন জয় করে নেওয়ার পেছনেও রয়েছে বেশ বড় কারণ। হাতে বানানো চুড়ি কাস্টমাইজ করে নেওয়া যায় নিজের পছন্দমতো, রঙ, নকশা বা কাপড় মিলিয়ে। অনেকে তো নিজের পোশাকের বাড়তি কাপড় দিয়ে বানিয়ে নেন ম্যাচিং চুড়ি!
তবে সেলাই করে নক্সা তোলা চুড়ি ক্রেতাদের মনে একটা আলাদা স্থান করে নিয়েছে। মূলত আগের দিনের নকশি কাঁথা, পোশাকে করা হাতের কাজ ও ফুলতোলা নকশা এখন নতুন স্থান করে নিয়েছে হাতের চুড়ির মাঝে। এ ছাড়াও হ্যান্ড পেইন্ট করা, কুন্দন ও পুঁতি বসানো চুড়িও রয়েছে এই তালিকায়।

বর্তমানে ক্রেতারা শুধু কোনো পোশাক বা গয়না পরার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেন না, তারা ফ্যাশনটাকে নিজের বলে মনে করেন, সেভাবেই ধারণ করতে চান। এই কারণে যেকোনো কিছুর নকশায় পার্সোনাল টাচ বা কাস্টমাইজেশন ব্যাপারটা চলে আসে। চুড়িও এর বাইরে নেই। সাদামাটা বা প্রচলিত কিছুর বাইরে মানুষ এখন ফ্যাশনকে আর্ট হিসেবে নিয়ে থাকেন, সেই ধারাবাহিকতা থেকেই চুড়িতেও এসেছে বিভিন্ন ধরনের নকশা। প্রতিদিন ব্যবহার করা পরিচিত একটি অনুষঙ্গ এখন হয়ে উঠেছে পছন্দের স্টাইলের ক্যানভাস! পোশাকের মতোই বিভিন্ন রকমের স্টাইলে আলাদা রকমের ব্যক্তিত্ব ও রুচির পরিচয় দিচ্ছে চুড়িও। কেউ পছন্দ করেন জ্যামিতিক নকশা, কেউ ফুল বা প্রকৃতির কোনো অংশ, অথবা পছন্দের অন্য কোনো মোটিফ। প্রতিদিন ক্লাসে বা অফিসে, বিশেষ কোনো প্রোগ্রামে হাতে হাতে দেখা মিলছে এসব চুড়ির। শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, ওয়েস্টার্ন সব ধরনের পোশাক ও স্টাইলের সঙ্গে মিলিয়ে এসব চুড়ি পরে নিচ্ছেন ক্রেতারা।
হাতে বানানো চুড়ি শুধু প্রতিদিনের ফ্যাশনে নয়, যুক্ত হয়েছে অনুষ্ঠান বা জাঁকজমকপূর্ণ উৎসবের ক্ষেত্রেও। হাতে বানানো জিনিস অভিজাত নয়, এ ধারণা ভেঙে দিয়ে এখন বিয়ের অনুষ্ঠানে নতুন বউয়ের হাতে উঠছে কুন্দন, রেশমি সুতা অথবা বিভিন্ন রকমের পুঁতি পাথর ও লেস বসানো কারচুপি কাজের চুড়ি।
চার-পাঁচ বছর ধরেই চুড়িতে হ্যান্ড এমব্রয়ডারির কাজ করে চলেছেন রংধনু ক্রিয়েশনসের স্বত্বাধিকারী শাহনাজ সুলতানা। তিনি জানান, ভিন্ন ধরনের চুড়ির চাহিদা এখন বেশ বেড়েছে, কারণ এখন কাজে অনেক নতুনত্ব এসেছে। মানুষ ভিন্নতা পছন্দ করে, তাই বিভিন্ন রকমের নকশা ও ধরন থেকে বেছে নিতে পারছে পছন্দমতো চুড়ি। তিনি নিজে মূলত এমব্রয়ডারির কাজ বেশি করে থাকেন, কখনও নিজেদেরই আগে করা কোনো শাড়ি বা পোশাকের অংশ নিয়ে সেই ডিজাইনে, আবার ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী ডিজাইনেও কাজ করা হয়।
হাতে তৈরি ও সেলাই নকশা করা চুড়ি এখন অনেক অনলাইন পেজ ও দোকানেই পাওয়া যাচ্ছে, আশপাশে একটু খোঁজ করলেই পেয়ে যাবেন মনের মতো চুড়ি! একটু স্পেশালি বানানো, নিজেদের পছন্দমতো নকশা অথবা ফুলেল নকশা চাইলে ঢুঁ মারতে পারেন রংধনু ক্রিয়েশন পেজে। এখানে চুড়ির পাশাপাশি রয়েছে হাতে তৈরি এমব্রয়ডারি করা গয়না, হ্যান্ডপেইন্টেড শাড়ি ও অন্যান্য পোশাক।
সব রকমের গয়নার মতোই হাতে বানানো ও সেলাই করা চুড়িরও নিতে হয় বিশেষ যত্ন। এগুলো মেটালের নয়, তাই রঙ উঠে যাওয়ার ভয় নেই। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আঠা দিয়ে বেসের সঙ্গে আটকানো হয় এবং পাথর পুঁতি ইত্যাদি বসাতেও আঠা ব্যবহার করা হয়। তাই এই চুড়ি পানিতে না ভেজানোই ভালো। ময়লা হয়ে গেলে নরম ব্রাশ দিয়ে হাল্কা ঝেড়ে রেখে দেওয়া ভালো। যত্ন করে ব্যবহার করলে ভালো থাকবে অনেক দিন।
ছবি- রংধনু ক্রিয়েশনস