× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বাদুড়ের ঘরবসতি

রমেশ কুমার পার্থ

প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৫:০৪ পিএম

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৫:০৫ পিএম

 বাদুড়ের ঘরবসতি

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার শেরপুর ইউনিয়নের লঙ্গার পাড় বাজারের কাছে এক জঙ্গলে থাকা একটি রেইনট্রি গাছ মানুষের চোখে বিস্ময় হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এই রেইনট্রি গাছে দুই যুগের বেশি সময় ধরে শত শত বাদুড় বসবাস করছে। লোকজনের কাছে গাছটি বাদুড়ের বাড়ি বলে পরিচিতি পাচ্ছে। 

লঙ্গারপাড় বাজারটি নান্দাইল-দেওয়ানগঞ্জ সড়কের পাশে অবস্থিত। নান্দাইল সদর থেকে তিন-চার কিলোমিটার দূরে বাজারটির অবস্থান। বাজারের পশ্চিম দিকে রয়েছে শেরপুর (উত্তর) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বাজারের পূর্ব পাশে জঙ্গলটির অবস্থান। জঙ্গলের ভেতরে রয়েছে সেই রেইনট্রি গাছ, যা সড়ক থেকে তাকালেই নজরে পড়ে। সেই গাছের প্রতিটি ডালে ঝুলে রয়েছে অসংখ্য বাদুড়। 

লঙ্গারপাড় গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সন্ধ্যার পর থেকে বাদুড়গুলো ওই গাছ ছেড়ে খাবার সংগ্রহের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ে। সারা রাত ওই প্রাণীগুলো দূর-দূরান্তে চলে যায়। ভোর হওয়ার আগেই আবার ওই গাছে ফিরে আসে। সারা দিন ডালপালায় ঝুলে থাকে। দুই যুগের বেশি সময় ধরে বাদুড়গুলোর জীবনযাপন প্রণালীর সঙ্গে স্থানীয়রা পরিচিত। এলাকার লোকজন বাদুড়গুলোকে ঘাটান না। শান্তিপূর্ণ বাসস্থান পাওয়ার কারণে ওই গাছে বাদুড়ের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। 

গাছটির মালিক মো. আবদুল মান্নান। তিনি বলেন, ২০-২৫ বছর আগে হঠাৎ করে একঝাঁক বাদুড় গাছটিতে আশ্রয় নেয়। দিনের বেলায় ডালপালায় ঝুলে থাকলেও সন্ধ্যা হতেই তাদের ওড়াউড়ি শুরু হয়। রাতে কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যায় না। তখন বোঝা যায় বাদুড়গুলো দূরে কোথাও চলে গেছে। আবার ভোরে ওই গাছে ফিরে আসে। প্রতি বছর বাদুড়ের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। গাছটি ক্রমেই বাদুড়ের অভয়ারণ্য হয়ে উঠছে। 

আবদুল মান্নান আরও জানান, কয়েক বছর আগে বাদুড়ের মাধ্যমে বার্ড ফ্লু ছড়ায় বলে খবর বের হয়। তখন গ্রামের মানুষ আতঙ্কিত ছিল। তখন কেউ কেউ ঢিল ছুড়েও বাদুড়গুলোকে তাড়ানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু কাজ হয়নি। তবে ওই বাদুড়ের দ্বারা অদ্যাবধি গ্রামে কারও কোনো ক্ষতি হয়নি। 

নান্দাইল শহরের সমুর্ত্ত জাহান মহিলা ডিগ্রি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অরবিন্দ পাল অখিল জানান, বাদুড় কোনো পাখি নয়। এটি পৃথিবীর একমাত্র উড্ডয়ন ক্ষমতা বিশিষ্ট স্তন্যপায়ী প্রাণী। 

এ ছাড়া উইকিপিডিয়া ঘেঁটে জানা যায়, পৃথিবীতে ১১০০ প্রজাতির বাদুড় রয়েছে। প্রাণিটি কিছু রোগের জীবাণু বহন করলেও পরাগায়ন সৃষ্টির অন্যতম মাধ্যম হিসেবে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বাদুড়ের ইংরেজি নাম Bat বৈজ্ঞানিক নাম pipistrellus। প্রাণিটি ভাঙাচোরা বাড়ি, পরিত্যক্ত দালান ও জঙ্গলে থাকা গাছের উঁচু ডালে ঝুলে থাকে। বাদুড় মুখ দিয়ে বাচ্চা প্রসব করে। বাচ্চাকে বুকে জাপটে ধরে ওড়াউড়ি করে।

নান্দাইলের লঙ্গারপাড় বাজার ও গ্রামের বাসিন্দারা জানান, রেইনট্রি গাছে বাদুড়ের জীবনযাপন তাদের কাছে আর দশটা সাধারণ ঘটনার মতো। তবে অপিরিচিত কেউ বাজারে এলে রেইনট্রি গাছে বাদুড়ের আধিক্য দেখে অবাক হন। তবে আমরা বাদুড়ের ক্ষতি করতে দিই না। গাছে কাউকে ঢিল ছুড়তে দিই না। বাদুড়ের বাসস্থান অর্থাৎ রেইনট্রি গাছটি নিরাপদ রাখার জন্য এলাকাবাসী সব সময় সচেষ্ট থাকেন।


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা