রওনক জাহান পুষ্প
প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৪:১২ পিএম
ছবি কৃতজ্ঞতা : ক্যাটারফ্লাই
যুগে যুগে ফ্যাশন ফিরে আসে নতুনভাবে। তারই রেশ ধরে ফ্যাশনের দুনিয়ায় হুট করে আবার জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বোহেমিয়ান ফ্যাশন। রঙবেরঙের চুড়ি, কাপড়ে ও ব্যাগে বসানো কড়ি, রঙিন গহনা, টিপÑ এসবের চাহিদা এখন তুঙ্গে। তারই ধারাবাহিকতায় নারীদের মন জয় করে নিয়েছে রঙবেরঙের হেয়ার স্ট্রিং।
হেয়ার স্ট্রিং বাংলাদেশে অপেক্ষাকৃত নতুন একটি জিনিস, এটা মূলত স্টেটমেন্ট বোঝাতে ও প্রতিদিনকার লুকে বৈচিত্র্য দিতেই ব্যবহৃত হয়। রঙবেরঙের সুতা, কড়ি, মেটালের চার্ম, কাপড় ইত্যাদি জিনিস দিয়ে তৈরি হয় এগুলো। বেশিরভাগ সময়ই হেয়ার ব্র্যান্ড অথবা খোঁপার কাঁটার সঙ্গে জোড়া থাকে হেয়ার স্ট্রিং। চুলের সাজকে অনন্য রূপে নতুন এক মাত্রা দেয় এটি। ফ্যাশন অনুযায়ী নারীরা চুলের বেণির মাঝে জড়িয়ে, খোঁপায় বেঁধে, ঝুঁটি থেকে ঝুলিয়ে এমনকি ক্লিপের সঙ্গে খোলা চুলেও ব্যবহার করেন এই হেয়ার স্ট্রিং।
বর্তমানে প্রায় সব বয়সের নারীই নতুন ধরনের এই হেয়ার অ্যাকসেসরিজের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। শাড়ি, ওয়েস্টার্ন বা সালোয়ার-কামিজ, যেকোনো ধরনের পোশাকের সঙ্গেই চমৎকারভাবে মানিয়ে যায় এটি, ট্র্যাডিশনাল গহনার পাশাপাশি নতুন একটা লুক দেয়। এর সুবিধা হচ্ছে লম্বা চুল, ছোট চুল, বিভিন্ন স্টাইলে নানান লুকে ব্যবহার করা যায়। অনেকে এর সাদৃশ্য দেখেন রঙবেরঙের চুলের ফিতার স্মৃতিতেও। অল্প সময়ে চুল সাজানোর এমন এক নিনজা টেকনিক পেয়ে ক্রেতারা খুশি। চুলে রঙ করার ঝামেলা, কেমিক্যালের ক্ষতি ছাড়াই রঙবেরঙের সাজ যদি হয়ে যায় এক মিনিটেই, একে পছন্দ না করে কি উপায় আছে!

হেয়ার স্ট্রিং আসলে অনেক আগে থেকে চলে আসা ফ্যাশনেরই কিছুটা পরিবর্তিত রূপ। বিভিন্ন সংস্কৃতিতে গয়নাগাটি বা সাজের ক্ষেত্রে চুলকে সব সময়ই বিশেষভাবে প্রাধান্য দেওয়া হয়। আফ্রিকার সংস্কৃতিতে বেণি করার সময় রঙিন সুতা ও পুঁতি, মণিমুক্তা ইত্যাদি গেঁথে দেওয়ার চল রয়েছে, কিছু ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে এই চুলের সাজের মাধ্যমে তাদের পরিচয়, সামাজিক মর্যাদা ও আলাদা আলাদা উৎসবের ইঙ্গিতও দেওয়া হয়। যাযাবর ও বেদুইনরা বিভিন্ন চামড়ার ফিতা ও পাখির পালক ব্যবহার করে চুল সাজাতে। রাজতন্ত্রের ক্ষেত্রে তো ক্ষমতার সর্বোচ্চ পর্যায় মুকুটকেই ধরা হয়। আর বাঙালি সংস্কৃতিতে নারীদের চুলে ফুল পরা, গাজরা, খোঁপা বা বেণিতে রঙবেরঙের কাঁটা, টিকলি টায়রা এসবের সঙ্গে তো আমরা অনেক আগে থেকেই পরিচিত। হেয়ার স্ট্রিং আসলে এগুলোর একটি ভিন্নরূপ।
বাংলাদেশে হেয়ার স্ট্রিং-এর আগমন খুব বেশি দিন হয়নি। নিজেদের উদ্যোগে প্রথম হাতে বানিয়ে নতুন এই ফ্যাশন দেশের ক্রেতাদের মধ্যে পরিচিত করেন হাতে গোনা কয়েকজন উদ্যোক্তা। কেটার ফ্লাই তাদের মধ্যে একটি। বছরখানেক আগে ধানমন্ডির একটি মেলায় নিজেদের স্টলে প্রথম এই নতুন ধরনের অনুষঙ্গটি আনেন তারা। ক্রেতাদের মধ্যেও ভালো সাড়া পেয়েছিলেন তখন। এখনও নিয়মিত ক্রেতারা নিচ্ছেন এটি, নিজেদের ব্যবহার বা কাউকে উপহার দেওয়ার জন্য বেশ ভিন্নধর্মী একটি জিনিস এটি। ছোট-বড় যেকোনো সাইজের চুলের সঙ্গেই খোঁপা কিংবা হাফ পাঞ্চ করে আপনার পছন্দমতো স্টাইল করতে পারবেন একদম এফোর্ট ছাড়াই। কারণ হেয়ার স্ট্রিংয়ের সঙ্গে রাবার অ্যাটাচ করাই আছে। শাড়ি, কুর্তি কিংবা টপস, যেকোনো আউটফিটের সঙ্গেই সুন্দরভাবে মানিয়ে যায় ট্রেন্ডি এই হেয়ার অ্যাকসেসরিজগুলো।
এ ছাড়া বিভিন্ন জায়গায় ট্যুরে যাওয়ার ক্ষেত্রে অনেকেই সাজের অনুষঙ্গ হিসেবে প্রাধান্য দিচ্ছেন হেয়ার স্ট্রিং। ট্যুরে বেশিরভাগ মানুষই রঙিন পোশাক ও একটু বোল্ড আর বোহেমিয়ান ধরনের লুক পছন্দ করেন, যার সঙ্গে চমৎকারভাবে এই হেয়ার স্ট্রিংগুলো মানিয়ে যায়। সমুদ্রে যাওয়ার ক্ষেত্রে কড়ি ও মুক্তা পুঁতির হেয়ার স্ট্রিং, সবুজ প্রকৃতির মধ্যে স্ট্রিংয়ের সঙ্গে রঙিন ফুল, পাহাড়ে যেতে সাজের সঙ্গে মিলিয়ে পালক বা রঙিন পুঁতি, হাজারো সম্ভাবনা! হাতে বানানো হয় বলে পছন্দমতো কাস্টমাইজ করার সু্যোগও থাকে কিছু কিছু দোকানে। বিভিন্ন অনলাইন পেজেই এখন হেয়ার স্ট্রিং পাওয়া যায়, কোনো কোনো পেজে থাকে কাস্টমাইজেশনের সুযোগও। তবে সরাসরি হাতে ধরে দেখে কিনতে চাইলে চলে যেতে পারেন মিরপুর-১২-তে সুতলি স্টুডিও। সেখানে কেটার ফ্লাইয়ের নিজস্ব কর্নার রয়েছে, দেখে নিতে পারবেন তাদের অন্যান্য সুন্দর সুন্দর পণ্যও। এ ছাড়াও সেখানে একই ছাদের নিচে রয়েছে ১৩টি আলাদা আলাদা উদ্যোগ। একঘেয়ে জীবনে একটু রঙের ছোঁয়া দিতে সুন্দর একটি হেয়ার স্ট্রিংয়ের জুড়ি হয় না। প্রতিদিনের জীবনে, অফিসে, স্কুল-কলেজ বা ভার্সিটিতে এমনকি ঘুরতে গেলেও নিজেকে আরেকটু সুন্দর আর ইউনিক করে তুলতে পছন্দ করে নিতেই পারেন নতুন এই ফ্যাশন। এতে আপনাকে দেখতে সুন্দর লাগার পাশাপাশি আপনাকে করে তুলবে সবার থেকে আলাদা!
ছবি কৃতজ্ঞতা : ক্যাটারফ্লাই