মাহির জামিল
প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৫:০৬ পিএম
অলংকরণ : অর্নিলা ভৌমিক
এক যে ছিল মা ব্যাঙ। তার ছিল এক ছা ব্যাঙ। ছা ব্যাঙটির নাম হিংটিং। দুজনেই থাকে ধানক্ষেতে। ক্ষেতের আলে একটা গর্ত। তাতে মা-ছেলে ঘুমায়। গরমে ছায়া পায়। ঠান্ডা পায়। খুব মজা হয়।
দিন যায়। রাত যায়। দেখতে দেখতে গরম পড়ে। মাটি হয় খড়খড়ে। শরীর হয় চড়চড়ে। ব্যাঙ মা কাঁদে গলা ছেড়ে কাঁদে, ‘ও বৃষ্টি, আয় রে!’
এক দিনের কথা। হিংটিং গর্তে। মা-ও গর্তে। কোত্থেকে না কোত্থেকে, গর্তখানা ভরে গেল হুরহুর জলে! মা ব্যাঙ অবাক। ছা ব্যাঙ অবাক! হুটপুটিয়ে দুজনেই চলল বাইরে।
বাইরে টলটলে পানি! বা রে ফুর্তি! হিংটিং ছপছপ ঠ্যাং ফেলে দিল। ঝাপ দিল। সাদা ডিমের মতো পেট ভাসাল। ঠ্যাং তুলে দিল চিৎপটাং হয়ে।
বেশ আরাম আরাম লাগল। চোখ বুজে এলো ঘুমে। অমনি এক বিচ্ছিরি শব্দ! ভট..ভট..ভট..ভট। হিংটিং তাকাল। ওমা, দেও দানোর মতো ওটা কী আসে? দেখতে কেমন কটমটে! লটঘট করতে করতে আসছে এগিয়ে। হিংটিং ঘোঁক করে ডেকে উঠল। বসল এসে মায়ের পাশে।
মা হাসল, ‘ওমা! ভয় পেলি বুঝি?
হিংটিং জড়সড় হলো, ‘পাব না আবার!’
ধুর বোকা, ওতো হালচাষ করার কল। ভালো নাম ‘পাওয়ার ট্রিলার’। ওকে কি ভয় পেতে আছে?’
তাই শুনে হিংটিং অবাক, দেখতে যা হোৎকা! যদি কাঁমড়ে দেয়?
মা হেসেই মরে, ‘ওর সঙ্গে দুষ্টুমি না করলে কামড়াবে না। তা দুষ্টুমি করলে আলাদা কথা!’
‘ও কেন এসেছে মা? আমাদের সঙ্গে বুঝি খেলবে?’
‘নাহ বাপু, ও এসেছে মাটি কাটতে। হাল চাষ করতে।’
‘তাই বলো! দেখতে দেত দৈত্যের মতো!’
‘মোটেও না। চুপটি করে বসো। আর দেখো, কেমন হাল চাষ করে ও!’ হিংটিংয়ের ভয় ভাঙাল মা।
হিংটিং বসল মায়ের কাছঘেঁষে। শুরু হলো চাষ। গিরিং...গিরিং...। কিরিং কিরিং। কলটা ছুটল ভেজা মাটির ওপর। মাটি হলো কুঁচি কুঁচি! কলটার কারিকুরি দেখে হিংটিং বেশ মজা পেল! ততক্ষণে জমির মাটিও কেটেকুটে কাদা হয়ে গেছে।
হিংটিং বলল, ‘চলো না মা! ওই কাদায় নামি। তুমি লাফাবে থপথপ! আর আমি দেব ডুবসাঁতার! টুবটুব, টুবটুব! কী মজাই না হবে!’
মা বলল, ‘বেশ তো, আরেকটু বসে থাকো। ওই কলটা উঠে গেলেই হলো। ওমনি নামব টুপ করে!’
শুনে হিংটিংয়ের মুখ কালো, ‘তা কেন! এখন গেলেই তো হয়।’
‘না, হয় না বাপু। দেখছ না, কলটা কেমন ছুটোছুটি করে বেড়াচ্ছে। ওর নিচে পড়লে কি আর আস্ত থাকবে?’
কিন্তু না! অত শত বুঝে না হিংটিং। সে যাবেই যাবে! মানবে না সে মায়ের কথা!
‘ঝুপপুস্…’ হিংটিং দিল এক লাফ। পড়ল থকথকে কাদার ওপর। লাফিয়েই দিল মস্ত ডুব। কাদার নিচে ডুবসাঁতার কাটল। আবার ডুব। তারপর আবার। ফের আবার।
ডুবতে ডুবতে হাঁফ ধরে গেল। মাথাটা তুলল টুক করে। একটু জিরিয়ে নেবে। তক্ষুনি ভয়ে কুকড়ে মুকড়ে গেল। সেই মস্ত কলটা যে একদম সামনে! হিংটিংয়ের মাথার কাছে।
কী করবে হিংটিং? কোথায় যাবে? সময় নেই মোটে। ভাবল, কাদার নিচে গিয়ে লুকাবে। অত নিচে কলটা কি ছুঁতে পাবে?
যেই ভাবা সেই কাজ। হিংটিং নিল এক লম্বা দম। টুপ করে ডুবে গেল কাদায়। আর কলটাও ধুম ধুম করে এসে, হুম হুম করে গেল চলে। কিচ্ছুটি হলো না! বাহ, ভারী মজা তো! কলটার দেখছি সত্যি সত্যি দাঁত নেই!
হিংটিং হাসল। মাকে দেখাবে, সে কেমন বাহাদুর! তাই দিল এক লাফ। কিন্তু একী! একপায়ে যে কিছুই ঠেকছে না! লুটিয়ে পড়ছে পট করে।
ঠেলেঠুলে তবু উঠে এলো হিংটিং। দেখল, তার পা মোটে তিনটি! বাকি পাটা কোথায় গেল? মা ব্যাঙটা ছিল পাড়েই। ছা ব্যাঙকে ডাঙায় তুলে বলল, ‘কলটা তবে পা কামড়ে নিয়ে গেছে!’