সাদিয়া মোস্তফা
প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৫:৩০ পিএম
বাইরে গেলেই রোদে পুড়ে ত্বক কালচে হয়ে যাচ্ছে, কখনও লালচে র্যাশ দেখা দিচ্ছে, আবার রান্নাঘরে সারাদিন কাজ করতে করতে দেখা দিচ্ছে মেছতার সমস্যা। আমরা অনেকেই জানি না এই সমস্যাগুলো রোদে বা তাপে থাকার কারণে হয়। দিন শেষে অযথাই দোষ দিতে থাকি নিজেদের। অথচ এই সমস্যাগুলোর সহজ সমাধান লুকিয়ে আছে সানস্ক্রিনে। অনেকেই সানস্ক্রিন ব্যবহারের সঠিক নিয়ম জানেন না, যার কারণে ত্বকের সমস্যার সমাধানও হয় না। চলুন আজ এ বিষয়ে জেনে নেওয়া যাক।
বাইরে যাওয়ার আগে
বাইরে যাওয়ার আগে সানস্ক্রিন অবশ্যই লাগাতে হবে। অন্তত ৩০ মিনিট আগে লাগাতে পারলে ভালো। কারণ সানস্ক্রিন লাগিয়েই বাইরে চলে গেলে ত্বকে গুণাগুণ শোষিত হওয়ার আগেই মুখ ঘেমে মুছে যায়। আবার অনেকের ত্বকে হোয়াইট কাস্টও দেখা যায়। তাই আগে লাগিয়ে নিলে ত্বকে ভালোভাবে বসে যায় ও হোয়াইট কাস্ট কমে আসে।
লুজ পাউডার দিয়ে সেট করে নেওয়া
যারা বাইরে গেলে অনেক ঘামেন বা যাদের ত্বক তৈলাক্ত, তারা সানস্ক্রিন ব্যবহারের পর সামান্য লুজ পাউডার দিয়ে সেট করে নিতে পারেন। সানস্ক্রিন লাগানোর আগে ভারী ময়েশ্চারাইজার লাগাবেন না। এতে মুখ বেশি ঘামবে। ময়েশ্চারাইজার ত্বকে ভালোভাবে মিশে যাওয়ার পর সানস্ক্রিন লাগিয়ে নিন।
পুনরায় ব্যবহার করা
সানস্ক্রিন ৫০+ হলে বেশি কার্যকর সেটা সবাই জানি। কিন্তু অনেকেই ভাবেন যেহেতু বেশি কার্যকর, কাজেই একবার লাগালেই হবে। এই ধারণা মোটেই ঠিক নয়। কত সময় পর সানস্ক্রিন পুনরায় লাগাতে হবে সেটা নির্ভর করে সরাসরি কতক্ষণ সূর্যের আলোর মাঝে আছেন তার ওপর। তাই এসপিএফ যাই হোক না কেন, ২-৩ ঘণ্টা পর পর পুনরায় লাগালে ত্বক ভালো থাকবে।
ত্বকের রঙ যা-ই হোক, সানস্ক্রিন লাগাতে হবে
ফর্সা হলেই শুধু সানস্ক্রিন লাগাতে হবে, শ্যাম বর্ণের হলে প্রয়োজন নেই, এ তথ্য সঠিক নয়। শ্যামলা ত্বকে মেলানিনের পরিমাণ বেশি থাকে বলে অনেকে ভাবেন সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি থেকে ত্বক সুরক্ষা পাবে। কিন্তু ত্বকে থাকা মেলানিন সম্পূর্ণভাবে ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি থেকে সুরক্ষিত রাখতে পারে না। এ জন্য অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে।
ত্বকের ধরন অনুযায়ী সানস্ক্রিন ব্যবহার করা
বাজারে দেশি বিদেশি নানা ব্র্যান্ডের সানস্ক্রিন পাওয়া যায়। একেকটির ফর্মুলা একেক রকম হয়। এগুলোর মধ্য থেকে কোনটি আপনার ত্বকের জন্য কীভাবে বুঝবেন? আগে জানুন আপনার ত্বক কেমন, শুষ্ক, তৈলাক্ত, সংবেদনশীল নাকি সাধারণ। এটা বুঝতে পারলে তারপরেই বেছে নিতে পারবেন ত্বকের ধরন অনুযায়ী সানস্ক্রিন। ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শও নিতে পারেন এক্ষেত্রে।
যেভাবে সানস্ক্রিন বাছাই করবেন
এসপিএফ (সান প্রোটেকশন ফ্যাক্টর): এসপিএফ ৩০ বা তার বেশি সানস্ক্রিন বেছে নিন। এটি ইউভিবি রশ্মি থেকে ৯৭ শতাংশ সুরক্ষা দেয়। এসপিএফ ৫০ হলে ৯৮ শতাংশ সুরক্ষা পাবেন।
ব্রড-স্পেকট্রাম : ইউভিএ ও ইউভিবি উভয় ধরনের রশ্মি থেকে সুরক্ষা দেয় এমন সানস্ক্রিন বেছে নিন।
পানিরোধক : ঘেমে গেলে বা পানির সংস্পর্শে এলে সানস্ক্রিনের কার্যকারিতা চলে যায়। তাই পানিরোধক সানস্ক্রিন বেছে নিলে ত্বক বেশি সময় ধরে সুরক্ষিত থাকে।
ত্বকের ধরন অনুযায়ী নির্বাচন
তৈলাক্ত ত্বক : অয়েল-ফ্রি বা ম্যাট ফিনিশ সানস্ক্রিন
শুষ্ক ত্বক : ময়েশ্চারাইজিং উপাদানযুক্ত সানস্ক্রিন
সংবেদনশীল ত্বক : ফিজিক্যাল সানস্ক্রিন যেমন জিংক অক্সাইড বা টাইটানিয়াম ডাই-অক্সাইডযুক্ত সানস্ক্রিন
গর্ভাবস্থায় কোন ধরনের সানস্ক্রিন নিরাপদ ও অনিরাপদ
গর্ভাবস্থায় মিনারেল-বেজড বা ফিজিক্যাল সানস্ক্রিন ব্যবহার করা সবচেয়ে ভালো। এই সানস্ক্রিনে সাধারণত জিংক অক্সাইড বা টাইটানিয়াম ডাই-অক্সাইড থাকে, যা ত্বকের ওপর একটি সুরক্ষা স্তর তৈরি করে এবং ইউভি রশ্মিকে প্রতিফলিত করে। এ সময় কেমিক্যাল সানস্ক্রিন এড়িয়ে চলা উচিত।