দিলরুবা নীলা
প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৪:৫৩ পিএম
আঁকা : প্রযত রায়, ষষ্ঠ শ্রেণি, মানিকগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়
ছোট্ট একটা গ্রাম আমতলী। ছোটো হলেও খুব সুন্দর গ্রামটি। গ্রামের মাঠে মাঠে ফসল।বাগানে বাগানে ফুল, ফল আর সবজি। গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে এক নদী। নাম সান্ধ্যনদী। এ গ্রামের মানুষগুলোও খুব ভালো। তারা বিপদে আপদে একজন আরেকজনের পাশে দাঁড়ায়। এখনে বিকেল হলেই মাঠে মাঠে শিশুদের কোলাহল শোনা যায়।
সন্ধ্যে হলেই বাড়িতে বাড়িতে শিশুরা সুর তুলে নামতা পড়ে।
এ গ্রামেরই মেয়ে মিতু। মিতু রোজ ভোরে ঘুম থেকে ওঠে।ফুল গাছে পানি দেয়। সে নিয়মিত স্কুলে যায়।বিকেল হলেই সে তার বাগানে ফুল -পাখিদের সাথে খেলা করে।
মিতু সারাদিন মনে মনে কতকিছু যে ভাবে! ফুল কীভাবে ফোটে,গাছেরা কী খায়,সুর্য কেন রাতে আকাশে দেখা যায় না।রাতে সে কোথায় লুকায়। এসব অনেক ভাবনা ভাবতে ভাবতে মিতুর দিন কাটে।
মাকে সারাদিন নানা প্রশ্ন করে মিতু।
মা মিতুকে বলে,বড়ো হও। বড়ো হলে অনেক বই পড়বে তখন সব জানতে পারবে।
মিতুরও ভীষণ বই পড়ার শখ। রঙবেরঙের বই পড়তে খুব ইচ্ছে করে মিতুর।
মিতুদের গ্রামে কোনো লাইব্রেরি নেই।
মিতু শুনেছে লাইব্রেরিতে নাকি অনেক বই থাকে। সেখানে ইচ্ছেমতো বই নিয়ে পড়া যায়।
মিতু মনে মনে ভাবে আহা এমন একটা লাইব্রেরি যদি ওদের গ্রামে থাকত,তাহলে কতোই না মজা হতো।
একদিন মিতু স্কুলে যায়। দূর থেকে দেখে গেইটের কাছে ভীড়। সে বুঝতে পারে না কেন এমন ভিড়।দ্রুত পা চালিয়ে যায়।
কাছাকাছি গিয়ে দেখে একটা গাড়ি ভর্তি বই তাকে ঘিরে সব ছাত্র -ছাত্রী। মিতু জানতে পারে এটা ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি। এখন থেকে সপ্তাহে দুইদিন এই লাইব্রেরি স্কুলের সামনে আসবে।সবাই ইচ্ছেমতো বই নিতে পারবে। পড়ে আবার ফেরত দিলেই হবে।
এটি জানার পর মিতু ভীষণ খুশি হয়। এখন থেকে সে যত ইচ্ছা বই পড়তে পারবে।জানতে পারবে অনেককিছু।
মিতু এখন শুধু অপেক্ষা করে কবে আসবে রবিবার আর বৃহস্পতিবার। আর কখন আসবে তার স্বপ্নের বইঘর।