রবিউল কমল
প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৫:০৯ পিএম
অলংকরণ : জয়ন্ত সরকার
এই গল্পটা আরিয়ার। বাড়ির পাকনা বুড়ি। ওকে বলার অনেক অনেক কারণ আছে। সবচেয়ে বড় কারণ, পাকা পাকা কথা বলে। একদিন নানু বেড়াতে এসেছেন। সাথে এনেছেন রসগোল্লা। নানুদের গ্রামের নামকরা রসগোল্লা। আম্মু আরিয়াকে রসগোল্লা খেতে দিলেন।
ও পাশের ঘরে গিয়ে খুব মজা করে খেলো। মজা করে কেন বলছি, চেটেপুটে খেলো। তারপর আম্মুর কাছে বাটি দিয়ে কী বলল জানো? বলল, ‘আচ্ছা আম্মু, এখন কি রসগোল্লাতে দানা থাকে?’ আম্মু মিটিমিটি হেসে বললেন, ‘থাকতেও পারে।’
আরিয়া চোখ বড়ো বড়ো করে বলল, ‘হ্যাঁ, আজ যে রসগোল্লা খেলাম, সেখানে একটা দানা ছিল।’ আম্মু খুব আগ্রহ নিয়ে জানতে চাইলেন, ‘তাই নাকি! তা তুমি দানাটা খেয়েছ তো?’
আরিয়া হাসিমুখে বলল, ‘না, দানাটা ফেলে দিয়ে, পুরো রসগোল্লা খেয়েছি।’ আরিয়ার উত্তর শুনে আম্মুর মুখ গেল কালো হয়ে। আসলে আম্মু গোপনে রসগোল্লার মধ্যে একটি ওষুধ দিয়েছিল। ভেবেছিল আরিয়া রসগোল্লার সাথে ওষুধটাও খেয়ে ফেলবে। কিন্তু তা আর হলো না।
সেদিন দুপুরে আরিয়া সোফায় বসে আছে। পাশে বসে আছে নানু। আরেকপাশে বসে টিভি দেখছেন আম্মু। তখন আব্বু ফিরলেন অফিস থেকে। আরিয়া খেয়াল করল, ওর আব্বুর কিছু চুল পেকে সাদা হয়ে গেছে। আরিয়া তখন প্রশ্ন করল, ‘আচ্ছা নানু, আব্বুর মাথার চুল সাদা হয়ে যাচ্ছে কেন?’ পাশ থেকে আম্মু বলল, ‘মেয়েরা দুষ্টু হলে তার আব্বুর মাথার চুল সাদা হয়ে যায়।’
এ কথা বলে আম্মু আবার ধরা খেলেন। আরিয়া বলল, ‘তার মানে আম্মু অনেক দুষ্টু। তাই নানুর মাথার সব চুল সাদা হয়ে গেছে।’ আরিয়ার কথা শুনে হো হো করে হেসে উঠলেন নানু ও আব্বু। কিন্তু আম্মু মুখ গোমড়া করে বসে আছেন।
আরিয়া বুঝতে পারে, আম্মু রাগ করেছেন। ও আম্মুর কাছে গেল। দুই হাত দিয়ে নিজের দুই কান ধরে তারপর বলল, ‘স্যরি, আমার ভুল হয়ে গেছে।’ মেয়ের কাণ্ড দেখে আম্মুর রাগ কমে। তিনি আরিয়াকে বুকের মধ্যে জড়িয়ে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আমার পাকনা বুড়ি, পাকা পাকা কথা শিখেছে।’
‘আমি তো কিছু বললেই রাগ করবে। তুমি কিন্তু আবার ভুল করলে’, বলল আরিয়া। আম্মু অবাক হয়ে বলেন, ‘আমি আবার কী ভুল করলাম?’ আরিয়ার উত্তর, ‘বললে যে, আমি পাকা পাকা কথা বলি। আচ্ছা কথা কি ফল যে পেকে যায়!’
‘তাই তো, কথা তো ফল না! তাহলে কেন পাকবে?’ সোফা থেকে বলেন নানু। তখন আব্বু বললেন, ‘এটা তো কথার কথা।’
আরিয়া মায়ের কোল থেকে নেমে আব্বুর কাছে যায়। তারপর বলে, ‘আব্বু, তুমিও ভুল বললে। কথার কথা কেন হবে? কথা হবে মুখের।’ আর কেউ কোনো কথা বলে না। কী জানি আরিয়া আবার কোন ভুল ধরে।
এভাবে আরিয়া প্রতিদিন বাড়িটা মাতিয়ে রাখে। সবাই ওকে খুব আদর করে। কারণ সবাই জানে, শিশুদের প্রশ্ন করতে দিতে হয়। নইলে তারা শিখবে কীভাবে?